
আইনস্টাইনিয়াম (Es)
“পৃথিবীর প্রথম হাইড্রোজেন বোমার অগ্নিগোলকে জন্ম, আর নাম আইনস্টাইনের — ১৯৫২ সালে আকাশ থেকে ঝরে পড়া মৌল।”
ইলেকট্রনগুলো কীভাবে সাজানো
আউফবাউ নীতি থেকে গণনা করা হয়, বাস্তবের পরিচিত ব্যতিক্রমগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য হয়।
নোটগুলো
বৈশিষ্ট্য
- প্রতিটি পরমাণুই তেজস্ক্রিয়: দীর্ঘতম আয়ুষ্কালীন আইসোটোপ Es-252-ও টেকে মাত্র প্রায় ১.৩ বছর — ফলে শিক্ষার্থীর স্কুলজীবনের মধ্যেই যেকোনো নমুনা শেষ হয়ে যায়।
- এতই প্রবল তেজস্ক্রিয় যে নিজেই দৃশ্যমান আভা ছড়ায় আর নিজের স্ফটিক ভেঙে দেয় — বিকিরণ-ক্ষতির জন্য বহু আইনস্টাইনিয়াম যৌগের এক্স-রে স্ফটিকবিদ্যা পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে।
- আবিষ্কার কোনো কণা ত্বরকে নয়, বোমার ধ্বংসাবশেষে: প্রকৃতি একে গড়ার একমাত্র গতিপথ হলো তাপ-নিউক্লিয়ার বিস্ফোরণের ট্রিলিয়ন-নিউট্রনের ঝলক।
- রসায়ন অ্যাক্টিনাইড-চিরাচরিত: +3 দশা প্রধান, দুর্লভ +2 দশাও আছে; আজ ওক রিজের উচ্চ-ফ্লাক্স চুল্লিতে মাইক্রোগ্রাম-দলে এটি তৈরি হয়।
নরম, রুপালি তেজস্ক্রিয় ধাতু — মাইক্রোগ্রামের চেয়ে বড় কুচিতে যার কখনো দেখা মেলেনি। আইনস্টাইনিয়াম এতই তেজস্ক্রিয় যে ১৯৭০-এর দশকে আরগনে তোলা সামান্য Es-253 নমুনার ছবিতে তা নিজের আলোতেই জ্বলজ্বল করছিল, আর ধীরে ধীরে পাকিয়ে ফেলছিল যে শিশিতে সে বন্দি ছিল।
কোথায় দেখা মেলে
✦ ব্যবহার
- ভারী মৌল গড়া: ১৯৫৫ সালে আলফা কণা মেরে Es-253 লক্ষ্যবস্তু থেকে বেরিয়ে এসেছিল মেন্ডেলিভিয়ামের সতেরোটি পরমাণু — ১০১ নম্বর মৌলের বীজ বুনেছিল বলেই আইনস্টাইনিয়াম।
- মৌলিক অ্যাক্টিনাইড রসায়ন: মাইক্রোগ্রাম পরিমাণ Es-253 নমুনা দিয়ে বিজ্ঞানীরা মাপেন পর্যায় সারণির একেবারে শেষ প্রান্তের বন্ধন-দৈর্ঘ্য আর বন্ধনের আচরণ।
- নিউক্লিয়ার-কাঠামো গবেষণা: Z যত ১০০-এর দিকে ওঠে, প্রোটন-নিউট্রন কীভাবে সাজে, এর বিচিত্র আইসোটোপগুলো তা-ই যাচাই করে — নিছক গবেষণা, বাণিজ্যিক ব্যবহার এখনো নেই।
◍ দৈনন্দিন উদাহরণ
- ১৯৫২ সালের নভেম্বরের আইভি মাইক অগ্নিগোলকের গল্প পদার্থবিজ্ঞানের ক্লাসে চলে দুটি মৌলের জন্মসনদ হয়ে — আইনস্টাইনিয়াম ও ফার্মিয়াম দুজনের বংশলতিই গিয়ে মেশে এক প্রবালদ্বীপে।
- আইনস্টাইনিয়াম ঘরে বা হাসপাতালে কখনো আসে না; বাংলাদেশের শিক্ষার্থীর দেখা মেলে কেবল ক্লাসরুমের চার্টের অ্যাক্টিনাইড সারির Es লেখা ঘরে।
ইতিহাস ও নাম
১৯৫২ সালের ১ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্র প্রশান্ত মহাসাগরের এনিওয়েটক প্রবালদ্বীপে বিস্ফোরিত করে “আইভি মাইক” — প্রথম পূর্ণমাত্রার হাইড্রোজেন বোমা। ড্রোন বিমান মাশরুম মেঘের ভেতর দিয়ে উড়ে ফিল্টার-কাগজে ধ্বংসাবশেষ জমিয়ে আনে, আর সেই আঠালো মলিনাংশে লুকিয়ে ছিল এমন সব পরমাণু যার কেউ অর্ডারই দেয়নি: এক ঝলকে ইউরেনিয়াম-২৩৮ নিউক্লিয়াস ডজনখানেক নিউট্রন গিলে নিয়েছিল, তারপর পরপর বিটা ক্ষয়ে উঠে গিয়েছিল ৯৯ নম্বর মৌল পর্যন্ত। বার্কলি, আরগন ও লস আলামোসের দল — অ্যালবার্ট গিওর্সো তাঁদেরই একজন — রাসায়নিক ছাঁকনিতে ধরে বের করেন নতুন পরমাণুগুলোকে, আর শীতল যুদ্ধের রহস্যে খবরটি গোপন থাকে ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত। নামটি আলবার্ট আইনস্টাইনের স্মরণে — ওই বছরের এপ্রিলেই তিনি মারা গিয়েছিলেন, নিজের নাম বহন করা মৌলের কথা তাঁর জানা হয়নি।
কাছাকাছি মৌল
সারণিতে এই মৌলের ঠিক পাশে বসে থাকা মৌলগুলো — প্রায়ই রসায়নে সবচেয়ে কাছের আত্মীয়।
