
ক্যাডমিয়াম (Cd)
“পুরনো রিচার্জেবল ব্যাটারির নরম রুপালি ধাতু — অথচ ইতিহাসের অন্যতম যন্ত্রণাদায়ক বিষক্রিয়ার নায়কও এই মৌলই।”
ইলেকট্রনগুলো কীভাবে সাজানো
আউফবাউ নীতি থেকে গণনা করা হয়, বাস্তবের পরিচিত ব্যতিক্রমগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য হয়।
নোটগুলো
বৈশিষ্ট্য
- d-ব্লকের ধাতু, ইলেকট্রন বিন্যাস [Kr] 4d¹⁰ 5s²: বাইরের দুটি ইলেকট্রন ছেড়ে Cd²⁺ আয়ন গড়ে, আর জিংক ও পারদের পাশে পর্যায় ৫-এর গ্রুপ ১২-এ বসে।
- কম মাত্রায়ও দীর্ঘদিনের সংস্পর্শ ভয়ংকর: ক্যাডমিয়াম কিডনিতে কয়েক দশক জমে থাকে, আর জাপানে খনির বর্জ্যের পানিতে দূষিত ধানখেতে একদা দেখা গিয়েছিল হাড়-ভাঙা যন্ত্রণার “ইতাই-ইতাই” রোগ।
- ক্ষয় ও ক্ষারের বিরুদ্ধে অসাধারণ টেকসই, তাই বোল্ট ও বিমানের ল্যান্ডিং-গিয়ারে দেওয়া পাতলা তড়িৎ-প্রলেপিত ক্যাডমিয়ামের আস্তরণ একসময় লবণ-বাতাসের আক্রমণ আটকাত।
- সমস্থানিক ক্যাডমিয়াম-১১৩ নিউট্রন প্রায় লোভের সঙ্গে গিলে ফেলে — এই ধর্মেই ক্যাডমিয়ামের নিয়ন্ত্রণ-দণ্ড চুল্লির ভেতরে চেইন-বিক্রিয়াকে বশ মানাতে পারে।
হালকা নীলাভ আভায় নরম, রুপালি-সাদা ধাতু — ছুরি দিয়ে সহজেই কাটা যায়। কাটা তল প্রথমে ঝকঝকে ঝিলিক দেয়, পরে আর্দ্র বাতাসে ধীরে ম্লান হয়; আর সমান আয়তনের জিংকের দণ্ডের তুলনায় ক্যাডমিয়ামের দণ্ড স্পষ্টতই ভারী লাগে।
কোথায় দেখা মেলে
✦ ব্যবহার
- নিকেল-ক্যাডমিয়াম (Ni-Cd) রিচার্জেবল ব্যাটারি — বাংলাদেশের বাড়ির জরুরি বাতি, কর্ডলেস ফোন ও পাওয়ার টুলে বছরের পর বছর চলা মজবুত সেল।
- ক্যাডমিয়াম সালফাইড-সেলেনাইড রং — শিল্পীদের তেলরঙের ঝকঝকে ক্যাডমিয়াম হলুদ ও ক্যাডমিয়াম লাল, কখনো উজ্জ্বল প্লাস্টিকেও।
- তড়িৎ-প্রলেপিত ক্যাডমিয়ামের আস্তরণ নিজে ক্ষয় হয়ে সমুদ্রের লবণ-বাতাস থেকে ইস্পাতের বোল্ট ও বিমানের যন্ত্রাংশকে বাঁচায়।
- পারমাণবিক চুল্লির নিউট্রন-শোষী নিয়ন্ত্রণ-দণ্ড; আর ক্যাডমিয়াম সেলেনাইডের কোয়ান্টাম ডট আজও দামি QLED টেলিভিশনের পর্দায় রং ছড়ায়।
◍ দৈনন্দিন উদাহরণ
- বাড়ির পুরনো জরুরি বাতি বা কর্ডলেস ফোনে ভেতরে থাকা Ni-Cd রিচার্জেবল ব্যাটারি প্যাক।
- সিগারেটের ধোঁয়া ক্যাডমিয়াম সোজা ফুসফুসে পৌঁছে দেয় — ধূমপায়ীদের দেহে এর ভার সাধারণত প্রায় দ্বিগুণ থাকে।
- দূষিত মাটিতে চাষ হলে ধানের দানায় ক্যাডমিয়াম ঢুকে পড়তে পারে — খাদ্যে ভারী ধাতুর মাত্রা নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কড়া নজরদারির বড় কারণ এটি।
ইতিহাস ও নাম
১৮১৭ সালে জার্মান রসায়নবিদ ফ্রিডরিখ স্ট্রোমায়ার ওষুধের দোকানের মজুদ পরীক্ষা করতে গিয়ে দেখেন, ক্যালামাইন (জিংক কার্বনেট) কারও নমুনা গরম করলে ময়লা-হলদে হয়ে যায়, আবার কারওটা সাদাই থাকে। পার্থক্যের পেছনে গিয়ে তিনি আকরিকটি কার্বন দিয়ে বিজারিত করে পান নতুন এক নরম নীলাভ-সাদা ধাতু, যার নাম দেন ক্যাডমিয়াম — ল্যাটিন cadmia অর্থাৎ ক্যালামাইন আকরিকের প্রাচীন নাম থেকে। একই বছরে কার্ল স্যামুয়েল লেবেরেখট হারমান স্বাধীনভাবে ধাতুটি শনাক্ত করেন — ফলে আকরিকের ভেতরে লুকানো অসংযুক্ত পদার্থ থেকে আবিষ্কৃত সবচেয়ে প্রথম দিকের মৌলগুলোর একটি হয়ে ওঠে ক্যাডমিয়াম।
কাছাকাছি মৌল
সারণিতে এই মৌলের ঠিক পাশে বসে থাকা মৌলগুলো — প্রায়ই রসায়নে সবচেয়ে কাছের আত্মীয়।
