
ম্যাগনেসিয়াম (Mg)
“পালকের মতো হালকা ধাতু — যার ধবধবে সাদা শিখায় একদিন ক্যামেরার ফ্ল্যাশ জ্বলত, আজও জ্বলে আতশবাজি আর বিপদ-সংকেতের আলো।”
ইলেকট্রনগুলো কীভাবে সাজানো
আউফবাউ নীতি থেকে গণনা করা হয়, বাস্তবের পরিচিত ব্যতিক্রমগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য হয়।
নোটগুলো
বৈশিষ্ট্য
- ইলেকট্রন বিন্যাস 1s² 2s² 2p⁶ 3s² — দুটি যোজ্যতা ইলেকট্রন, তাই ম্যাগনেসিয়াম পর্যায় ৩-এর গ্রুপ ২-তে, মৃৎক্ষার ধাতুদের পরিবারে, আর বিক্রিয়া করে Mg²⁺ আয়ন হয়ে।
- কিংবদন্তিতুল্য ধবধবে সাদা শিখায় জ্বলে: + → — সেই আলোই একদিন ছবি তুলত, আজও ভরে দেয় ফ্লেয়ার আর আতশবাজি।
- অক্সিজেনের জন্য এতটাই ক্ষুধার যে কার্বন ডাই-অক্সাইডের ভেতরেও জ্বলতে থাকে, থেকে O ছিনিয়ে পড়ে রেখে যায় কালো কার্বনের কণা: + → + C।
- প্রতিটি ক্লোরোফিল অণুর কেন্দ্রে বসে থাকে একটি Mg²⁺ আয়ন — ম্যাগনেসিয়াম সরিয়ে নিলেই সালোকসংশ্লেষণের সবুজ কারখানা বন্ধ।
রুপালি-সাদা, বেশ নরম ধাতু — গঠনকাঠামোতে ব্যবহার্য সব ধাতুর মধ্যে সবচেয়ে হালকা; ঘনত্ব অ্যালুমিনিয়ামের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ। গুঁড়ো সহজেই শিখা ধরে, আর পাতলা ফিতে জ্বলে ওঠে এমন সাদা আলোয় যা সোজা তাকিয়ে দেখা যায় না — পড়ে থাকে মিহি সাদা ছাই, ম্যাগনেসিয়াম অক্সাইড।
কোথায় দেখা মেলে
✦ ব্যবহার
- আতশবাজি, ফুলঝুরি আর বিপদ-সংকেতের ফ্লেয়ার — রাতের আকাশে ধবধবে সাদা ঝলকের চিরায়ত উপকরণই ম্যাগনেসিয়াম গুঁড়ো।
- মিল্ক অব ম্যাগনেসিয়া, — বাংলাদেশের ওষুধের দোকানে জমা রাখা গ্যাস্ট্রিকের বিরুদ্ধে সেই ঘোলাটে ওষুধ।
- এপসম লবণ () — টমেটো বা লেবুর মতো ফসলের ম্যাগনেসিয়াম-ঘাটতি মেটাতে সার, আবার শরীর-ব্যথা ভেজানোর চিরায়ত লবণ।
- ম্যাগনেসিয়াম-অ্যালুমিনিয়াম সংকর — ল্যাপটপ, ক্যামেরা, মই বা গাড়ির চাকার হালকা বডি; আর জাহাজ-পাইপলাইন রক্ষায় নিজে ক্ষয় হয়ে যাওয়া ত্যাগী অ্যানোড।
◍ দৈনন্দিন উদাহরণ
- পলং, লাল শাক কিংবা ধনেপাতার প্লেট — প্রতিটি পাতার সবুজ রংই ক্লোরোফিল, আর তার কেন্দ্রে ম্যাগনেসিয়াম আয়ন।
- বিয়ে বাড়ি বা শবে-বরাতের আতশবাজি — চোখ ধাঁধানো সাদা স্ফুলিঙ্গগুলো জ্বলছে ম্যাগনেসিয়াম।
- গ্যাস্ট্রিকের জন্য বাড়ির ওষুধের তাকের সেই সাদা ঘোলাটে বোতল — ঝাঁকালেই হাতে ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রক্সাইড।
ইতিহাস ও নাম
১৭৫৫ সালে স্কটল্যান্ডের রসায়নবিদ জোসেফ ব্ল্যাক প্রমাণ করেন, সাদা গুঁড়ো “ম্যাগনেসিয়া অ্যালবা” চুন নয়, স্বতন্ত্র এক পদার্থ — তখন থেকেই সন্দেহ, ভেতরে অজানা এক ধাতু অপেক্ষা করছে। ১৮০৮ সালে হামফ্রি ডেভি ম্যাগনেসিয়া ও পারদ-অক্সাইডের গরম মিশ্রণে তড়িৎ চালিয়ে অশুদ্ধ ম্যাগনেসিয়াম-অ্যামালগ্যাম সংগ্রহ করেন; খাঁটি ধাতু মেলে ১৮২৯ সালে, ফরাসি বিজ্ঞানী আঁতোয়ান বুসি ম্যাগনেসিয়াম ক্লোরাইডের ওপর দিয়ে পটাশিয়াম বাষ্প চালিয়ে। নামটি আমাদের নিয়ে যায় প্রাচীন গ্রিসে — থেসালির ম্যাগনেসিয়া অঞ্চলের খনিজ থেকেই জন্মেছে “ম্যাগনেট” আর “ম্যাঙ্গানিজ” শব্দও।
কাছাকাছি মৌল
সারণিতে এই মৌলের ঠিক পাশে বসে থাকা মৌলগুলো — প্রায়ই রসায়নে সবচেয়ে কাছের আত্মীয়।
