৬২Smসামারিয়াম150.36
সামারিয়াম মৌলের প্রকৃত নমুনা
প্রকৃত নমুনার ছবি
ল্যান্থানাইড

সামারিয়াম (Sm)

“ইতিহাসে প্রথম মৌল, যার নাম রাখা হয়েছে এক বাস্তব মানুষের — এক রুশ খনি-কর্মকর্তার — নামে; আজ এর পরিচিতি উত্তাপ-সহিষ্ণু চুম্বক হিসেবে।”

পারমাণবিক সংখ্যা৬২
পারমাণবিক ভর150.36
গ্রুপf-block
পর্যায়৬
ব্লকF-block
অবস্থাকঠিন
ইলেকট্রন কাঠামো

ইলেকট্রনগুলো কীভাবে সাজানো

Sm
[Xe] 4f6 6s2
শেল ১
২e⁻
শেল ২
৮e⁻
শেল ৩
১৮e⁻
শেল ৪
২৪e⁻
শেল ৫
৮e⁻
শেল ৬
২e⁻

আউফবাউ নীতি থেকে গণনা করা হয়, বাস্তবের পরিচিত ব্যতিক্রমগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য হয়।

স্টাডি

নোটগুলো

মৌলটি সম্পর্কে

বৈশিষ্ট্য

  • ইলেকট্রন বিন্যাস [Xe] 4f⁶ 6s² — পর্যায় ৬-এর f-ব্লক ল্যান্থানাইড; সাধারণত তিনটি ইলেকট্রন ছেড়ে Sm³⁺ আয়ন হয়।
  • সামারিয়াম–কোবাল্ট চুম্বক (SmCo5\mathrm{SmCo_{5}} ও Sm2Co17\mathrm{Sm_{2}Co_{17}}) কক্ষ তাপমাত্রায় সবচেয়ে শক্তিশালী না হলেও প্রায় ৩০০° সেলসিয়াস পর্যন্ত চুম্বকত্ব ধরে রাখে — যেখানে নিওডিমিয়াম চুম্বক হাল ছেড়ে দেয়।
  • সামারিয়াম অন্যতম সেই বিরল ল্যান্থানাইড, যার +২ অবস্থাটিও কাজে লাগে: সামারিয়াম(II) আয়োডাইড (SmI2\mathrm{SmI_{2}}, “কাগাঁর বিকারক”) জৈব রসায়নে বিখ্যাত এক-ইলেকট্রন বিজারক।
  • তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ সামারিয়াম-১৫৩-এর অর্ধায়ু প্রায় ৪৬ ঘণ্টা; এর বিটা বিকিরণ হাড়ে পৌঁছে ক্যান্সারের বিস্তারজনিত ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।
দেখতে কেমন

কঠিন, ঝকঝকে রূপোলি ধাতু; বাতাসে ধীরে ধীরে ধূসর অক্সাইডের প্রলেপ পড়ে। বিরল-মৃত্তিক ধাতুদের মধ্যে সামারিয়াম বেশ কঠিন স্বভাবের, তাই ইউরোপিয়ামের মতো নরম আত্মীয়দের চেয়ে অনেকদিন নিজের ঔজ্জ্বল্য ধরে রাখে।

বাস্তব জগৎ

কোথায় দেখা মেলে

✦ ব্যবহার

  • হেডফোন, গিটারের পিকআপ ও ছোট উত্তপ্ত-বিদ্যুৎ-মোটরে সামারিয়াম–কোবাল্ট স্থায়ী চুম্বক — যেখানে গরমে সস্তা চুম্বক নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়।
  • ক্যান্সার হাড়ে ছড়িয়ে পড়লে ব্যথা কমাতে রোগীকে সামারিয়াম-১৫৩ ইনজেকশন — হাড়ে গিয়ে কাজ করা এক তেজস্ক্রিয় ওষুধ।
  • বিশ্ববিদ্যালয়ের জৈব-রসায়ন বেঞ্চে ব্যবহৃত এক-ইলেকট্রন বিজারক সামারিয়াম(II) আয়োডাইড।
  • ঘরের গ্যাস-লাইটারের স্ফুলিঙ্গ-সৃষ্টিকারী মিশমেটালের এক ক্ষুদ্র উপাদান; এছাড়া অনুঘটক ও অবলোহিত-শোষী বিশেষ কাচে সামারিয়াম অক্সাইড।

◍ দৈনন্দিন উদাহরণ

  • রান্নাঘরের গ্যাস-লাইটারের স্ফুলিঙ্গ জ্বলে মিশমেটাল স্ফুলিঙ্গ-পাথর থেকে — আর সেই বিরল-মৃত্তিক সংকরে সবসময়ই খানিকটা সামারিয়াম থাকে।
  • ভালো মানের হেডফোন কিংবা বন্ধুর ইলেকট্রিক গিটারের পিকআপে শার্টের বোতামের চেয়ে ছোট একটা সামারিয়াম–কোবাল্ট চুম্বক লুকিয়ে থাকতে পারে।
ইতিহাস

ইতিহাস ও নাম

১৮৭৯ সালে প্যারিসে কর্মরত ফরাসি বর্ণলেখ্য-বিজ্ঞানী পল-এমিল লেকো দ্য বোয়াবোদ্রঁ রাশিয়ার ইউরাল পর্বতের সামার্সকাইট খনিজ নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে এর বর্ণালীতে অপরিচিত তীক্ষ্ণ রেখা খুঁজে পান — এক নতুন মৌলের স্বাক্ষর। খনিজটির নাম অনুসারেই তিনি মৌলের নাম দেন সামারিয়াম; আর বছরখানেক আগে খনিজটির নামকরণ হয়েছিল রাশিয়ার খনি-প্রকৌশল বাহিনীর প্রধান ভাসিলি সামার্স্কি-বাইখোভেৎসের সম্মানে। এভাবেই সামারিয়াম হলো ইতিহাসে প্রথম মৌল, যার নাম এসেছে কোনো প্রকৃত মানুষের নাম থেকে; আর আধুনিক পৃথকীকরণ পদ্ধতি এলে তবেই কেবল সম্পূর্ণ খাঁটি ধাতু মেলে।

নামের উৎসসামার্সকাইট খনিজের নাম থেকে; খনিজটির নাম রাখা হয়েছিল রুশ খনি-কর্মকর্তা ভাসিলি সামার্স্কি-বাইখোভেৎসের নামে — কোনো মানুষের নাম বহনকারী প্রথম মৌল।
পাশের মৌল

কাছাকাছি মৌল

সারণিতে এই মৌলের ঠিক পাশে বসে থাকা মৌলগুলো — প্রায়ই রসায়নে সবচেয়ে কাছের আত্মীয়।