৫০Snটিন118.71
টিন মৌলের প্রকৃত নমুনা
প্রকৃত নমুনার ছবি
উত্তর-স্থানান্তর ধাতু

টিন (Sn)

“ব্রোঞ্জ যুগে তামার গোপন সঙ্গী এই ধাতু — পাঁচ হাজার বছর পরেও বাংলাদেশের দুধের ক্যান থেকে মোবাইলের সার্কিট পর্যন্ত সর্বত্র টিন।”

পারমাণবিক সংখ্যা৫০
পারমাণবিক ভর118.71
গ্রুপ১৪
পর্যায়৫
ব্লকP-block
অবস্থাকঠিন
ইলেকট্রন কাঠামো

ইলেকট্রনগুলো কীভাবে সাজানো

Sn
[Kr] 4d10 5s2 5p2
শেল ১
২e⁻
শেল ২
৮e⁻
শেল ৩
১৮e⁻
শেল ৪
১৮e⁻
শেল ৫
৪e⁻

আউফবাউ নীতি থেকে গণনা করা হয়, বাস্তবের পরিচিত ব্যতিক্রমগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য হয়।

স্টাডি

নোটগুলো

মৌলটি সম্পর্কে

বৈশিষ্ট্য

  • ইলেকট্রন বিন্যাস [Kr] 4d¹⁰ 5s² 5p² — গ্রুপ ১৪, পর্যায় ৫, p-ব্লকের উত্তর-স্থানান্তর ধাতু; চারটি যোজনী ইলেকট্রন নিয়ে +২ (SnO) ও +৪ (SnO2\mathrm{SnO_{2}}) দুই জারণ অবস্থাই দেখায়।
  • নাটকীয় অ্যালোট্রপি: ১৩.২ °C-এর ওপরে সাদা β-টিন ঝকঝকে সাধারণ ধাতু, কিন্তু দীর্ঘ শীতে তা ভেঙে গুঁড়ো ধূসর α-টিনে পরিণত হয় — এই ক্ষয়ের নামই “টিন পেস্ট”।
  • পানি ও মৃদু অ্যাসিডের আক্রমণ সহজে সামলায়, তাই কাগজের মতো পাতলা টিন-প্রলেপও খাদ্য-ক্যানের ইস্পাতকে তাকে-রাখা বছরের পর বছর অক্ষত রাখে।
  • মাত্র ২৩২ °C-এ গলে, বাঁকালে ফটফট “টিনের কান্না” জাগায় — হাতে ধরার মতো নিরাপদ ধাতু হলেও প্রকৃতিতে মুক্ত অবস্থায় কখনও পাওয়া যায় না।
দেখতে কেমন

মৃদু হলদে ঝিলিকের নরম, রুপালি-সাদা ধাতু — হাতেই বাঁকানো যায়, পাতলা পাতেও গড়ানো যায়। দণ্ড বাঁকালে ফটফট শব্দ ওঠে — বিখ্যাত “টিনের কান্না” — ধাতুর ভেতরে যুগ্ম-স্ফটিক সরে যাওয়ার সেই আওয়াজ।

বাস্তব জগৎ

কোথায় দেখা মেলে

✦ ব্যবহার

  • খাদ্য-ক্যানের ইস্পাতে টিন-প্রলেপ — বাংলাদেশের দোকানের তাক ভরা কনডেন্সড মিল্ক, মাছ ও ফলের চেনা “টিন”।
  • ইলেকট্রনিক্সের সোল্ডার — চিরাচরিত টিন-সীসা থেকে আধুনিক সীসামুক্ত টিন-রূপা-তামা সংকর, যা ফোনের সার্কিট বোর্ডের জোড়গুলো আঁটে।
  • তামার সঙ্গে মিলে ব্রোঞ্জ — ঘণ্টা, মূর্তি ও মুদ্রায়; পিউটারের থালাবাসনে; আর জানালার শিট-কাচ গলিত টিনের স্নানে ভেসে ভেসে সমতল হয় (ফ্লোট গ্লাস)।
  • টুথপেস্টের স্ট্যানাস ফ্লোরাইড (SnF2\mathrm{SnF_{2}}) দাঁতের ক্ষয় রোখে, আর অর্গানোটিন স্ট্যাবিলাইজার রোদে PVC পাইপ-প্লাস্টিক ভাঙা-ভাঙা হওয়া থেকে বাঁচায়।

◍ দৈনন্দিন উদাহরণ

  • বাংলাদেশের রান্নাঘরের কনডেন্সড মিল্ক বা টিনের মাছ — ভেতরে ইস্পাত, বাইরে টিনের পাতলা পোশাক।
  • টিভি, মোবাইল ও রেডিওর ভেতরে যত সোল্ডারের সীম, প্রতিটিই টিনের সংকর ধাতুতে আঁটা।
  • স্কুল বা মন্দিরের ব্রোঞ্জের ঘণ্টা, আর ক্লাসে টিনের ফিতে বাঁকিয়ে “টিনের কান্না” শোনানোর চিরায়ত প্রদর্শনী।
ইতিহাস

ইতিহাস ও নাম

টিনের কোনো একক আবিষ্কারক নেই: খ্রিস্টপূর্ব প্রায় ৩০০০ অব্দে তামার সঙ্গে মিশে এটি ব্রোঞ্জ গড়ল, আর সেই সংকরের নামেই ইতিহাসের গোটা এক যুগের নাম হলো ব্রোঞ্জ যুগ। প্রাচীন বণিকরা কর্নওয়ালের টিন-স্রোত আর প্রাচ্যের খনির পথে দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রার ঝুঁকি নিত — বেচাকেনা চলত ক্যাসিটেরাইট (SnO2\mathrm{SnO_{2}}) নামের ঘন কালো “টিন-পাথরে”, যা আজও টিনের একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ আকরিক। প্রতীক Sn এসেছে রোমানদের দেওয়া নাম ল্যাটিন stannum থেকে।

নামের উৎসইংরেজি tin শব্দ প্রাচীন ইংরেজি tinna থেকে; প্রতীক Sn এসেছে ল্যাটিন stannum — রোমানদের দেওয়া এই ধাতুর নাম থেকে।
পাশের মৌল

কাছাকাছি মৌল

সারণিতে এই মৌলের ঠিক পাশে বসে থাকা মৌলগুলো — প্রায়ই রসায়নে সবচেয়ে কাছের আত্মীয়।