
লুটেশিয়াম (Lu)
“ল্যান্থানাইড সারির শেষ মৌল — নাম প্যারিসের, আর আজ টিউমার খুঁজে মারতে রোগীর শরীরে ঢোকানো হয় তেজস্ক্রিয় লুটেশিয়াম-১৭৭।”
ইলেকট্রনগুলো কীভাবে সাজানো
আউফবাউ নীতি থেকে গণনা করা হয়, বাস্তবের পরিচিত ব্যতিক্রমগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য হয়।
নোটগুলো
বৈশিষ্ট্য
- ইলেকট্রন বিন্যাস [Xe] 4f¹⁴ 5d¹ 6s² — চতুর্দশ ও শেষ ইলেকট্রনটি 4f উপস্তর পূর্ণ করে দেয়, ফলে লুটেশিয়াম ল্যান্থানাইড সারিটি শেষ করে 5d স্থানান্তর ধাতুর সারি খুলে দেয়; তিনটি যোজ্যতা ইলেকট্রন (5d¹ 6s²) থেকেই পরিচিত Lu³⁺ আয়ন।
- ল্যান্থানাইডদের রেকর্ডধারী: পুরো বিরল-মৃত্তিক পরিবারের মধ্যে সবচেয়ে কঠিন, সবচেয়ে ঘন (প্রায় ৯.৮ গ্রাম/ঘন সেন্টিমিটার) ও সর্বোচ্চ গলনাঙ্ক (১৬৬৩° সেলসিয়াস) এরই।
- প্রাকৃতিক লুটেশিয়ামে স্থায়ী লুটেশিয়াম-১৭৫ এর পাশে থাকে তেজস্ক্রিয় লুটেশিয়াম-১৭৬, যার ৩৭০ কোটি কোটি বছরের অর্ধায়ু দিয়ে ভূতাত্ত্বিকরা লুটেশিয়াম–হাফনিয়াম ঘড়িতে প্রাচীন শিলা ও উল্কাপিণ্ডের বয়স মাপেন।
- সবচেয়ে দুর্লভ বিরল-মৃত্তিক মৌলদের একটি — ভূপৃষ্ঠে এর পরিমাণ এক প্রতি মিলিয়ন ভাগেরও কম — বলেই ল্যান্থানাইডদের মধ্যে এটি অন্যতম দামি ধাতু।
রূপোলি-সাদা ধাতু, কিন্তু বিরল-মৃত্তিক মৌল হিসেবে অস্বাভাবিক রকম কঠিন ও ভারী — সব ল্যান্থানাইডের মধ্যে সর্বাধিক ঘনত্ব, কাঠিন্য ও গলনাঙ্ক এরই দখলে। মলিনও হয় ধীরে, তাই ঘষা পৃষ্ঠ বেশিরভাগ সক্রিয় আত্মীয়ের চেয়ে বেশিদিন ঝকঝকে থাকে।
কোথায় দেখা মেলে
✦ ব্যবহার
- লক্ষ্যভেদী ক্যান্সার চিকিৎসা: লুটেথেরা (Lutathera) ও প্লুভিক্টো (Pluvicto) জাতীয় ওষুধে টিউমর-খোঁজা অণুর সঙ্গে বিটা-বিকিরণকারী লুটেশিয়াম-১৭৭ পরমাণু জুড়ে দেওয়া হয়, যাতে বিকিরণ সোজা নিউরোএন্ডোক্রাইন ও প্রোস্টেট টিউমারের ভেতরেই পৌঁছায়।
- পেট স্ক্যানারের ডিটেক্টর স্ফটিক: লুটেশিয়াম অক্সিঅর্থোসিলিকেট (LSO/LYSO) সিনটিলেটর আগত গামা রশ্মিকে মাপার মতো আলোর ঝলকে বদলে দেয়।
- LuAG (লুটেশিয়াম অ্যালুমিনিয়াম গার্নেট) সিনটিলেটর ও ফসফর চিকিৎসা-ইমেজিং ডিটেক্টর আর উজ্জ্বল সাদা LED-তে কাজ করে।
- পেট্রোলিয়াম পরিশোধন ও নিখুঁত রসায়নে লুটেশিয়ামের লবণ শক্তিশালী লুইস-অ্যাসিড প্রভাবকের ভূমিকায় নামে।
◍ দৈনন্দিন উদাহরণ
- ক্যান্সার হাসপাতালে লুটেথেরা চিকিৎসা নেওয়া রোগীর রক্তে কয়েকদিন লুটেশিয়াম-১৭৭ ঘুরে বেড়ায়, টিউমার কোষের ঠিকানা খুঁজে বের করতে।
- মোনাজাইট — বাংলাদেশের কক্সবাজার উপকূলে অনুসন্ধান-চলা ভারী বালির খনিজ — প্রতিটি ল্যান্থানাইডেরই সামান্য চিহ্ন বহন করে, লুটেশিয়ামও তার বাদ যায় না।
- বিশ্বের গবেষণাগারগুলোতে উল্কাপিণ্ডের বয়স নির্ধারণের অনেক প্রতিবেদনই দাঁড়িয়ে থাকে লুটেশিয়াম-১৭৬-এর হাফনিয়াম-১৭৬-এ ধীর ক্ষয়ের ওপর।
ইতিহাস ও নাম
১৯০৭ সালে তিনজন রসায়নবিদ প্রায় একই সময়ে ইটারবিয়া থেকে নতুন মৌলটি ছাড়িয়ে আনেন — প্যারিসে জর্জ উরবাঁ, ভিয়েনায় কার্ল আউয়ার ফন ভেল্সবাখ এবং যুক্তরাষ্ট্রে চার্লস জেমস। উরবাঁ ও ভেল্সবাখের অগ্রাধিকার-দ্বন্দ্ব আন্তর্জাতিক কমিশনের দ্বারস্থ হয়, আর ১৯০৯ সালে রায় ঘোষিত হয় উরবাঁর পক্ষে; তিনি মৌলটির নাম রাখেন লুটেশিয়া থেকে — আজকের প্যারিস যে রোমান নগরীর জায়গায় দাঁড়িয়ে, তার সেই প্রাচীন নামে। বছরের পর বছর ধৈর্য ধরে কেলাস-পৃথকীকরণ করা জেমস সুন্দর মার্জনায় নিজের দাবি সরিয়ে নেন, আর ভেল্সবাখের দেওয়া প্রতিদ্বন্দ্বী নাম “ক্যাসিওপিয়াম” আরও কয়েক দশক জার্মান বইয়ে চলেছিল, তারপর হারিয়ে যায়।
কাছাকাছি মৌল
সারণিতে এই মৌলের ঠিক পাশে বসে থাকা মৌলগুলো — প্রায়ই রসায়নে সবচেয়ে কাছের আত্মীয়।
