ওগানেসন (Og)
“এ পর্যন্ত তৈরি সবচেয়ে ভারী মৌল — আর ইতিহাসে বেঁচে থাকা বিজ্ঞানীর নামে নামাঙ্কিত মাত্র দ্বিতীয় মৌল: ইউরি ওগানেসিয়ান, যাঁর ক্যালসিয়াম-৪৮ রশ্মিই সব সম্ভব করেছিল।”
ইলেকট্রনগুলো কীভাবে সাজানো
আউফবাউ নীতি থেকে গণনা করা হয়, বাস্তবের পরিচিত ব্যতিক্রমগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য হয়।
নোটগুলো
বৈশিষ্ট্য
- এ পর্যন্ত সাজানো সবচেয়ে ভারী পরমাণু — ১১৮টি প্রোটন — তবু ওগানেসন বলতে মোটেও দশটিরও কম পরমাণু, প্রতিটির আয়ু এক মিলিসেকেন্ডেরও কম।
- Og-294-এর আলফা-ক্ষয়ের শৃঙ্খলা নেমে আসে লিভারমোরিয়াম আর ফ্লেরোভিয়াম হয়ে পরিচিত নিউক্লিয়াসে — ওই বংশলতিকাই এর অস্তিত্বের প্রমাণ।
- আপেক্ষিক প্রভাবে নাকি স্বাভাবিক শেল-কাঠামো ভেঙে পড়বে: গণনায় দেখা যায় ফুলে ওঠা, মিশে যাওয়া ইলেকট্রন স্তর — রেডন বা জেননের মতো স্পষ্ট স্তরের চেহারা নেই।
- অতি বিশাল মহাপোলারায়নযোগ্যতার কারণে ওগানেসন হয়তো প্রথম “কক্ষ তাপমাত্রায় কঠিন নিষ্ক্রিয় গ্যাস” হবে — এমনকি সত্যিকারের যৌগ গঠনেও বেশ উদ্যমী।
ওগানেসনের বলতে গেলে দশটিরও কম পরমাণুই কখনো অস্তিত্বে এসেছে, প্রতিটিই এক মিলিসেকেন্ডেরও কম সময়ে হারিয়ে যায়। নিষ্ক্রিয় গ্যাসদের কলামে বসলেও আপেক্ষিক গণনা যাচাই করছে এমন সব ধর্ম, যা আগে কোনো নিষ্ক্রিয় গ্যাসের ছিল না: কঠিন, অতি-মহাপোলারায়নযোগ্য ও সম্ভবত সক্রিয় এক পদার্থ, যার ইলেকট্রন স্তরগুলো এতটাই স্ফীত ও মিশে যাওয়া যে সুনিয়মিত স্তর-কাঠামো আর অবশিষ্ট থাকে না।
কোথায় দেখা মেলে
✦ ব্যবহার
- আপেক্ষিক কোয়ান্টাম রসায়নের চরম মানদণ্ড: কঠিন, সক্রিয়, স্তর-মিশানো ওগানেসনের ভবিষ্যদ্বাণীগুলো তাত্ত্বিকদের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয় — সারণির শেষ প্রান্তে হিসাব নিখুঁত করে দেখাও।
- স্থিতির দ্বীপের দূরের তীর অনুসন্ধান: Og-294-এর মিলিসেকেন্ডেরও কম আয়ু দেখিয়ে দেয়, প্রোটন সংখ্যা ১১৪ ছাড়িয়ে গেলে নিউক্লিয়ার স্থিতিশীলতা কতটা ম্লান হয়ে আসে।
- এর বিরল ক্ষয়-শৃঙ্খলাগুলো দুবনার নতুন সুপারহেভি এলিমেন্ট ফ্যাক্টরির ডিটেক্টর ক্যালিব্রেশনে কাজে লাগে — সেই যন্ত্রেরাই এখন মৌল ১১৯ ও ১২০-র খোঁজে ব্যস্ত।
- ওগানেসন বানানোর Ca-48 + Cf-249 রেসিপিই ভবিষ্যতের প্রতিটি উষ্ণ-ফিউশন চেষ্টার আদর্শ নকশা।
◍ দৈনন্দিন উদাহরণ
- ২০১৬-এর নভেম্বরের ঘোষণায় ১১৮ মৌলের পর্যায় সারণি সম্পূর্ণ হলো — ১৮৬৯ সালের পর প্রথমবারের মতো সাতটি পর্যায়ের প্রতিটিই দাঁড়াল পূর্ণ, আর ঢাকা থেকে ডাবলিন — সব রসায়ন ক্লাসরুমেই এল হালনাগাদ চার্ট।
- রসায়নের দুর্লভতম কুইজ-প্রশ্নের উত্তর ওগানেসন: জীবিত অবস্থায় মৌলের নাম পাওয়া বিজ্ঞানী বলতে গ্লেন সিবোর্গ (সিবর্গিয়াম) আর ইউরি ওগানেসিয়ান (ওগানেসন) — এই দুজনই।
- এনসিটিবির পর্যায় সারণির একদম শেষ ঘরটি — সপ্তম সারির ডান-নিচ কোণের ঘর — ওগানেসনের, প্রতীক Og।
ইতিহাস ও নাম
১৯৯৯ সালে বার্কলির করা মৌল ১১৮-এর এক দাবি তথ্য-জালিয়াতির কেলেঙ্কারিতে ভেঙে পড়ার পর ইউরি ওগানেসিয়ানের নেতৃত্বে দুবনা–লিভারমোর দল নেমেছিল সত্যিকারের সেই মৌলের খোঁজে: Cf-249 লক্ষ্যে Ca-48 আয়ন নিক্ষেপে ২০০২ সালে জন্ম নেয় প্রথম পরমাণুগুলো, আর ২০০৬-এর অক্টোবরে ঘোষণা আসে Og-294-এর — মোট তিনটি ক্ষয়-শৃঙ্খলা। ২০১৫-এর ডিসেম্বরে আইইউপিএসি আবিষ্কার স্বীকার করে, আর ২০১৬-এর নভেম্বরে — ওগানেসনের নামকরণেই সপ্তম পর্যায় বন্ধ হয়ে ১১৮ মৌলের সারণি সম্পূর্ণ হলো — মৌলটি বেঁচে থাকা এক কিংবদন্তির নাম নেয়: দুবনার ফ্লেরভ ল্যাবরেটরির প্রধান ইউরি ওগানেসিয়ান, গ্লেন সিবোর্গের পরে নিজের জীবদ্দশাতেই মৌলের নাম পাওয়া দ্বিতীয় মানুষ।
কাছাকাছি মৌল
সারণিতে এই মৌলের ঠিক পাশে বসে থাকা মৌলগুলো — প্রায়ই রসায়নে সবচেয়ে কাছের আত্মীয়।
