লিভারমোরিয়াম (Lv)
“মৌল ১১৬ — ২০০০ সালে দুবনায় কিউরিয়াম আর বিরল ক্যালসিয়াম রশ্মির মিলনে জন্ম, নামটি নেওয়া হয়েছে বিখ্যাত এক ক্যালিফোর্নিয়ান গবেষণাগারের নামে।”
ইলেকট্রনগুলো কীভাবে সাজানো
আউফবাউ নীতি থেকে গণনা করা হয়, বাস্তবের পরিচিত ব্যতিক্রমগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য হয়।
নোটগুলো
বৈশিষ্ট্য
- কোনোদিন তৈরি বিরলতম পদার্থের একটি: মোটেও কয়েক ডজন লিভারমোরিয়াম পরমাণুই অস্তিত্বে এসেছে, প্রতিটিই ত্বরকের একেকটি সংঘর্ষে জন্ম।
- পরমাণুগুলো বড়জোর কয়েক দশ মিলিসেকেন্ড টিকে — দীর্ঘতম আয়ুষ্কালীন আইসোটোপ Lv-293-ও এক সেকেন্ডের দশমাংশের মধ্যেই ক্ষয়ে যায়।
- অক্সিজেন পরিবারের ভারী সদস্য: গ্রুপ ১৬-এর সারিটি হলো অক্সিজেন, সালফার, সেলেনিয়াম, টেলুরিয়াম, পোলোনিয়াম, আর একেবারে শেষে লিভারমোরিয়াম।
- আপেক্ষিক প্রভাবে বন্ধন-শক্তি নাকি এমন নিঃশেষ হবে যে লিভারমোরিয়াম হবে উদ্বায়ী, দুর্বল-ধাতব এক কঠিন পদার্থ — সালফার-সেলেনিয়ামের রসায়নের সহজ সঙ্গী নয়।
লিভারমোরিয়ামের অস্তিত্ব বলতে গেলে শুধুই একেকটি পরমাণু — জন্মের সঙ্গে সঙ্গেই যেগুলো মিলিয়ে যায়। তাত্ত্বিকরা ভাবছেন গ্রুপ ১৬-এ পোলোনিয়ামের নিচে এটি হবে ঘন, নরম, রুপালি পোস্ট-ট্রানজিশন ধাতু — কিন্তু আপেক্ষিক প্রভাবে বন্ধন এতটাই দুর্বল হবে যে সত্যিকারের ক্যালকোজেনের মতো আচরণ করবে কি না, সেটাই ঝকঝকে এক প্রশ্ন।
কোথায় দেখা মেলে
✦ ব্যবহার
- স্থিতির দ্বীপের মানচিত্র আঁকা: Lv-290, Lv-292 ও Lv-293-এর আয়ুকে ফ্লেরোভিয়াম-ওগানেসনের আইসোটোপের সঙ্গে মেলালে জানা যায় দ্বীপের তীর কতটা মজবুত।
- আলফা-ক্ষয়ের শৃঙ্খলা আঙুলের ছাপের মতো — লিভারমোরিয়ামের শৃঙ্খলা ঠিকভাবে চিনতে পারা ডিটেক্টরকে বিশ্বাস করা যায় আরও ভারী নিউক্লিয়াসের খোঁজেও।
- প্রতিটি সংশ্লেষ-অভিযান “উষ্ণ ফিউশনের” নিউক্লিয়ার মডেল যাচাই করে, মৌল ১১৯ ও ১২০-র চেষ্টায় ব্যবহৃত রেসিপি ঝালিয়ে তোলে।
- লিভারমোরিয়ামের জন্য নিখুঁত হওয়া কিউরিয়াম-লক্ষ্যের পদ্ধতিই পরে বার্কেলিয়াম লক্ষ্য বানানোর নকশায় পথ দেখায়, যেখান থেকে জন্ম নেয় টেনেসিন।
◍ দৈনন্দিন উদাহরণ
- ২০১২ সালের মে মাসে ফ্লেরোভিয়াম ও লিভারমোরিয়ামের নামকরণের পর বিশ্বজুড়ে পর্যায় সারণির পোস্টার নতুন করে ছাপাতে হয় — তোমার ক্লাসরুমের চার্টও সেই হালনাগাদেরই ফল।
- কুইজ দলগুলো Lv-কে মনে রাখে এই নামে — লরেন্স লিভারমোর ল্যাবের নামে মৌল, যে ক্যালিফোর্নিয়ান গবেষণাগার মৌল ১১৪ থেকে ১১৮ পর্যন্ত সবগুলোরই সহ-আবিষ্কারক।
- এনসিটিবি বইয়ের গ্রুপ ১৬ — অক্সিজেন পরিবার — এখন সপ্তম পর্যায়ের লিভারমোরিয়ামেই আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়।
ইতিহাস ও নাম
২০০০ সালে ইউরি ওগানেসিয়ানের নেতৃত্বে দুবনা–লিভারমোর দল U-400 সাইক্লোট্রন থেকে Cm-248 লক্ষ্যে Ca-48 আয়ন নিক্ষেপ করে ধরতে পারে Lv-292-এর একটি একক পরমাণু — মিলিসেকেন্ডের ভেতরেই সেটি আলফা-ক্ষয়ে ভেঙে ফ্লেরোভিয়াম হয়ে পরিচিত নিউক্লিয়াসে গিয়ে পড়ে; পরের বছরগুলোতে আরও অভিযানে যোগ হয় আরও পরমাণু ও শৃঙ্খলা। ২০১১ সালের জুনে আইইউপিএসি আবিষ্কারের কৃতিত্ব দেয়, আর ২০১২ সালের ৩১ মে ফ্লেরোভিয়ামের সঙ্গেই এর আনুষ্ঠানিক নাম হয় লিভারমোরিয়াম — ক্যালিফোর্নিয়ার লরেন্স লিভারমোর ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির সম্মানে, যে গবেষণাগারের বিজ্ঞানীরা ১৯৯০-এর দশক থেকেই দুবনার সুপারহেভি-শিকারে অংশীদার ছিলেন।
কাছাকাছি মৌল
সারণিতে এই মৌলের ঠিক পাশে বসে থাকা মৌলগুলো — প্রায়ই রসায়নে সবচেয়ে কাছের আত্মীয়।
