হাসিয়াম (Hs)
“একটি জার্মান রাজ্যের নামে নামাঙ্কিত, আর ১১৮টি মৌলের মধ্যে সম্ভবত সবচেয়ে ঘন বলে প্রাক্কলিত — তবু হাসিয়ামের রসায়ন পরখা হয়েছে বড়জোর দশ সেকেন্ডি করে টিকে থাকা পরমাণু দিয়ে।”
ইলেকট্রনগুলো কীভাবে সাজানো
আউফবাউ নীতি থেকে গণনা করা হয়, বাস্তবের পরিচিত ব্যতিক্রমগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য হয়।
নোটগুলো
বৈশিষ্ট্য
- সম্পূর্ণ কৃত্রিম সুপারহেভি ধাতু — এ পর্যন্ত তৈরি প্রতিটি হাসিয়াম পরমাণুই জন্মেছে কণা ত্বরকে, প্রতি পরীক্ষায় বড়জোর কয়েকটি করে।
- প্রচণ্ড তেজস্ক্রিয়তাই এর চিরচরিত — রসায়ন অধ্যয়নে ব্যবহৃত Hs-269 আইসোটোপটিও ক্ষয় হতে নেয় মাত্র প্রায় দশ সেকেন্ড।
- বজ্রগতিতে ছোটা ইলেকট্রনের ওপর আপেক্ষিক প্রভাব পড়ে এর বন্ধন প্রত্যাশার চেয়ে ছোট ও মজবুত হয়; হিসাবে ঘনত্ব প্রায় ৪০ গ্রাম/ঘন সেমি — অসমিয়ামের রেকর্ড ২২.৬ ছাপিয়ে ঘনতম মৌলের খেতাব।
- ২০০১ সালে দেখানো হয়, এর উদ্বায়ী অসমিয়ামের -এর মতোই উড়ে বেড়ায় — সরাসরি রাসায়নিক পরীক্ষার মুখ দেখা মৌলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভারীদের একটি এটি।
হাসিয়ামের এতটুকু নমুনাও কেউ কখনো পায়নি যা চোখে দেখা যাবে — এটি বিদ্যমান কেবল একেকটি পরমাণু হিসেবে, ত্বরকে বর বর জন্ম নেয়, আর কয়েক সেকেন্ডেই উধাও। গণনা বলছে, অসমিয়ামের আদলে গড়া এটি শক্ত, রুপালি গ্রুপ ৮ ধাতু — ঘনত্ব প্রায় ৪০ গ্রাম প্রতি ঘন সেন্টিমিটার, হলে এটিই গোটা সারণির সবচেয়ে ঘন মৌল।
কোথায় দেখা মেলে
✦ ব্যবহার
- স্থিতির দ্বীপের মানচিত্র আঁকা: হাসিয়ামের প্রতিটি আইসোটোপের অর্ধায়ু আর আলফা-শক্তি নিউক্লিয়ার শেলের ধরন সম্পর্কে তাত্ত্বিকদের কাছে এক একটি তথ্য জোগায়।
- গ্রুপ ৮-এর রসায়নে আপেক্ষিকতার পাকড়া যাচাই — -এর মাপা আচরণকে হিসাবের সঙ্গে মেলালে বোঝা যায়, Z = 108-তেও কোয়ান্টাম তত্ত্ব টিকে আছে কি না।
- এক-পরমাণু-করে রসায়নের কৌশল উন্নত করা — হাসিয়ামে প্রমাণিত দ্রুত গ্যাস-ক্রোমাটোগ্রাফি পদ্ধতিগুলো পরে আরও ভারী মৌলে ব্যবহৃত হয়।
- নতুন সুপারহেভি নিউক্লিয়াসের খোঁজে ডিটেক্টর সাজানোর সময় এর পরিচিত আলফা-ক্ষয়ের শক্তিমানগুলো ক্যালিব্রেশনের মাইলফলকের কাজ করে।
◍ দৈনন্দিন উদাহরণ
- স্কুলের পর্যায় সারণিতে এখনো ঘনতম মৌল বলে অসমিয়ামকেই মুকুট পরানো হয় — পাশে ছোট্ট একটা তারকাচিহ্ন থাকলে বলত: হাসিয়ামের হিসাব আরও ওপরে, শুধু ওজন করে দেখানোর সুযোগ আজও হয়নি।
- স্থানের নামে নামাঙ্কিত মৌল নিয়ে কুইজ প্রতিযোগিতার আগ্রহ অনেক — হেসে রাজ্যের নামে হাসিয়াম ডাবনিয়াম, ডার্মস্টাডটিয়াম ও মস্কোভিয়ামের সঙ্গে সেই ক্লাবের সদস্য।
- বাংলাদেশের ক্লাসরুমের পর্যায় সারণির পোস্টারে নিচের সারির অষ্টম ঘরটিতে Hs — ১৯৯৭ সালে এসে তবেই সেখানে আসল নামটি বসে।
ইতিহাস ও নাম
১৯৮৪ সালে দার্মস্টাটের জিএসআই কেন্দ্রে পিটার আর্মব্রুস্টার ও গটফ্রিড মুনৎজেনবার্গের দল UNILAC ত্বরক থেকে Pb-208 লক্ষ্যে Fe-58 আয়ন নিক্ষেপ করে Hs-265-এর কয়েকটি পরমাণু শনাক্ত করেন — আলফা-ক্ষয়ের শৃঙ্খলা পরিচিত নিউক্লিয়াস পর্যন্ত অনুসরণ করে। আইইউপিএসির ১৯৯৪ সালের খসড়া সিদ্ধান্তে ১০৮ নম্বর মৌলের নাম অটো হানের নামে “হানিয়াম” রাখার কথা ছিল, কিন্তু ১৯৯৭ সালের চূড়ান্ত রায়ে আবিষ্কারকারীদের প্রস্তাবই গৃহীত হয় — হাসিয়াম; হেসে রাজ্যের লাতিন নাম Hassia থেকে, আর দার্মস্টাট শহরটি সেই হেসেতেই। এরপর ২০০১ সালে জিএসআই ও সুইজারল্যান্ডের পল শেরার ইনস্টিটিউটের এক আন্তর্জাতিক দল Cm-248 লক্ষ্যে Mg-26 আয়ন ছুঁড়ে Hs-269 তৈরি করে প্রমাণ করে — অসমিয়ামের মতোই হাসিয়াম উদ্বায়ী টেট্রাঅক্সাইড গঠন করে; সুপারহেভি মৌলের রসায়নও যে সারণির পারিবারিক নিয়ম মানে, এটাই ছিল প্রথম সরাসরি প্রমাণ।
কাছাকাছি মৌল
সারণিতে এই মৌলের ঠিক পাশে বসে থাকা মৌলগুলো — প্রায়ই রসায়নে সবচেয়ে কাছের আত্মীয়।
