মেন্ডেলিভিয়াম (Md)
“দিমিত্রি মেন্ডেলিভের স্মৃতিতে নামাঙ্কিত মৌল — ১৯৫৫ সালে মাত্র সতেরোটি পরমাণু থেকে আবিষ্কৃত, একবারে একটি করে পরমাণু ধরে ধরে।”
ইলেকট্রনগুলো কীভাবে সাজানো
আউফবাউ নীতি থেকে গণনা করা হয়, বাস্তবের পরিচিত ব্যতিক্রমগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য হয়।
নোটগুলো
বৈশিষ্ট্য
- সম্পূর্ণ কৃত্রিম ও অত্যন্ত তেজস্ক্রিয় অ্যাক্টিনাইড; দীর্ঘতম আয়ুষ্কালীন আইসোটোপ Md-258-ও প্রায় ৫১ দিনেই ক্ষয়ে বিলীন হয়ে যায়।
- ইতিহাসে প্রথম মৌল যা একবারে একটি করে পরমাণু ধরে ধরে আবিষ্কৃত হয়েছে — মূল সতেরোটি পরমাণু সরাসরি দেখা যায়নি, রাসায়নিকভাবে আলাদা করে শনাক্ত করা হয়েছিল।
- অ্যাক্টিনাইড হয়েও অস্বাভাবিক জারণ-রসায়ন: +2 দশা অপ্রত্যাশিতভাবে স্থায়ী, তাই Md কিছুটা ল্যান্থানাইড ইটারবিয়ামের মতো আচরণ করে।
- অবস্থান পর্যায় ৭-এর f-ব্লকের অ্যাক্টিনাইড সারিতে; কেবল কণা ত্বরকেই এটি তৈরি করা যায় এবং যেকোনো নমুনা থেকে দ্রুতই নিঃশেষ হয়ে যায়।
মেন্ডেলিভিয়ামের চোখে দেখা কোনো নমুনা কেউ কখনো পায়নি — সমগ্র ইতিহাসে মাত্র কয়েক হাজার পরমাণু তৈরি হয়েছে। পাশের মৌলগুলোর মতোই এটি সম্ভবত রুপালি অত্যন্ত তেজস্ক্রিয় অ্যাক্টিনাইড ধাতু, তবে ওজন বা ছবি তোলার মতো যথেষ্ট বড় কোনো নমুনা আজও তৈরি হয়নি।
কোথায় দেখা মেলে
✦ ব্যবহার
- অ্যাক্টিনাইড রসায়নের মৌলিক গবেষণা — f-ব্লকের সবচেয়ে ভারী সারিতে +2 ও +3 জারণ অবস্থার ভারসাম্য কীভাবে বদলায়, Md তার একটি মানদণ্ড।
- নিউক্লিয়ার-কাঠামো গবেষণা: এর আইসোটোপগুলোর আলফা ও স্বতঃস্ফূর্ত বিভাজন ক্ষয় Z = 100-এর কাছাকাছি শেল-মডেলের ভবিষ্যদ্বাণী যাচাইয়ে সাহায্য করে।
- এক-পরমাণু-করে পরীক্ষার কৌশল এগিয়ে নেওয়া — ১৯৫৫ সালে সতেরোটি Md পরমাণু আলাদা করার পদ্ধতিই আজও অতিভারী মৌলের গবেষণায় ব্যবহৃত হয়।
◍ দৈনন্দিন উদাহরণ
- ২০১৯ সালে ইউনেস্কোর আন্তর্জাতিক পর্যায় সারণি বর্ষ মেন্ডেলিভের সারণির ১৫০ বছর উদযাপন করে — যে সারণির স্রষ্টার নামেই এই মৌল।
- আধুনিক যেকোনো পর্যায় সারণির পোস্টার বা এনসিটিবি রসায়ন বইয়ের অ্যাক্টিনাইড সারিতে Md লেখা থাকে — সারণির স্রষ্টারই নীরব সম্মানে।
ইতিহাস ও নাম
১৯৫৫ সালে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্কলি রেডিয়েশন ল্যাবরেটরির একদল বিজ্ঞানী — অ্যালবার্ট গিওর্সো, বার্নার্ড হার্ভে, গ্রেগরি চপিন, স্ট্যানলি থম্পসন ও নোবেলজয়ী গ্লেন সিবর্গ — ৬০ ইঞ্চি সাইক্লোট্রনে Es-253 লক্ষ্যবস্তুতে অ্যালফা কণা নিক্ষেপ করেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বোমার্ডমেন্টের পর আয়ন-বিনিময় ক্রোমাটোগ্রাফির সাহায্যে তাঁরা রাসায়নিকভাবে আলাদা করেন একেবারে নতুন এক মৌলের মাত্র সতেরোটি পরমাণু। পর্যায় সারণির স্থপতি দিমিত্রি মেন্ডেলিভের নামে মৌলটির নাম রাখা হয় মেন্ডেলিভিয়াম — যিনি মৌল-অন্বেষণকেই সম্ভব করেছিলেন তাঁর প্রতি এক শ্রদ্ধাঞ্জলি হিসেবে।
কাছাকাছি মৌল
সারণিতে এই মৌলের ঠিক পাশে বসে থাকা মৌলগুলো — প্রায়ই রসায়নে সবচেয়ে কাছের আত্মীয়।
