৪০Zrজিরকোনিয়াম91.224
জিরকোনিয়াম মৌলের প্রকৃত নমুনা
প্রকৃত নমুনার ছবি
স্থানান্তর ধাতু

জিরকোনিয়াম (Zr)

“পারমাণবিক জ্বালানি দণ্ড একে বিশ্বাস করে, কারণ চলে যাওয়া নিউট্রনকে এটি কাঁচা-কলেবরেও বিরক্ত করে না — অথচ রত্ন রূপে জিরকন ধরে রেখেছে পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন তারিখ-নির্ণীত খনিজের রেকর্ড।”

পারমাণবিক সংখ্যা৪০
পারমাণবিক ভর91.224
গ্রুপ৪
পর্যায়৫
ব্লকD-block
অবস্থাকঠিন
ইলেকট্রন কাঠামো

ইলেকট্রনগুলো কীভাবে সাজানো

Zr
[Kr] 4d2 5s2
শেল ১
২e⁻
শেল ২
৮e⁻
শেল ৩
১৮e⁻
শেল ৪
১০e⁻
শেল ৫
২e⁻

আউফবাউ নীতি থেকে গণনা করা হয়, বাস্তবের পরিচিত ব্যতিক্রমগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য হয়।

স্টাডি

নোটগুলো

মৌলটি সম্পর্কে

বৈশিষ্ট্য

  • ইলেকট্রন বিন্যাস [Kr] 4d² 5s² — পর্যায় ৫, গ্রুপ ৪-এর d-ব্লক স্থানান্তর ধাতু; চারটি ইলেকট্রন ছেড়ে সহজেই স্থিতিশীল, বর্ণহীন Zr⁴⁺ আয়ন হয়ে ওঠে।
  • নিউট্রনের কাছে বিখ্যাতভাবে “স্বচ্ছ” — তাপীয় নিউট্রন প্রায় বাধাহীনভাবে এর ভেতর দিয়ে চলে যায়; চুল্লির ভেতরে চাকরি জোটানোর একমাত্র সম্পত্তিই এটি।
  • রাসায়নিক যমজ ভাই হাফনিয়াম, যে সবসময় একই আকরিকে মিশে থাকে, কাজটা করে ঠিক উল্টোটা — নিউট্রন গিলে ফেলে; তাই চুল্লি-মানের জিরকোনিয়াম থেকে হাফনিয়াম যত্নে বাদ দিতেই হয়।
  • জিরকন (ZrSiO4\mathrm{ZrSiO_{4}}) দানা কোটি কোটি বছরের ক্ষয়েও টিকে থাকে — অস্ট্রেলিয়ার জ্যাক হিলসের ৪৪০ কোটি বছর পুরনো স্ফটিকগুলো এ পর্যন্ত তারিখ-নির্ণীত পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন টুকরো।
দেখতে কেমন

কঠিন, ধূসর-সাদা, রেশমি দ্যুতির ধাতু; শরীরে লাগানো অদৃশ্য সিরামিক-ধর্মী অক্সাইড প্রলেপ কোনো আঁচড়ের ক্ষত সঙ্গে সঙ্গেই নিজে থেকে সারিয়ে নেয় বলেই দ্যুতি টিকে থাকে। মানুষ আসলে এর সঙ্গে দেখা করে রত্ন হিসেবেই — জিরকন স্ফটিক আসে মধু-সোনালি, সমুদ্র-নীল, সবুজ আর বর্ণহীন হীরার-সদৃশ নানা রূপে।

বাস্তব জগৎ

কোথায় দেখা মেলে

✦ ব্যবহার

  • পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি-দণ্ডের খোল — ইউরেনিয়াম ডাই-অক্সাইডের টুকরো জিরকোনিয়াম সংকরের নলে আটকে রাখা হয়; পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রেও হয় ঠিক তাই।
  • ঘন জিরকোনিয়া — “আমেরিকান ডায়মন্ড” নামে সর্বত্র বিকি হওয়া ঝকঝকে, সস্তা হীরার নকল; জিরকোনিয়াম অক্সাইডের স্ফটিক, এক চিমটি ইট্রিয়াম অক্সাইডে যার ভঙ্গি সোজা করে রাখা।
  • জিরকোনিয়ার দাঁতের ক্রাউন ও রান্নাঘরের সিরামিক ছুরি — সাদা, ধাতুমুক্ত, অস্ত্রোপচারী-ব্লেডের মতো ধার ধরে রাখার মতো কঠিন, তবু মাড়ির প্রতি নরম।
  • ঢালাইকারখানার ছাঁচ ও চুল্লির ইটে জিরকন-বালি; জিরকোনিয়া সিরামিক জেট-ইঞ্জিনের ব্লেডে বর্ম হয়, আবার গাড়ির নিষ্কাশনে অক্সিজেন-সেন্সরের কাজও করে।

◍ দৈনন্দিন উদাহরণ

  • বাংলাদেশি গয়নার দোকানের কাঁচে ঝকমকে “আমেরিকান ডায়মন্ড”-এর দুল ও আংটি হলো ঘন জিরকোনিয়া — সবচেয়ে সাজানো অবতারে জিরকোনিয়াম।
  • “অ্যালুমিনিয়াম জিরকোনিয়াম” লেখা ডিওডোরেন্ট রোল-অন প্রতিদিন লাখো মানুষের কাছে মৌলটিকে পৌঁছে দেয়; দাঁতের ডাক্তারের সাদা সিরামিক ক্রাউনও অনেক সময় জিরকোনিয়া।
ইতিহাস

ইতিহাস ও নাম

রত্ন জিরকন হাজার বছর ধরে মানুষের প্রিয়; পুরনো জহুরিরা সোনালি পাথরগুলোকে ডাকতেন “জারগুন”। ১৭৮৯ সালে বার্লিনের নিজ গবেষণাগারে শ্রীলঙ্কান একটি জিরকন বিশ্লেষণ করে মার্টিন হাইনরিখ ক্লাপ্রোথ আলাদা করেন এক আজব সাদা অক্সাইড, নাম দেন জিরকোনিয়া — প্রাচীন রত্নের ভেতরে লুকিয়ে ছিল নতুন এক মৌল। হামফ্রি ডেভি ধাতুটিকে মুক্ত করতে ব্যর্থ হন; প্রথম অশুদ্ধ নমুনা জেতেন ইয়োন্স ইয়াকব বার্জেলিয়াস ১৮২৪ সালে, পটাশিয়াম ফ্লুরোজিরকোনেটের সঙ্গে ধাতব পটাশিয়াম গরম করে। সম্পূর্ণ খাঁটি, বাঁকানো যায় এমন জিরকোনিয়াম এলো কেবল ১৯২৫ সালে, ভ্যান আর্কেল ও দ্য বোরের আয়োডাইড পদ্ধতি ঘুরে।

নামের উৎসফারসি zargun — “সোনালি রঙের”; সোনালি জিরকন বোঝাতে জহুরিদের ব্যবহার করা শব্দটি আরবি ও জার্মান হয়ে “জিরকোনিয়াম”-এ পৌঁছেছে।
পাশের মৌল

কাছাকাছি মৌল

সারণিতে এই মৌলের ঠিক পাশে বসে থাকা মৌলগুলো — প্রায়ই রসায়নে সবচেয়ে কাছের আত্মীয়।