৬১Pmপ্রমিথিয়াম[145]
প্রমিথিয়াম মৌলের প্রকৃত নমুনা
প্রকৃত নমুনার ছবি
ল্যান্থানাইড

প্রমিথিয়াম (Pm)

“একমাত্র ল্যান্থানাইড, যার কোনো স্থায়ী রূপ নেই — পৃথিবীর প্রতিটি প্রমিথিয়াম পরমাণুই তেজস্ক্রিয়, জন্ম পারমাণবিক চুল্লির ভেতরে।”

পারমাণবিক সংখ্যা৬১
পারমাণবিক ভর[145]
গ্রুপf-block
পর্যায়৬
ব্লকF-block
অবস্থাকঠিন
ইলেকট্রন কাঠামো

ইলেকট্রনগুলো কীভাবে সাজানো

Pm
[Xe] 4f5 6s2
শেল ১
২e⁻
শেল ২
৮e⁻
শেল ৩
১৮e⁻
শেল ৪
২৩e⁻
শেল ৫
৮e⁻
শেল ৬
২e⁻

আউফবাউ নীতি থেকে গণনা করা হয়, বাস্তবের পরিচিত ব্যতিক্রমগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য হয়।

স্টাডি

নোটগুলো

মৌলটি সম্পর্কে

বৈশিষ্ট্য

  • এর প্রতিটি আইসোটোপই তেজস্ক্রিয়; কাজে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত আইসোটোপ প্রমিথিয়াম-১৪৭ খাঁটি বিটা বিকিরণ করে, অর্ধায়ু প্রায় ২.৬ বছর।
  • এর বিটা কণা ফসফরকে আলো জ্বালাতে পারে — একসময় রেডিয়ামের ঘড়ির ডায়াল এভাবেই জ্বলত, যদিও প্রমিথিয়াম তুলনায় নিরাপদ।
  • ইলেকট্রন বিন্যাস [Xe] 4f⁵ 6s² — পর্যায় ৬-এর f-ব্লক ল্যান্থানাইড; রসায়ন অন্যদের মতোই, সাধারণত +৩ আয়ন গঠন করে, নিওডিমিয়ামের কাছাকাছি।
  • প্রকৃতিতে এর প্রায় কোনো অস্তিত্বই নেই — আদি প্রমিথিয়ামের সবটাই কোটি বছর আগে ক্ষয়ে শেষ; আজ এটি কেবল চুল্লির ফিশন-পণ্য হিসেবেই তৈরি হয়।
দেখতে কেমন

অন্য ল্যান্থানাইডদের পাশে দাঁড়ালে বেশ সাদামাটা রূপোলি-সাদা ধাতু, কিন্তু প্রকৃতিতে এর প্রায় কিছুই নেই — সিল করা কাচের শিশিতে খুব সামান্য অক্সাইড বা লবণ আকারেই এটি রাখা হয়, আর খোলা বাতাসে নতুন ধাতব পৃষ্ঠ দ্রুত মলিন হয়ে যেত।

বাস্তব জগৎ

কোথায় দেখা মেলে

✦ ব্যবহার

  • বাতি-জ্বলা রং: ১৯৬০-এর দশক থেকে প্রমিথিয়াম-১৪৭ ও ফসফরের মিশ্রণে ঘড়ি ও বিমানের যন্ত্রপাতির ডায়ালে আলো জ্বালানো হয়েছে — মারাত্মক রেডিয়াম রঙের নিরাপদ উত্তরসূরি।
  • ক্ষুদ্র পারমাণবিক (বিটাভোলটাইক) ব্যাটারি — বিটা রশ্মিকে সরাসরি বিদ্যুতে বদলে দেয়; ১৯৭০-এর দশকের কিছু পেসমেকারে এমন ব্যাটারিই লাগানো ছিল।
  • কারখানার বিটা পুরুত্ব-মাপক যন্ত্র — উৎপাদন লাইনে কাগজ, প্লাস্টিক ফিল্ম ও পাতলা ধাতুর পাতের পুরুত্ব মুহূর্তে মুহূর্তে যাচাই করে।

◍ দৈনন্দিন উদাহরণ

  • ১৯৬০–৭০-এর দশকের পুরোনো কোনো ঘড়ির ডায়াল যদি রোদে না রেখেই সারারাত জ্বলে, তবে সেই আলোর পেছনে থাকতে পারে প্রমিথিয়াম-১৪৭ রঙ।
  • প্রকৃতিতে এটি যেন প্রেত — গোটা ভূত্বকে যেকোনো মুহূর্তে এর থাকে মাত্র কয়েক কেজি, আকরিকের ভেতরে কদাচিৎ ঘটা ইউরেনিয়াম ফিশন থেকে সৃষ্ট।
ইতিহাস

ইতিহাস ও নাম

১৯৪৫ সালে যুদ্ধকালীন যুক্তরাষ্ট্রের ক্লিনটন গবেষণাগারে (বর্তমান ওক রিজ) জ্যাকব মারিনস্কি, লরেন্স গ্লেন্ডেনিন ও চার্লস করিয়েল চুল্লির ইউরেনিয়াম জ্বালানির তেজস্ক্রিয় অবশিষ্টাংশ বিশ্লেষণ করেন এবং নতুন আয়ন-বিনিময় ক্রোমাটোগ্রাফি পদ্ধতি দিয়ে বহুদিন হারানো ৬১ নম্বর মৌলটি পৃথক করেন। যুদ্ধের গোপনীয়তার কারণে ঘোষণাটি ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত পিছিয়ে যায়। দেবতাদের কাছ থেকে মানুষের জন্য আগুন চুরি করা টাইটান প্রমিথিউসের নামে মৌলটির নাম রাখার প্রস্তাব দেন করিয়েলের স্ত্রী — পারমাণবিক “আগুন” যে আশীর্বাদও হতে পারে, অভিশাপও, এটাই ছিল সেই নামের ইঙ্গিত।

নামের উৎসগ্রিক পুরাণের টাইটান প্রমিথিউস — আগুন চুরিকারী; পারমাণবিক যুগের উভয়সংকট বোঝাতেই নামটি বেছে নেওয়া হয়।
পাশের মৌল

কাছাকাছি মৌল

সারণিতে এই মৌলের ঠিক পাশে বসে থাকা মৌলগুলো — প্রায়ই রসায়নে সবচেয়ে কাছের আত্মীয়।