৫৫Csসিজিয়াম132.91
সিজিয়াম মৌলের প্রকৃত নমুনা
প্রকৃত নমুনার ছবি
ক্ষার ধাতু

সিজিয়াম (Cs)

“তালুর উষ্ণতাতেই গলে যাওয়া ধাতু — অথচ এর পরমাণুর কম্পনের হিসাবেই আজ বিশ্বের প্রতিটি সেকেন্ডের মান নির্ধারিত।”

পারমাণবিক সংখ্যা৫৫
পারমাণবিক ভর132.91
গ্রুপ১
পর্যায়৬
ব্লকS-block
অবস্থাকঠিন
ইলেকট্রন কাঠামো

ইলেকট্রনগুলো কীভাবে সাজানো

Cs
[Xe] 6s1
শেল ১
২e⁻
শেল ২
৮e⁻
শেল ৩
১৮e⁻
শেল ৪
১৮e⁻
শেল ৫
৮e⁻
শেল ৬
১e⁻

আউফবাউ নীতি থেকে গণনা করা হয়, বাস্তবের পরিচিত ব্যতিক্রমগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য হয়।

স্টাডি

নোটগুলো

মৌলটি সম্পর্কে

বৈশিষ্ট্য

  • ইলেকট্রন বিন্যাস [Xe] 6s¹ — একটিমাত্র আলগা যোজ্যতা ইলেকট্রন, যার জন্য স্থায়ী মৌলদের মধ্যে আয়নীকরণ শক্তি সর্বনিম্ন; পর্যায় ৬, গ্রুপ ১ — ক্ষার ধাতুদের ভারী প্রান্তের সদস্য।
  • ভয়ঙ্কর সক্রিয়: পানির সঙ্গে দেখা হলেই বিস্ফোরণ ঘটে — শূন্যের আরও শতাধিক ডিগ্রি নিচে জমাট বরফের সঙ্গেও; চারপাশের হাইড্রোজেন দাউদাউ করে জ্বলতে থাকলে টুকরোটি পানির ওপর দিয়ে ছুটে বেড়ায়।
  • ২৮.৫ °C-তেই গলে যায় — ঢাকার এক রোদেলা দুপুরের উষ্ণতাই যথেষ্ট; সিল করা শিশিতে হাতে ধরে রাখলে শুধু তালুর গরমেই টুকরোটি ধীরে তরল হতে থাকে।
  • রূপোলি নয়, ফ্যাকাশে সোনালি — নীল আলো সম্পূর্ণ প্রতিফলিত না করে কিছুটা শুষে নেওয়া মাত্র তিনটি ধাতুর (সোনা ও তামার সঙ্গে) একটি এটি।
দেখতে কেমন

সব ধাতুর মধ্যে সবচেয়ে নরম — ফ্যাকাশে সোনালি রঙের খণ্ড, চামচের চাপেই বসে যায়; আর মাত্র ২৮.৫ °C তাপমাত্রায় গলে যায় বলে কক্ষ-তাপমাত্রার কাছাকাছি তরল ধাতু এটাই অন্যতম। শুধু শুকনো বাতাসেই এটি জ্বলে ওঠে, তাই আর্গন বা তেলে ভরা কাচের শিশিতে সিল করে রাখতে হয়।

বাস্তব জগৎ

কোথায় দেখা মেলে

✦ ব্যবহার

  • সময়েরই সংজ্ঞা: সিজিয়াম-১৩৩ পরমাণুর মাইক্রোওয়েভ রূপান্তরের ৯,১৯২,৬৩১,৭৭০ কম্পন মিলে হয় এক SI সেকেন্ড — সেরা সিজিয়াম ঘড়িগুলো ১০ কোটি বছরে এক সেকেন্ডের তফাতও করে না।
  • প্রতিটি GPS স্যাটেলাইট ও টেলিকম নেটওয়ার্ক নির্ভর করে সিজিয়াম-শিক্ষানবিশ ঘড়ির ওপর, ফলে ঢাকার বাসে চলা ম্যাপ অ্যাপ থেকে মোবাইল টাওয়ারের সংকেত-বিনিময় — সবকিছু নিখুঁত এক তালে চলে।
  • সিজিয়াম ফরমেট লবণ-দ্রবণ — অত্যন্ত ঘন অথচ যন্ত্রপাতির প্রতি কোমল — গভীর খননের প্রচণ্ড তাপ-চাপে থাকা তেল ও গ্যাস কূপকে স্থিতিশীল রাখে।
  • আলোর মৃদুতম ছোঁয়াতেই ইলেকট্রন ঢেলে দেওয়া ফটোক্যাথোড: নাইট-ভিশন টিউব, ফটোমাল্টিপ্লায়ার কিংবা পুরোনো টেলিভিশন ক্যামেরার ভেতরে বসে থাকে সিজিয়ামের পৃষ্ঠ।

◍ দৈনন্দিন উদাহরণ

  • পদার্থবিজ্ঞানের বইয়ে ছাপা “সেকেন্ড”-এর সংজ্ঞা সূর্যও দেয়নি, দুলকির ঘড়িও নয় — দিয়েছে সিজিয়াম-১৩৩; একটি SI এককের মালিক একমাত্র মৌল এটিই।
  • ঢাকার রাস্তায় সিএনজি বা বাসের গতি পরখ করা ম্যাপ অ্যাপ নিজের অবস্থান বের করে স্যাটেলাইট-সময় থেকে, যার চূড়ান্ত মানদণ্ড সিজিয়াম ঘড়ি।
  • বন্যপ্রাণীর ডকুমেন্টারিতে রাতের সবুজাভ ঝাপসা ফুটেজ ধরা পড়ে এমন টিউবে, যার সিজিয়াম-মাখা পৃষ্ঠ প্রায় অন্ধকারেই দেখতে পায়।
ইতিহাস

ইতিহাস ও নাম

১৮৬০ সালে হাইডেলবার্গে রবার্ট বুনসেন ও গুস্তাফ কার্শফ নতুন উদ্ভাবিত স্পেকট্রোস্কোপ ধরলেন ডুর্কহাইমের খনিজ জলের দিকে — আর ধরা পড়ল দুটি উজ্জ্বল আকাশি-নীল রেখা, যা কোনো পরিচিত মৌলেরই নয়। বর্ণালি-বিশ্লেষণে আবিষ্কৃত প্রথম মৌল এটিই। ল্যাটিন caesius অর্থ “আকাশি-নীল” — সেই রেখার রঙের প্রতিই নাম হলো সিজিয়াম। ধাতুটি এমন বিক্ষিপ্ত যে বুনসেন নিজেও কখনো খাঁটি অবস্থায় দেখেননি; কেবল ১৮৮২ সালে কার্ল সেটারবার্গ গলিত সিজিয়াম সায়ানাইডের তড়িৎ-বিশ্লেষ্য করে অবশেষে সোনালি ধাতুর প্রথম দৃশ্যমান ফোঁটাগুলো বের করে আনেন।

নামের উৎসল্যাটিন caesius অর্থ “আকাশি-নীল” — ১৮৬০ সালে যে দুটি উজ্জ্বল নীল বর্ণালী-রেখা মৌলটিকে ফাঁস করে দিয়েছিল, তারই স্মৃতি।
পাশের মৌল

কাছাকাছি মৌল

সারণিতে এই মৌলের ঠিক পাশে বসে থাকা মৌলগুলো — প্রায়ই রসায়নে সবচেয়ে কাছের আত্মীয়।