
নিয়ন (Ne)
“সারাদিন কিছুই করে না এমন এক গ্যাস — অথচ ভেতর দিয়ে বিদ্যুৎ চালানো মাত্রই দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে চড়া কমলা-লাল আলোয়।”
ইলেকট্রনগুলো কীভাবে সাজানো
আউফবাউ নীতি থেকে গণনা করা হয়, বাস্তবের পরিচিত ব্যতিক্রমগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য হয়।
নোটগুলো
বৈশিষ্ট্য
- ইলেকট্রন বিন্যাস 1s² 2s² 2p⁶ — পূর্ণ অষ্টক, তাই নিয়ন দাঁড়িয়ে আছে পর্যায় ২-এ, নিষ্ক্রিয় গ্যাসদের গ্রুপ ১৮-তে; ইলেকট্রন আহরণ বা ত্যাগ — কোনোটিই তার দরকার নেই।
- কোনো মৌলের সঙ্গে নিয়নের একটিও স্থায়ী যৌগ আজ পর্যন্ত বানানো যায়নি — রাসায়নিক আলস্যের দিক থেকে সম্ভবত এটিই নিখুঁত।
- মহাবিশ্বে পঞ্চম সর্বাধিক প্রাপ্ত মৌল, অথচ পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে মাত্র ০.০০১৮% — হালকা, অবন্ধিত নিয়ন পরমাণুরা আদিকালেই পৃথিবীর মহাকর্ষ ফাঁকি দিয়ে পালিয়েছিল।
- বিদ্যুৎ-উত্তেজিত নিয়ন পরমাণু যে বিখ্যাত কমলা-লাল আলো ছড়ায়, তার প্রধান রেখা প্রায় ৬৪০ ন্যানোমিটারে — ১৮৯৮ সালে এই আঙুলছাপেই এর পরিচয় ফুটে উঠেছিল।
বর্ণহীন, গন্ধহীন, একেবারে নিষ্ক্রিয় গ্যাস; ঘনত্ব বাতাসের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ। কাচের নলে বন্ধ করে তড়িৎদ্বার লাগিয়ে উচ্চ ভোল্টেজ দিলেই ঢেলে দেয় সেই চেনা কমলা-লাল আভা — এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে যে আলোয় জ্বলে দোকানের ফলক।
কোথায় দেখা মেলে
✦ ব্যবহার
- নিয়ন সাইনবোর্ড — খাঁটি নিয়নের নল বাংলাদেশের শহরের হোটেল, রেস্টুরেন্ট আর দোকানের ওপর কমলা-লাল আভা ঢালে; অন্য রঙের জন্য লাগে অন্য গ্যাস।
- নিয়ন টেস্টার স্ক্রুড্রাইভার — ডগায় বিদ্যুৎবাহী তার ছুঁলেই ভেতরের ক্ষুদ্র নিয়ন বাতিটা কমলা রঙে জ্বলে ওঠে; মিস্ত্রির সবচেয়ে সস্তা নিরাপত্তা-যন্ত্র।
- হিলিয়াম-নিয়ন (He-Ne) লেজার — দোকানের বারকোড রিডার আর লাইব্রেরির কাউন্টারে বহু বছর রাজত্ব করা সেই স্থির লাল রশ্মি।
- তরল নিয়ন শীতলক — লিটার প্রতি এটি তরল হিলিয়ামের চেয়ে অনেক বেশি তাপ শুষে নিতে পারে, তাই বিশেষ ক্রায়োজেনিক যন্ত্রে কাজে লাগে।
◍ দৈনন্দিন উদাহরণ
- ঢাকা, চট্টগ্রাম বা সিলেটের কোনো হোটেল-রেস্টুরেন্টের গুনগুনে আওয়াজওয়ালা নাম-ফলক — সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত জ্বলতে থাকা।
- মিস্ত্রির টেস্ট-কলমের ভেতরের সেই কমলা আভা — লাইভ তার পেলেই জ্বলে ওঠে।
- ২০০০-এর দশকের প্লাজমা টেলিভিশন — প্রতিটি পিক্সেল ছিল নিয়ন-জেনন মিশ্রণের ক্ষুদ্র কোষ, ভোল্টেজের স্পন্দনে যা জ্বলে উঠত।
ইতিহাস ও নাম
১৮৯৮ সালের জুনে লন্ডনের ইউনিভার্সিটি কলেজে স্যার উইলিয়াম র্যামজে ও তাঁর তরুণ সহকারী মরিস ট্র্যাভার্স তরল বায়ুর পর্যায়ক্রমিক পাতন চালিয়ে অজানা গ্যাসের খোঁজে ছিলেন। কয়েক সপ্তাহ আগে একই যন্ত্র থেকে উঠে এসেছিল ক্রিপ্টন; এবার নিম্ন-স্ফুটনাঙ্কের ভগ্নাংশ শূন্য নলে স্ফুলিঙ্গ দিতেই ঘর ভরে গেল এমন এক গাঢ় লাল দীপ্তিতে, যার নজির কেউ কখনো লেখেনি। ট্র্যাভার্স বিস্ময় নিয়ে লিখেছিলেন সেই “রক্তবর্ণ আলোর শিখার” কথা। নিষ্ক্রিয় গ্যাসের এই শিকারের জন্য ১৯০৪ সালে রসায়নে নোবেল পাওয়া র্যামজে নতুন মৌলটির নাম দেন নিয়ন — গ্রিক neos অর্থ “নতুন”। এরপর ১৯১০ সালে ফরাসি প্রকৌশলী জর্জ ক্লোদ প্রথম বদ্ধ নিয়ন বাতি দেখান — তখন থেকেই শহরের রাত জ্বলতে শুরু করেছে।
কাছাকাছি মৌল
সারণিতে এই মৌলের ঠিক পাশে বসে থাকা মৌলগুলো — প্রায়ই রসায়নে সবচেয়ে কাছের আত্মীয়।
