
বেরিয়াম (Ba)
“ইঁদুর মারতেও ব্যবহৃত হয় যে বিষাক্ত ধাতু, তার সালফেটই আবার ডাক্তাররা রোগীর গলা বেয়ে ঢালেন অন্ত্রের এক্স-রে ছবি তোলার জন্য।”
ইলেকট্রনগুলো কীভাবে সাজানো
আউফবাউ নীতি থেকে গণনা করা হয়, বাস্তবের পরিচিত ব্যতিক্রমগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য হয়।
নোটগুলো
বৈশিষ্ট্য
- ইলেকট্রন বিন্যাস [Xe] 6s² — জেনন-কোরের ওপরে দুটি যোজ্যতা ইলেকট্রন; পর্যায় ৬, গ্রুপ ২ — মৃৎক্ষার ধাতু পরিবারের শেষ স্থায়ী সদস্য।
- পানির সঙ্গে বেশ উৎসাহেই বিক্রিয়া করে — যদিও গ্রুপ ১-এর প্রতিবেশী সিজিয়ামের মতো ভয়ংকর নয় — ফুঁসিয়ে হাইড্রোজেন ছাড়ে আর পিছনে ফেলে যায় তীব্র ক্ষারীয় ।
- বেরিয়ামের প্রতিটি দ্রবণীয় যৌগই বিষ — বেরিয়াম কার্বনেট চিরাচরিত ইঁদুর-বিষ — কিন্তু এত অদ্রবণীয় যে দেহ তা মোটেই শুষে নিতে পারে না।
- বেরিয়ামের যৌগ শিখায় ছড়ায় আপেল-সবুজ রঙ — আতশবাজি আর সংকেত-ফ্লেয়ারের চেনা সবুজ এসেছে বেরিয়াম লবণ থেকেই।
নরম, রূপোলি-সাদা ধাতু — কাটার পর ক্ষণিকের জন্য ঝকঝকে চকচকে দেখায়, তারপর বাতাসের আক্রমণে কয়েক মিনিটেই মলিন ধূসর হয়ে যায়। এতটা সক্রিয় ধাতুর পক্ষে এই ভারই বা কম — ঘনত্ব প্রায় ৩.৫ গ্রাম/ঘন সেমি; আর পানিতে ফুঁসফুঁস করে বলে রসায়ন ভাণ্ডারে এটি থাকে তেলের নিচে।
কোথায় দেখা মেলে
✦ ব্যবহার
- “বেরিয়াম মিল”: এক্স-রের আগে গিলে নেওয়া চকখানি-মেশানো দ্রবণ পাকস্থলী-অন্ত্রের দেয়ালে লেপ টেনে দেয়, ফলে সম্পূর্ণ পরিপাকতন্ত্রই ছবিতে সাদা হয়ে ফুটে ওঠে।
- বেরাইট () ড্রিলিং মাড — অসাধারণ ভার দিয়ে গভীর কূপের প্রবল চাপের তেল-গ্যাস স্তরকে বশ মানায়; বাংলাদেশের গ্যাসক্ষেত্রের কূপ খননেও এই মাডই ব্যবহৃত হয়।
- সবুজ আতশবাজি ও জরুরি ফ্লেয়ার: বেরিয়াম নাইট্রেট আর বেরিয়াম ক্লোরেট মিলে যোগায় বিয়ে-উৎসবের আকাশে ফাটা ঝকঝকে সবুজ তারাগুলো।
- পুরোনো টেলিভিশন টিউব ও ভাল্ভের ভেতরে “গেটার” হিসেবে বেরিয়াম ধাতু — এক চিমটি এলোমেলো গ্যাস অণু গিলে নিয়ে আজীবনের জন্য শূন্যতা অটুট রাখে।
◍ দৈনন্দিন উদাহরণ
- ঢাকা বা চট্টগ্রামের কোনো ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বেরিয়াম-মিল এক্স-রে করাতে পাঠানো আত্মীয় নিরাপদেই গিলেছেন বেরিয়াম সালফেট।
- ঈদ বা বিয়ের রাতের আতশবাজিতে আকাশে ফাটা সবুজ শিখাগুলো জ্বলছে ওপরে বেরিয়ামের যৌগ।
- ভাঙারি দোকানের পুরোনো পিকচার-টিভিটিতে একদিন বেরিয়াম গেটার বসে ছিল — নীরবে পাহারা দিচ্ছিল সেই শূন্যতাই, যার জন্যই ছবি ফুটে উঠত।
ইতিহাস ও নাম
প্রায় ১৬০২ সালে ইতালির জুতো-সেলাইয়ের কাজ করা খেল-রসায়নবিদ ভিনচেঞ্জো কাসচিয়ারোলো বোলোনিয়ার কাছে এক অদ্ভুত ভারী পাথর পান, যেটি দিনভর রোদে শুয়ে থেকে রাতের অন্ধকারে জ্বলজ্বল করে — বিখ্যাত “বোলোনিয়ার পাথর”, আসলে বেরিয়াম সালফেট। ১৭৭৪ সালে কার্ল ভিলহেল্ম শিলে প্রমাণ করেন, পাথরের ভেতরের “বেরাইটা” ভূমি তৎকালীন কোনো পরিচিত পদার্থেরই মতো নয়; আর ১৮০৮ সালে হামফ্রি ডেভি তড়িৎ-বিশ্লেষ্য করে অবশেষে ধাতুটিকে পৃথক করেন। গ্রিক barys অর্থ “ভারী” — ৪.৫ গ্রাম/ঘন সেমি ঘনত্বের অবাক-করা পাথরের সৎ প্রশংসাই মৌলের নাম।
কাছাকাছি মৌল
সারণিতে এই মৌলের ঠিক পাশে বসে থাকা মৌলগুলো — প্রায়ই রসায়নে সবচেয়ে কাছের আত্মীয়।
