
টিন (Sn)
“ব্রোঞ্জ যুগে তামার গোপন সঙ্গী এই ধাতু — পাঁচ হাজার বছর পরেও বাংলাদেশের দুধের ক্যান থেকে মোবাইলের সার্কিট পর্যন্ত সর্বত্র টিন।”
ইলেকট্রনগুলো কীভাবে সাজানো
আউফবাউ নীতি থেকে গণনা করা হয়, বাস্তবের পরিচিত ব্যতিক্রমগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য হয়।
নোটগুলো
বৈশিষ্ট্য
- ইলেকট্রন বিন্যাস [Kr] 4d¹⁰ 5s² 5p² — গ্রুপ ১৪, পর্যায় ৫, p-ব্লকের উত্তর-স্থানান্তর ধাতু; চারটি যোজনী ইলেকট্রন নিয়ে +২ (SnO) ও +৪ () দুই জারণ অবস্থাই দেখায়।
- নাটকীয় অ্যালোট্রপি: ১৩.২ °C-এর ওপরে সাদা β-টিন ঝকঝকে সাধারণ ধাতু, কিন্তু দীর্ঘ শীতে তা ভেঙে গুঁড়ো ধূসর α-টিনে পরিণত হয় — এই ক্ষয়ের নামই “টিন পেস্ট”।
- পানি ও মৃদু অ্যাসিডের আক্রমণ সহজে সামলায়, তাই কাগজের মতো পাতলা টিন-প্রলেপও খাদ্য-ক্যানের ইস্পাতকে তাকে-রাখা বছরের পর বছর অক্ষত রাখে।
- মাত্র ২৩২ °C-এ গলে, বাঁকালে ফটফট “টিনের কান্না” জাগায় — হাতে ধরার মতো নিরাপদ ধাতু হলেও প্রকৃতিতে মুক্ত অবস্থায় কখনও পাওয়া যায় না।
মৃদু হলদে ঝিলিকের নরম, রুপালি-সাদা ধাতু — হাতেই বাঁকানো যায়, পাতলা পাতেও গড়ানো যায়। দণ্ড বাঁকালে ফটফট শব্দ ওঠে — বিখ্যাত “টিনের কান্না” — ধাতুর ভেতরে যুগ্ম-স্ফটিক সরে যাওয়ার সেই আওয়াজ।
কোথায় দেখা মেলে
✦ ব্যবহার
- খাদ্য-ক্যানের ইস্পাতে টিন-প্রলেপ — বাংলাদেশের দোকানের তাক ভরা কনডেন্সড মিল্ক, মাছ ও ফলের চেনা “টিন”।
- ইলেকট্রনিক্সের সোল্ডার — চিরাচরিত টিন-সীসা থেকে আধুনিক সীসামুক্ত টিন-রূপা-তামা সংকর, যা ফোনের সার্কিট বোর্ডের জোড়গুলো আঁটে।
- তামার সঙ্গে মিলে ব্রোঞ্জ — ঘণ্টা, মূর্তি ও মুদ্রায়; পিউটারের থালাবাসনে; আর জানালার শিট-কাচ গলিত টিনের স্নানে ভেসে ভেসে সমতল হয় (ফ্লোট গ্লাস)।
- টুথপেস্টের স্ট্যানাস ফ্লোরাইড () দাঁতের ক্ষয় রোখে, আর অর্গানোটিন স্ট্যাবিলাইজার রোদে PVC পাইপ-প্লাস্টিক ভাঙা-ভাঙা হওয়া থেকে বাঁচায়।
◍ দৈনন্দিন উদাহরণ
- বাংলাদেশের রান্নাঘরের কনডেন্সড মিল্ক বা টিনের মাছ — ভেতরে ইস্পাত, বাইরে টিনের পাতলা পোশাক।
- টিভি, মোবাইল ও রেডিওর ভেতরে যত সোল্ডারের সীম, প্রতিটিই টিনের সংকর ধাতুতে আঁটা।
- স্কুল বা মন্দিরের ব্রোঞ্জের ঘণ্টা, আর ক্লাসে টিনের ফিতে বাঁকিয়ে “টিনের কান্না” শোনানোর চিরায়ত প্রদর্শনী।
ইতিহাস ও নাম
টিনের কোনো একক আবিষ্কারক নেই: খ্রিস্টপূর্ব প্রায় ৩০০০ অব্দে তামার সঙ্গে মিশে এটি ব্রোঞ্জ গড়ল, আর সেই সংকরের নামেই ইতিহাসের গোটা এক যুগের নাম হলো ব্রোঞ্জ যুগ। প্রাচীন বণিকরা কর্নওয়ালের টিন-স্রোত আর প্রাচ্যের খনির পথে দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রার ঝুঁকি নিত — বেচাকেনা চলত ক্যাসিটেরাইট () নামের ঘন কালো “টিন-পাথরে”, যা আজও টিনের একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ আকরিক। প্রতীক Sn এসেছে রোমানদের দেওয়া নাম ল্যাটিন stannum থেকে।
কাছাকাছি মৌল
সারণিতে এই মৌলের ঠিক পাশে বসে থাকা মৌলগুলো — প্রায়ই রসায়নে সবচেয়ে কাছের আত্মীয়।
