১০৯Mtমাইটনারিয়াম[278]
মাইটনারিয়াম মৌলের প্রকৃত নমুনা
কৃত্রিম মৌল — এর কোনো প্রকৃত নমুনার ছবি নেই
স্থানান্তর ধাতু

মাইটনারিয়াম (Mt)

“আবিষ্কারের গোটা প্রমাণ ছিল একটি মাত্র পরমাণু, যার আয়ু কয়েক সহস্রাংশ সেকেন্ড — আর নামটি লিজে মাইটনারের, যিনি নিউক্লিয়ার বিভাজনের রহস্য ফাঁস করেও নোবেল পুরস্কার থেকে বঞ্চিত হয়েছিলেন।”

পারমাণবিক সংখ্যা১০৯
পারমাণবিক ভর[278]
গ্রুপ৯
পর্যায়৭
ব্লকD-block
অবস্থাকঠিন
ইলেকট্রন কাঠামো

ইলেকট্রনগুলো কীভাবে সাজানো

Mt
[Rn] 5f14 6d7 7s2
শেল ১
২e⁻
শেল ২
৮e⁻
শেল ৩
১৮e⁻
শেল ৪
৩২e⁻
শেল ৫
৩২e⁻
শেল ৬
১৫e⁻
শেল ৭
২e⁻

আউফবাউ নীতি থেকে গণনা করা হয়, বাস্তবের পরিচিত ব্যতিক্রমগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য হয়।

স্টাডি

নোটগুলো

মৌলটি সম্পর্কে

বৈশিষ্ট্য

  • সম্পূর্ণ কৃত্রিম ও অতি তেজস্ক্রিয় — মাইটনেরিয়াম মেলে কেবল ত্বরকের ভেতরে, আর এর বেশির ভাগ আইসোটোপের আয়ু সহস্রাংশ সেকেন্ডের ঘরে।
  • সবচেয়ে দীর্ঘায়ু আইসোটোপ Mt-278-ও টিকে বড়জোর কয়েক সেকেন্ড — রাসায়নিক কোনো পরীক্ষার পক্ষেই তা যথেষ্ট নয়, তাই গোটা রসায়নটাই আপাতত প্রাক্কলন।
  • হিসাবে এটি ইরিডিয়ামের সুপারহেভি ভাই — সম্ভাব্য জারণ অবস্থা +৬ পর্যন্ত, আর 6d ও 7s ইলেকট্রনের ওপর আপেক্ষিক প্রভাবে বন্ধনের গড়ন বদলে যায়।
  • প্রাক্কলিত ঘনত্বেও অসমিয়ামের রেকর্ড ছাপিয়ে যাবে — হিসাবের ক্রমতালিকায় হাসিয়ামের ঠিক পেছনেই মাইটনেরিয়াম, দুজনেই এখন পর্যন্ত মাপা সব মৌলের ওপরে।
দেখতে কেমন

মাইটনেরিয়ামের চোখে দেখার মতো এক কণাও কখনো তৈরি হয়নি — একেকটি পরমাণুর ক্ষয়ের স্বাক্ষরই এর একমাত্র পরিচয়পত্র। তাত্ত্বিক হিসাবে এটি রুপালি, অত্যন্ত ঘন গ্রুপ ৯ ধাতু — কোবাল্ট, রোডিয়াম ও ইরিডিয়ামের সুপারহেভি আত্মীয় — যদিও এর রসায়ন আজও একেবারেই অপরীক্ষিত।

বাস্তব জগৎ

কোথায় দেখা মেলে

✦ ব্যবহার

  • আপেক্ষিক পরমাণু তত্ত্বের মানদণ্ড — মাইটনেরিয়ামের প্রাক্কলিত শক্তিস্তর আর মাপা আলফা-ক্ষয়ের তুলনা সাধারণ পরমাণুর গণ্ডির বহু দূর পর্যন্ত ডিরাকের সমীকরণ যাচাই করে।
  • প্রতিটি নতুন আইসোটোপের অর্ধায়ু Z = 114-এর কাছে প্রাক্কলিত স্থিতির দ্বীপের মানচিত্রে জুড়ে দেওয়া হয় — পরের চেষ্টায় কোন আয়ন-লক্ষ্য জোড়া নেওয়া যায়, তার নির্দেশনাও মেলে সেখান থেকেই।
  • পরিচিত বোহরিয়াম আইসোটোপে গিয়ে মেশে এর ক্ষয়-শৃঙ্খলাগুলো — ডিটেক্টর সুপারহেভি ঘটনা ঠিকঠাক পড়ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে গবেষণাগারগুলো সেগুলোর সাহায্য নেয়।

◍ দৈনন্দিন উদাহরণ

  • এনসিটিবি পদার্থবিজ্ঞানের নিউক্লিয়ার বিভাজন-অধ্যায়টি আসলে লিজে মাইটনারের পথ ধরেই হাঁটে — ১০৯ নম্বর মৌল তাঁর নামটি সারণির চিরস্থায়ী দলিলে লিখে রেখেছে।
  • নারীবিজ্ঞানীদের নিয়ে আলোচনায় বারবার ফিরে আসে মাইটনারের নাম — নিজ নামে এককভাবে মৌল পাওয়া একমাত্র নারী তিনিই।
  • বিজ্ঞান কুইজের এক ক্লাসিক প্রশ্ন: কোন মৌল আবিষ্কার হয়েছিল মাত্র একটি পরমাণু দেখে? পাঠ্যবইয়ের উত্তর — ১৯৮২ সালের মাইটনেরিয়াম।
ইতিহাস

ইতিহাস ও নাম

১৯৮২ সালের আগস্টের শেষ দিকে দার্মস্টাটে পিটার আর্মব্রুস্টার ও গটফ্রিড মুনৎজেনবার্গের নেতৃত্বাধীন জিএসআই দল Bi-209 লক্ষ্যে Fe-58 আয়ন ছুঁড়ে Mt-266-এর একটি পরমাণু ধরতে সক্ষম হয় — মৌলটির গোটা আবিষ্কার দাঁড়িয়ে ছিল সেই একক নিউক্লিয়াসের ওপর, যা মিলিসেকেন্ডের ভেতরেই আলফা কণার শৃঙ্খলায় ভেঙে পড়ে। আইইউপিএসি জিএসআই-কে কৃতিত্ব দেয়, আর ১৯৯৭ সালে মৌলটির নাম হয় মাইটনেরিয়াম — অস্ট্রিয়ায় জন্ম নেওয়া পদার্থবিজ্ঞানী লিজে মাইটনারের সম্মানে; নাৎসি জার্মানি থেকে নির্বাসিত হয়েও তিনিই ১৯৩৮ সালে অটো ফ্রিশের সঙ্গে অটো হানের হতভম্ব-করা বিভাজন-ফলাফলের পদার্থবৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন। বিভাজন আবিষ্কারের ১৯৪৪ সালের নোবেল পুরস্কারটি পেলেন একা হান, মাইটনার পাননি — তাই রসায়নের ইতিহাসে ১০৯ নম্বর মৌলের নামটিকে অনেকে বলেন এক চিকন, বিলম্বিত ক্ষমাপ্রার্থনা।

নামের উৎসনিউক্লিয়ার বিভাজনের ব্যাখ্যাকারী ও সহ-আবিষ্কারক লিজে মাইটনারের সম্মানে — যাঁকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়নি বলেই ইতিহাস ক্ষুণ্ণ।
পাশের মৌল

কাছাকাছি মৌল

সারণিতে এই মৌলের ঠিক পাশে বসে থাকা মৌলগুলো — প্রায়ই রসায়নে সবচেয়ে কাছের আত্মীয়।