
রেডন (Rn)
“নীরবে খুন করা নিষ্ক্রিয় গ্যাস — মাটি থেকে উঠে শোবার ঘরে জমে, আর ফুসফুসের ক্যান্সারের কারণ হিসেবে ধূমপানের পরেই এর অবস্থান।”
ইলেকট্রনগুলো কীভাবে সাজানো
আউফবাউ নীতি থেকে গণনা করা হয়, বাস্তবের পরিচিত ব্যতিক্রমগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য হয়।
নোটগুলো
বৈশিষ্ট্য
- ইলেকট্রন বিন্যাস [Xe] 4f¹⁴ 5d¹⁰ 6s² 6p⁶ — নিখুঁত অষ্টক, পর্যায় ৬, গ্রুপ ১৮, p-ব্লক; রাসায়নিকভাবে প্রায় সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয়, তাই “[Rn]” লিখেই তার পরের সব মৌলের বিন্যাসের ভেতরের অংশ বোঝানো হয়।
- প্রকৃতির একমাত্র তেজস্ক্রিয় নিষ্ক্রিয় গ্যাস: রেডন-২২২-এর অর্ধায়ু ৩.৮ দিন; যে মাটিতেই ইউরেনিয়াম বা থোরিয়াম আছে, মানে কার্যত সব মাটি থেকেই এটি উঠতে থাকে।
- এর ভয় রসায়নে নয়, তেজস্ক্রিয়তায়: নিঃশ্বাসে ঢোকা রেডন আর এর কঠিন ক্ষয়জাত (পোলোনিয়াম-২১৮, সীসা-২১৪) ফুসফুসে জমে বসে টিস্যুতে আলফা কণা ছুড়ে মারে — তাই ধূমপানের পরেই ফুসফুস ক্যান্সারের দ্বিতীয় বড় কারণ রেডন।
- এটি স্বাদহীন, গন্ধহীন, অদৃশ্য — বিপজ্জনক মাত্রা ধরতে পারে কেবল আলফা-ট্র্যাক ডিটেক্টর বা অ্যাক্টিভেটেড-কার্বন টেস্ট কিট; মূল প্রতিকার বায়ু চলাচল আর মেঝে-দেয়ালের ফাঁক বন্ধ করা।
কক্ষ তাপমাত্রায় বর্ণহীন, গন্ধহীন, স্বাদহীন গ্যাস — বাতাসের চেয়ে প্রায় আট গুণ ভারী, অর্থাৎ প্রাকৃতিক নিষ্ক্রিয় গ্যাসদের ভারীতম। বিয়োগ ৭১° সেলসিয়াস হিমাঙ্কের দিকে ঠান্ডা করলে আটকানো রেডন নরম কমলা-লাল রঙে ফসফরেসেন্স দেখায় — দৃশ্যটি একমাত্র বিশেষজ্ঞরাই দেখার সৌভাগ্য পান।
কোথায় দেখা মেলে
✦ ব্যবহার
- পুরনো দিনের তেজস্ক্রিয় চিকিৎসা: “রেডন সিড” — সূক্ষ্ম সোনার নলে আটকানো রেডন গ্যাস — বিশ শতকের শুরুতে টিউমারের পাশে পুঁতে রাখা হতো; আজকের ব্র্যাকিথেরাপির পূর্বপুরুষ সেটিই।
- ভূমিকম্প-গবেষণা: ভূমিকম্পের আগে শিলার ভেতরের চাপ বদলে গেলে কুয়ার পানি ও মাটির গ্যাসে রেডনের অস্বাভাবিক ওঠানামা দেখা দিতে পারে — তাই রেডন পর্যবেক্ষণ বিশ্বজুড়ে অধ্যয়িত এক পূর্ব-সতর্কতা পদ্ধতি।
- ভূগর্ভস্থ পানির পথ মেলা: পানিতে দ্রবীভূত হয়ে ৩.৮ দিনের ক্ষয়-ঘড়িতে নিভে যায় বলেই হাইড্রোলজিস্টরা রেডন দিয়ে বুঝতে পারেন ঝরনা আর ভূগর্ভস্থ স্তরের পানি কোথা থেকে মিশছে — ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীল বাংলাদেশের মতো দেশে এই কারণেই নলকূপের পানি পরীক্ষা করা হয়।
- ইউরেনিয়াম অন্বেষণ: মাটির গ্যাসে রেডনের নিদর্শন ধরে লুকানো ইউরেনিয়াম-আকরিকের খোঁজ পাওয়া যায়, তাই অভিযাত্রীরা মাটিতে ডিটেক্টর পুঁতে নমুনা জমান।
◍ দৈনন্দিন উদাহরণ
- গ্রানাইট-সমৃদ্ধ এলাকার নিচতলার ঘর আর বেসমেন্টে রেডন জমে — তাই বহু দেশ সুপারিশ করে, প্রতিটি বেসমেন্ট-বেডরুমে একবার সস্তার ডিটেক্টর বসিয়ে দেখা যাক।
- গভীর নলকূপের পানিতে দ্রবীভূত রেডন থাকতে পারে — পাম্প করে আনা বা ফোটানোর সময় সে বাতাসে মিশে যায়; বাংলাদেশে ভূগর্ভস্থ পানি পরীক্ষার একটি কারণ এটিই।
- গ্রানাইটের কাউন্টারটপ কিংবা কংক্রিটের দালান — সবই রেডন-নিঃশ্বাসী মাটির ওপর বসে আছে; স্বাভাবিক মাত্রা নগণ্য, কিন্তু বায়ুচলাচলহীন ঘর তাকে আটকে ফেলে।
ইতিহাস ও নাম
১৮৯৯ সালে মন্ট্রিলে কর্মরত আর্নেস্ট রাদারফোর্ড ও রবার্ট ওয়েনস খেয়াল করলেন, থোরিয়াম নিঃশব্দে এক তেজস্ক্রিয় “নিঃসরণ” ছাড়ছে। ১৯০০ সালে জার্মানির হালে শহরে ফ্রিডরিখ আর্নস্ট ডর্ন দেখলেন, রেডিয়ামের ওপর থেকেও একই নিঃশ্বাস উঠছে — নাম দিলেন রেডিয়াম নিঃসরণ। পরে উইলিয়াম র্যামসে গ্যাসটিকে আটকে এর বর্ণালি পড়ে নিশ্চিত করলেন, এ একেবারে নতুন মৌল — অল্প কিছুদিন নাম ছিল নাইটন, অর্থ “উজ্জ্বল জ্যোতিষ্মান” — শেষে ১৯২৩ সালে সবাই রাজি হলো রেডন নামে। রসায়ন নয়, কেবল নিজের তেজস্ক্রিয়তার সূত্রে আবিষ্কৃত একমাত্র নিষ্ক্রিয় গ্যাস এটিই।
কাছাকাছি মৌল
সারণিতে এই মৌলের ঠিক পাশে বসে থাকা মৌলগুলো — প্রায়ই রসায়নে সবচেয়ে কাছের আত্মীয়।
