মাইটনারিয়াম (Mt)
“আবিষ্কারের গোটা প্রমাণ ছিল একটি মাত্র পরমাণু, যার আয়ু কয়েক সহস্রাংশ সেকেন্ড — আর নামটি লিজে মাইটনারের, যিনি নিউক্লিয়ার বিভাজনের রহস্য ফাঁস করেও নোবেল পুরস্কার থেকে বঞ্চিত হয়েছিলেন।”
ইলেকট্রনগুলো কীভাবে সাজানো
আউফবাউ নীতি থেকে গণনা করা হয়, বাস্তবের পরিচিত ব্যতিক্রমগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য হয়।
নোটগুলো
বৈশিষ্ট্য
- সম্পূর্ণ কৃত্রিম ও অতি তেজস্ক্রিয় — মাইটনেরিয়াম মেলে কেবল ত্বরকের ভেতরে, আর এর বেশির ভাগ আইসোটোপের আয়ু সহস্রাংশ সেকেন্ডের ঘরে।
- সবচেয়ে দীর্ঘায়ু আইসোটোপ Mt-278-ও টিকে বড়জোর কয়েক সেকেন্ড — রাসায়নিক কোনো পরীক্ষার পক্ষেই তা যথেষ্ট নয়, তাই গোটা রসায়নটাই আপাতত প্রাক্কলন।
- হিসাবে এটি ইরিডিয়ামের সুপারহেভি ভাই — সম্ভাব্য জারণ অবস্থা +৬ পর্যন্ত, আর 6d ও 7s ইলেকট্রনের ওপর আপেক্ষিক প্রভাবে বন্ধনের গড়ন বদলে যায়।
- প্রাক্কলিত ঘনত্বেও অসমিয়ামের রেকর্ড ছাপিয়ে যাবে — হিসাবের ক্রমতালিকায় হাসিয়ামের ঠিক পেছনেই মাইটনেরিয়াম, দুজনেই এখন পর্যন্ত মাপা সব মৌলের ওপরে।
মাইটনেরিয়ামের চোখে দেখার মতো এক কণাও কখনো তৈরি হয়নি — একেকটি পরমাণুর ক্ষয়ের স্বাক্ষরই এর একমাত্র পরিচয়পত্র। তাত্ত্বিক হিসাবে এটি রুপালি, অত্যন্ত ঘন গ্রুপ ৯ ধাতু — কোবাল্ট, রোডিয়াম ও ইরিডিয়ামের সুপারহেভি আত্মীয় — যদিও এর রসায়ন আজও একেবারেই অপরীক্ষিত।
কোথায় দেখা মেলে
✦ ব্যবহার
- আপেক্ষিক পরমাণু তত্ত্বের মানদণ্ড — মাইটনেরিয়ামের প্রাক্কলিত শক্তিস্তর আর মাপা আলফা-ক্ষয়ের তুলনা সাধারণ পরমাণুর গণ্ডির বহু দূর পর্যন্ত ডিরাকের সমীকরণ যাচাই করে।
- প্রতিটি নতুন আইসোটোপের অর্ধায়ু Z = 114-এর কাছে প্রাক্কলিত স্থিতির দ্বীপের মানচিত্রে জুড়ে দেওয়া হয় — পরের চেষ্টায় কোন আয়ন-লক্ষ্য জোড়া নেওয়া যায়, তার নির্দেশনাও মেলে সেখান থেকেই।
- পরিচিত বোহরিয়াম আইসোটোপে গিয়ে মেশে এর ক্ষয়-শৃঙ্খলাগুলো — ডিটেক্টর সুপারহেভি ঘটনা ঠিকঠাক পড়ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে গবেষণাগারগুলো সেগুলোর সাহায্য নেয়।
◍ দৈনন্দিন উদাহরণ
- এনসিটিবি পদার্থবিজ্ঞানের নিউক্লিয়ার বিভাজন-অধ্যায়টি আসলে লিজে মাইটনারের পথ ধরেই হাঁটে — ১০৯ নম্বর মৌল তাঁর নামটি সারণির চিরস্থায়ী দলিলে লিখে রেখেছে।
- নারীবিজ্ঞানীদের নিয়ে আলোচনায় বারবার ফিরে আসে মাইটনারের নাম — নিজ নামে এককভাবে মৌল পাওয়া একমাত্র নারী তিনিই।
- বিজ্ঞান কুইজের এক ক্লাসিক প্রশ্ন: কোন মৌল আবিষ্কার হয়েছিল মাত্র একটি পরমাণু দেখে? পাঠ্যবইয়ের উত্তর — ১৯৮২ সালের মাইটনেরিয়াম।
ইতিহাস ও নাম
১৯৮২ সালের আগস্টের শেষ দিকে দার্মস্টাটে পিটার আর্মব্রুস্টার ও গটফ্রিড মুনৎজেনবার্গের নেতৃত্বাধীন জিএসআই দল Bi-209 লক্ষ্যে Fe-58 আয়ন ছুঁড়ে Mt-266-এর একটি পরমাণু ধরতে সক্ষম হয় — মৌলটির গোটা আবিষ্কার দাঁড়িয়ে ছিল সেই একক নিউক্লিয়াসের ওপর, যা মিলিসেকেন্ডের ভেতরেই আলফা কণার শৃঙ্খলায় ভেঙে পড়ে। আইইউপিএসি জিএসআই-কে কৃতিত্ব দেয়, আর ১৯৯৭ সালে মৌলটির নাম হয় মাইটনেরিয়াম — অস্ট্রিয়ায় জন্ম নেওয়া পদার্থবিজ্ঞানী লিজে মাইটনারের সম্মানে; নাৎসি জার্মানি থেকে নির্বাসিত হয়েও তিনিই ১৯৩৮ সালে অটো ফ্রিশের সঙ্গে অটো হানের হতভম্ব-করা বিভাজন-ফলাফলের পদার্থবৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন। বিভাজন আবিষ্কারের ১৯৪৪ সালের নোবেল পুরস্কারটি পেলেন একা হান, মাইটনার পাননি — তাই রসায়নের ইতিহাসে ১০৯ নম্বর মৌলের নামটিকে অনেকে বলেন এক চিকন, বিলম্বিত ক্ষমাপ্রার্থনা।
কাছাকাছি মৌল
সারণিতে এই মৌলের ঠিক পাশে বসে থাকা মৌলগুলো — প্রায়ই রসায়নে সবচেয়ে কাছের আত্মীয়।
