
আয়োডিন (I)
“সমুদ্রশৈবালের ছাই থেকে ওঠা বেগুনি ধোঁয়া — আজ বাংলাদেশের প্রতিটি থাইরয়েডকে পাহারা দেয় এক চিমটি আয়োডিনযুক্ত লবণ হয়ে।”
ইলেকট্রনগুলো কীভাবে সাজানো
আউফবাউ নীতি থেকে গণনা করা হয়, বাস্তবের পরিচিত ব্যতিক্রমগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য হয়।
নোটগুলো
বৈশিষ্ট্য
- গ্রুপ ১৭, পর্যায় ৫, p-ব্লকের হ্যালোজেন: ইলেকট্রন বিন্যাস [Kr] 4d¹⁰ 5s² 5p⁵ — অষ্টক পূরণে ঠিক একটি ইলেকট্রনের ঘাটতি, তাই সে আগ্রহে ইলেকট্রন ছিনিয়ে নেয়।
- কক্ষ তাপমাত্রায় কঠিন হয়েও সহজে ঊর্ধ্বপাতিত হয় — অণুর ভেসে বেড়ানো বেগুনি মেঘ রসায়নের অন্যতম মনোহর দৃশ্য।
- খাঁটি পানিতে প্রায় অদ্রবণীয়, কিন্তু পটাশিয়াম আয়োডাইড দ্রবণে (লুগলের আয়োডিন) দারুণ ভালো দ্রবীভূত হয় — চিকিৎসা-প্রস্তুতির ভিত্তি এটাই।
- অপরিহার্য অণু-পুষ্টি উপাদান: গলার থাইরয়েড গ্রন্থি আয়োডিন জমা করে গড়ে তোলে T₃ ও T₄ হরমোন, যারা নির্ধারণ করে বিপাকের গতি; ঘাটতি পেলে গ্রন্থি ফুলে ওঠে — গলগণ্ড।
ঝকঝকে নীলচে-কালো স্ফটিক কঠিন, দেখতে প্রায় ধাতব — কক্ষ তাপমাত্রায় কঠিন থাকা একমাত্র হ্যালোজেন। আলতো গরম করলে তরল ধাপ পেরোতেই না পেরোতে সোজা উড়ে হয়ে যায় মনোরম বেগুনি বাষ্প।
কোথায় দেখা মেলে
✦ ব্যবহার
- আয়োডিনযুক্ত লবণ — বাংলাদেশের জাতীয় লবণ আয়োডিনীকরণ কর্মসূচি প্রতিটি প্যাকেটে পটাশিয়াম আয়োডেট মেশায়, একদা লাখো মানুষের কষ্টের গলগণ্ডকে ঠেকিয়ে দিয়ে।
- ক্ষতের জীবাণুনাশক: টিংচার অব আয়োডিন ও পোভিডোন-আয়োডিন — প্রতিটি ওষুধের দোকানে রাখা কমলা “বেটাডিন” — কাটা-ছড়া শুদ্ধ করে।
- পারমাণবিক জরুরি পরিস্থিতিতে পটাশিয়াম আয়োডাইড ট্যাবলেট থাইরয়েডকে স্থিতিশীল আয়োডিনে ভরিয়ে দিয়ে তেজস্ক্রিয় আয়োডিন-১৩১-এর পথ রুদ্ধ করে।
- এক্স-রে ও সিটি স্ক্যানে রক্তনালী উজ্জ্বল করা আয়োডিন-জাত কনট্রাস্ট ডাই, আর মেঘে বৃষ্টি ধরিয়ে আনা রুপার আয়োডাইডের () স্ফটিক।
◍ দৈনন্দিন উদাহরণ
- বাংলাদেশের রান্নাঘরের লবণের টিনে মোড়া “আয়োডিনযুক্ত” ছাপ — প্রতি বেলার খাবারের সঙ্গেই আয়োডিনের ছোট্ট ডোজ ঢুকছে।
- ঘষা লাগা হাঁটুতে বেটাডিনের কমলা এক ফোঁটা — সেখানে জীবাণুনাশক হিসেবেই কাজ করছে আয়োডিন।
- সামুদ্রিক মাছ, চিংড়ি ও শৈবাল সমুদ্রের পানি থেকে আয়োডিন জমায় — খাদ্যতালিকার সবচেয়ে ধনী প্রাকৃতিক উৎস এগুলোই।
ইতিহাস ও নাম
১৮১১ সালে নেপোলিয়নীয় যুদ্ধের প্রকট দিনে প্যারিসের শোরা (স্যালিটার) ব্যবসায়ী বার্নার্ড কুর্তোয়া বারুদের কাঁচামাল জোগাতে সমুদ্রশৈবাল পুড়িয়ে সোডা বানাচ্ছিলেন। একদিন মাদার-দ্রবণে ঘন সালফিউরিক অ্যাসিড ঢালতে গিয়ে তিনি হদয়ে বেশি ঢেলে ফেললেন — সঙ্গে সঙ্গে বেগুনি ধোঁয়ার ঢেউ ঠিকরে উঠল, আর ঠান্ডা কাচে জমে গেল কালচে ঝিলমিলে স্ফটিক। নমুনা পৌঁছাল রসায়নবিদ ক্লেমাঁ ও দেজর্মের হাতে, আর ১৮১৩ নাগাদ গে-লুসাক ও ডেভি দুজনেই দেখালেন স্ফটিকগুলো নতুন এক মৌল — গে-লুসাকের দেওয়া নাম আয়োডিন, গ্রিক iōdēs অর্থ “বেগুনি রঙা”, কুর্তোয়ার চোখের সামনে প্রথম যে বাষ্প উঠেছিল তারই সম্মানে।
কাছাকাছি মৌল
সারণিতে এই মৌলের ঠিক পাশে বসে থাকা মৌলগুলো — প্রায়ই রসায়নে সবচেয়ে কাছের আত্মীয়।
