
স্ট্রনশিয়াম (Sr)
“আতশবাজির আকাশে যে টকটকে লাল আলো ফোটে, তা স্ট্রনশিয়ামের কীর্তি — স্কটল্যান্ডের এক ছোট্ট খনি-গ্রামের নামে নাম নেওয়া নরম মৃৎক্ষার ধাতু।”
ইলেকট্রনগুলো কীভাবে সাজানো
আউফবাউ নীতি থেকে গণনা করা হয়, বাস্তবের পরিচিত ব্যতিক্রমগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য হয়।
নোটগুলো
বৈশিষ্ট্য
- ইলেকট্রন বিন্যাস [Kr] 5s² — পর্যায় ৫, গ্রুপ ২, s-ব্লকের মৃৎক্ষার ধাতু; যোজ্যতা-স্তরের দুটি ইলেকট্রনই সহজে ছেড়ে দিয়ে Sr²⁺ আয়ন হয়ে যায়।
- ঠান্ডা পানির সঙ্গে জোরালো বিক্রিয়া — Sr + → + — ক্যালসিয়ামের চেয়ে প্রবল, যদিও বেরিয়ামের মতো উগ্র নয়; তেলের বোতলে সংরক্ষণের কারণও তাই।
- উদ্বায়ী লবণগুলো শিখাকে ভীষণ টকটকে লাল রঙে রাঙিয়ে দেয় — আতশবাজি, ফ্লেয়ার ও রেলের ফিউজের লাল আলো এই নির্গমনেরই দান।
- তেজস্ক্রিয় সমস্থানিক Sr-90 (অর্ধায়ু প্রায় ২৯ বছর) নিউক্লিয়ার ফিশনে জন্মায়, শরীরে ক্যালসিয়ামের ছদ্মবেশ নিয়ে হাড়ে বসে যায় — পারমাণবিক ধূলিকণার সবচেয়ে ভয়ের উপাদান এটি; অথচ ইনজেকশনে দেওয়া Sr-89 ক্লোরাইড হাড়ের ক্যান্সারের যন্ত্রণা উপশম করে।
নরম, রুপালি-সাদা ধাতু; সদ্য কাটা জায়গায় হালকা সোনালি আভা দেখা যায়। বাতাসের সঙ্গে বিক্রিয়ায় এতটাই আগ্রহী যে টুকরোগুলো খনিজ তেলের নিচে জমা রাখতে হয়, আর ঘষামাজা করা পৃষ্ঠের দ্যুতি খোলা বাতাসে কয়েক মিনিটেই ম্লান হয়ে যায়।
কোথায় দেখা মেলে
✦ ব্যবহার
- আতশবাজির লাল তারা — স্ট্রনশিয়াম নাইট্রেট ও স্ট্রনশিয়াম কার্বনেট মিলেই ঢাকার বিয়েবাড়ির আতশবাজি থেকে ক্রিকেট-জয়ের রাত পর্যন্ত প্রতিটি টকটকে লাল বিস্ফোরণের রং ও অক্সিজেন জোগায়।
- স্ট্রনশিয়াম ফেরাইট () স্থায়ী চুম্বক — স্পিকার, ফ্রিজের দরজার চুম্বক আর ফ্যান-খেলনার ছোট মোটরের ভেতরের সস্তা, মরচে-প্রতিরোধী চুম্বক।
- “সংবেদনশীল দাঁতের” পেস্টে স্ট্রনশিয়াম ক্লোরাইড — ঠান্ডা পানি লাগলেই যেসব খোলা অণু-নালি ঝিঁঝিঁ ধরায়, দাঁতের ডেন্টিনের সেগুলোই বন্ধ করে দেয়।
- স্ট্রনশিয়াম অ্যালুমিনেট () অন্ধকারে-জ্বলা রং — জরুরি বাহির-হওয়ার সাইন, ঘড়ির ডায়াল আর শিশুদের সিলিঙের তারার সবুজ আভা এরই দান।
◍ দৈনন্দিন উদাহরণ
- বিয়েবাড়ি, ঈদের মেলা কিংবা ক্রিকেট-জয়ের আতশবাজিতে যে লাল বিস্ফোরণ দেখবে, তা প্রায় নিশ্চিতভাবেই ২০০০°C-এর ওপরে জ্বলছে স্ট্রনশিয়ামের লবণ।
- বেডরুমের সিলিঙে সাঁটানো আলো-জ্বলা তারা-স্টিকার বাতি নেভানোর পরও কয়েক মিনিট জ্বলতে থাকে — জমা রাখা দিনের আলো ফিরিয়ে দিচ্ছে স্ট্রনশিয়াম অ্যালুমিনেট।
- ফার্মেসির তাকে রাখা কিছু সংবেদনশীল-দাঁতের পেস্টের টিউবে উপাদানের তালিকায় স্পষ্ট লেখাই থাকে স্ট্রনশিয়াম ক্লোরাইড হেক্সাহাইড্রেট।
ইতিহাস ও নাম
১৭৮৭ সালে পশ্চিম স্কটল্যান্ডের হাইল্যান্ড গ্রাম স্ট্রনশিয়ানের সিসার খনিতে কাজরত শ্রমিকরা তুলে আনেন এমন এক ভারী খনিজ, যার শ্রেণিবিভাগ কেউ করতে পারছিল না। ১৭৯০ সালে আইরিশ রসায়নবিদ অ্যাডেয়ার ক্রফোর্ড দেখান, দেখতে বেরিয়াম-খনিজের মতো হলেও এই “স্ট্রনশিয়ানাইট” তাদের মতো আচরণ করে না-ই; শিগগিরই এডিনবরার টমাস চার্লস হোপ নিশ্চিত করেন যে এর ভেতরে আছে সম্পূর্ণ অচেনা এক নতুন মৌলের অক্সাইড — রমরমিয়ে টকটকে লাল শিখাই ছিল প্রমাণ। ধাতুটি নিজে অবশ্য ১৮০৮ সাল অবধি অপেক্ষায় ছিল, যখন হামফ্রি ডেভি তড়িৎবিশ্লেষ্য পদ্ধতিতে একে পৃথক করেন। এভাবেই স্ট্রনশিয়াম হয়ে ওঠে পর্যায় সারণির একমাত্র মৌল, যার নাম স্কটল্যান্ডের কোনো জায়গার নাম থেকে এসেছে।
কাছাকাছি মৌল
সারণিতে এই মৌলের ঠিক পাশে বসে থাকা মৌলগুলো — প্রায়ই রসায়নে সবচেয়ে কাছের আত্মীয়।
