৫৬Baবেরিয়াম137.33
বেরিয়াম মৌলের প্রকৃত নমুনা
প্রকৃত নমুনার ছবি
মৃৎক্ষার ধাতু

বেরিয়াম (Ba)

“ইঁদুর মারতেও ব্যবহৃত হয় যে বিষাক্ত ধাতু, তার সালফেটই আবার ডাক্তাররা রোগীর গলা বেয়ে ঢালেন অন্ত্রের এক্স-রে ছবি তোলার জন্য।”

পারমাণবিক সংখ্যা৫৬
পারমাণবিক ভর137.33
গ্রুপ২
পর্যায়৬
ব্লকS-block
অবস্থাকঠিন
ইলেকট্রন কাঠামো

ইলেকট্রনগুলো কীভাবে সাজানো

Ba
[Xe] 6s2
শেল ১
২e⁻
শেল ২
৮e⁻
শেল ৩
১৮e⁻
শেল ৪
১৮e⁻
শেল ৫
৮e⁻
শেল ৬
২e⁻

আউফবাউ নীতি থেকে গণনা করা হয়, বাস্তবের পরিচিত ব্যতিক্রমগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য হয়।

স্টাডি

নোটগুলো

মৌলটি সম্পর্কে

বৈশিষ্ট্য

  • ইলেকট্রন বিন্যাস [Xe] 6s² — জেনন-কোরের ওপরে দুটি যোজ্যতা ইলেকট্রন; পর্যায় ৬, গ্রুপ ২ — মৃৎক্ষার ধাতু পরিবারের শেষ স্থায়ী সদস্য।
  • পানির সঙ্গে বেশ উৎসাহেই বিক্রিয়া করে — যদিও গ্রুপ ১-এর প্রতিবেশী সিজিয়ামের মতো ভয়ংকর নয় — ফুঁসিয়ে হাইড্রোজেন ছাড়ে আর পিছনে ফেলে যায় তীব্র ক্ষারীয় Ba(OH)2\mathrm{Ba(OH)_{2}}।
  • বেরিয়ামের প্রতিটি দ্রবণীয় যৌগই বিষ — বেরিয়াম কার্বনেট চিরাচরিত ইঁদুর-বিষ — কিন্তু BaSO4\mathrm{BaSO_{4}} এত অদ্রবণীয় যে দেহ তা মোটেই শুষে নিতে পারে না।
  • বেরিয়ামের যৌগ শিখায় ছড়ায় আপেল-সবুজ রঙ — আতশবাজি আর সংকেত-ফ্লেয়ারের চেনা সবুজ এসেছে বেরিয়াম লবণ থেকেই।
দেখতে কেমন

নরম, রূপোলি-সাদা ধাতু — কাটার পর ক্ষণিকের জন্য ঝকঝকে চকচকে দেখায়, তারপর বাতাসের আক্রমণে কয়েক মিনিটেই মলিন ধূসর হয়ে যায়। এতটা সক্রিয় ধাতুর পক্ষে এই ভারই বা কম — ঘনত্ব প্রায় ৩.৫ গ্রাম/ঘন সেমি; আর পানিতে ফুঁসফুঁস করে বলে রসায়ন ভাণ্ডারে এটি থাকে তেলের নিচে।

বাস্তব জগৎ

কোথায় দেখা মেলে

✦ ব্যবহার

  • “বেরিয়াম মিল”: এক্স-রের আগে গিলে নেওয়া চকখানি-মেশানো BaSO4\mathrm{BaSO_{4}} দ্রবণ পাকস্থলী-অন্ত্রের দেয়ালে লেপ টেনে দেয়, ফলে সম্পূর্ণ পরিপাকতন্ত্রই ছবিতে সাদা হয়ে ফুটে ওঠে।
  • বেরাইট (BaSO4\mathrm{BaSO_{4}}) ড্রিলিং মাড — অসাধারণ ভার দিয়ে গভীর কূপের প্রবল চাপের তেল-গ্যাস স্তরকে বশ মানায়; বাংলাদেশের গ্যাসক্ষেত্রের কূপ খননেও এই মাডই ব্যবহৃত হয়।
  • সবুজ আতশবাজি ও জরুরি ফ্লেয়ার: বেরিয়াম নাইট্রেট আর বেরিয়াম ক্লোরেট মিলে যোগায় বিয়ে-উৎসবের আকাশে ফাটা ঝকঝকে সবুজ তারাগুলো।
  • পুরোনো টেলিভিশন টিউব ও ভাল্ভের ভেতরে “গেটার” হিসেবে বেরিয়াম ধাতু — এক চিমটি এলোমেলো গ্যাস অণু গিলে নিয়ে আজীবনের জন্য শূন্যতা অটুট রাখে।

◍ দৈনন্দিন উদাহরণ

  • ঢাকা বা চট্টগ্রামের কোনো ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বেরিয়াম-মিল এক্স-রে করাতে পাঠানো আত্মীয় নিরাপদেই গিলেছেন বেরিয়াম সালফেট।
  • ঈদ বা বিয়ের রাতের আতশবাজিতে আকাশে ফাটা সবুজ শিখাগুলো জ্বলছে ওপরে বেরিয়ামের যৌগ।
  • ভাঙারি দোকানের পুরোনো পিকচার-টিভিটিতে একদিন বেরিয়াম গেটার বসে ছিল — নীরবে পাহারা দিচ্ছিল সেই শূন্যতাই, যার জন্যই ছবি ফুটে উঠত।
ইতিহাস

ইতিহাস ও নাম

প্রায় ১৬০২ সালে ইতালির জুতো-সেলাইয়ের কাজ করা খেল-রসায়নবিদ ভিনচেঞ্জো কাসচিয়ারোলো বোলোনিয়ার কাছে এক অদ্ভুত ভারী পাথর পান, যেটি দিনভর রোদে শুয়ে থেকে রাতের অন্ধকারে জ্বলজ্বল করে — বিখ্যাত “বোলোনিয়ার পাথর”, আসলে বেরিয়াম সালফেট। ১৭৭৪ সালে কার্ল ভিলহেল্ম শিলে প্রমাণ করেন, পাথরের ভেতরের “বেরাইটা” ভূমি তৎকালীন কোনো পরিচিত পদার্থেরই মতো নয়; আর ১৮০৮ সালে হামফ্রি ডেভি তড়িৎ-বিশ্লেষ্য করে অবশেষে ধাতুটিকে পৃথক করেন। গ্রিক barys অর্থ “ভারী” — ৪.৫ গ্রাম/ঘন সেমি ঘনত্বের অবাক-করা পাথরের সৎ প্রশংসাই মৌলের নাম।

নামের উৎসগ্রিক barys অর্থ “ভারী” — এর খনিজ বেরাইট পাথর হিসেবে অস্বাভাবিক রকম ঘন, ঘনত্ব প্রায় ৪.৫ গ্রাম/ঘন সেমি।
পাশের মৌল

কাছাকাছি মৌল

সারণিতে এই মৌলের ঠিক পাশে বসে থাকা মৌলগুলো — প্রায়ই রসায়নে সবচেয়ে কাছের আত্মীয়।