১১৪Flফ্লেরোভিয়াম[289]
ফ্লেরোভিয়াম মৌলের প্রকৃত নমুনা
কৃত্রিম মৌল — এর কোনো প্রকৃত নমুনার ছবি নেই
উত্তর-স্থানান্তর ধাতু

ফ্লেরোভিয়াম (Fl)

“দুবনার ফ্লেরভ ল্যাবরেটরির নামে নামাঙ্কিত মৌল — সেই ল্যাবের প্রতিষ্ঠাতা জর্জি ফ্লেরভ স্বতঃস্ফূর্ত বিভাজনের আবিষ্কারক, আর তাঁর ১৯৪২ সালের চিঠি থেকেই শুরু হয়েছিল সোভিয়েত পরমাণু বোমা প্রকল্প।”

পারমাণবিক সংখ্যা১১৪
পারমাণবিক ভর[289]
গ্রুপ১৪
পর্যায়৭
ব্লকP-block
অবস্থাকঠিন
ইলেকট্রন কাঠামো

ইলেকট্রনগুলো কীভাবে সাজানো

Fl
[Rn] 5f14 6d10 7s2 7p2
শেল ১
২e⁻
শেল ২
৮e⁻
শেল ৩
১৮e⁻
শেল ৪
৩২e⁻
শেল ৫
৩২e⁻
শেল ৬
১৮e⁻
শেল ৭
৪e⁻

আউফবাউ নীতি থেকে গণনা করা হয়, বাস্তবের পরিচিত ব্যতিক্রমগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য হয়।

স্টাডি

নোটগুলো

মৌলটি সম্পর্কে

বৈশিষ্ট্য

  • সম্পূর্ণ কৃত্রিম সুপারহেভি ধাতু: এ পর্যন্ত তৈরি প্রতিটি ফ্লেরোভিয়াম পরমাণুই জন্মেছে কণা ত্বরকে, প্রতি পরীক্ষায় মাত্র কয়েকটি করে।
  • সবচেয়ে দীর্ঘায়ু আইসোটোপও সেকেন্ডের হিসাবেই উধাও — Fl-289 টিকে প্রায় দুই সেকেন্ড, আর শ্রেষ্ঠ Fl-290-ও বড়জোর কুড়ি সেকেন্ডের মতো।
  • আপেক্ষিক প্রভাবে 7s ও 7p₁/₂ ইলেকট্রনগুলো শক্তভাবে আঁটকে যায়, ফলে ফ্লেরোভিয়ামই বোধহয় গ্রুপ ১৪-এর সবচেয়ে “অভিজাত” ও নিষ্ক্রিয় ধাতু — সীসার চেয়েও অলস।
  • ২০০৭–০৮ সালে নিছক কয়েকটি পরমাণু নিয়ে চালানো গ্যাস-পর্যায়ের রসায়নে দেখা যায় এটি সীসার চেয়ে বহু বেশি উদ্বায়ী — অনেক কম তাপমাত্রাতেই সোনায় জমায়; অর্থাৎ ধাতব বন্ধন অস্বাভাবিক রকমের দুর্বল।
দেখতে কেমন

ফ্লেরোভিয়ামকে আজ পর্যন্ত কোনো মানুষের চোখ দেখেনি — কণা ত্বরকে জন্ম নেওয়া বিক্ষিপ্ত কয়েকটি একক পরমাণু হিসেবেই এর অস্তিত্ব। গণনায় এটি গ্রুপ ১৪-এর নরম, রুপালি ও অস্বাভাবিক রকম উদ্বায়ী এক ধাতু — পরমাণুর বন্ধন এতই দুর্বল যে সোনার সঙ্গেও সেগুলো কমই জড়ায়।

বাস্তব জগৎ

কোথায় দেখা মেলে

✦ ব্যবহার

  • প্রোটন সংখ্যা ১১৪ একটি নিউক্লিয়ার “ম্যাজিক সংখ্যা” — এই কয়েক দশকের পুরনো ভবিষ্যদ্বাণী যাচাইয়ের কাজে ফ্লেরোভিয়াম: এর প্রতিটি আইসোটোপের মাপা অর্ধায়ু প্রাক্কলিত স্থিতির দ্বীপের মানচিত্র নিখুঁত করে।
  • আপেক্ষিকতা গ্রুপ ১৪-এর রসায়নকে কতটা বাঁকিয়ে দেয় তা অনুসন্ধান — সোনার পৃষ্ঠে এর অস্বাভাবিক উদ্বায়িতাই তার সরাসরি প্রমাণ যে সুপারহেভি ভরে পর্যায় সূত্র নড়ে যায়।
  • এর আলফা-ক্ষয়ের শক্তিমান ক্যালিব্রেশনের মাইলফলক কাজ করে — নতুন সুপারহেভি নিউক্লিয়াস পড়ার সময় ডিটেক্টর ঠিকঠাক কাজ করছে কি না তা নিশ্চিত করতে গবেষণাগারগুলো এগুলোর সাহায্য নেয়।
  • মাপা ক্ষয়-শৃঙ্খলাকে নিউক্লিয়ার শেল মডেলের হিসাবের সঙ্গে মেলালে তাত্ত্বিকরা বুঝতে পারেন, ১১৪-এর পরের ম্যাজিক সংখ্যাগুলো কোথায় লুকিয়ে আছে।

◍ দৈনন্দিন উদাহরণ

  • ফ্লেরোভিয়াম আর লিভারমোরিয়াম — সরাসরি গবেষণাগারের নামে নামাঙ্কিত একমাত্র দুটি মৌল; এই জুটির নাম জিজ্ঞাসা কুইজ অনুষ্ঠানের এক প্রিয় প্রশ্ন।
  • ২০১২ সালে ফ্লেরোভিয়ামের আনুষ্ঠানিক নাম হওয়ার পর সব জায়গার পর্যায় সারণির চার্টে — বাংলাদেশের ক্লাসরুমের চার্টেও — নিচের সারিতে যোগ হয় স্থায়ী Fl ঘর।
  • এনসিটিবি পদার্থবিজ্ঞানে নিউক্লিয়ার বিভাজন পড়ানো হয়; মৌলটির নামদাতা জর্জি ফ্লেরভ সেই প্রক্রিয়ারই স্বতঃস্ফূর্ত রূপটির সহ-আবিষ্কারক ছিলেন।
ইতিহাস

ইতিহাস ও নাম

১৯৯৮ সালের ডিসেম্বরে রাশিয়ার দুবনার ফ্লেরভ ল্যাবরেটরি অব নিউক্লিয়ার রিঅ্যাকশনস-এ ইউরি ওগানেসিয়ানের নেতৃত্বাধীন দল — সঙ্গে যুক্ত ছিল যুক্তরাষ্ট্রের লরেন্স লিভারমোর ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির রসায়নবিদেরা — Pu-244 লক্ষ্যে Ca-48 আয়ন নিক্ষেপ করে Fl-289-এর একটি মাত্র পরমাণুর আলফা-ক্ষয়ের শৃঙ্খলা ধরতে পারেন; গবেষণাপত্রটি ছাপা হয় পরের বছরই Nature জার্নালে। স্বাধীন নিশ্চিতকরণে লেগে যায় প্রায় এক দশক, অবশেষে ২০১১ সালে আইইউপিএসি দুবনা–লিভারমোর দলকে আবিষ্কারের কৃতিত্ব দেয়। ২০১২ সালে মৌলটির আনুষ্ঠানিক নাম রাখা হয় ফ্লেরোভিয়াম — ফ্লেরভ ল্যাব ও তার প্রতিষ্ঠাতা জর্জি ফ্লেরভের সম্মানে; এই পদার্থবিজ্ঞানী ১৯৪০ সালে স্বতঃস্ফূর্ত বিভাজন আবিষ্কার করেন এবং তাঁরই সতর্ক চিঠি, যা তিনি ১৯৪২ সালে স্তালিনকে লেখেন, সোভিয়েত পরমাণু বোমা প্রকল্পের সূচনা করে।

নামের উৎসদুবনার ফ্লেরভ ল্যাবরেটরি অব নিউক্লিয়ার রিঅ্যাকশনস-এর সম্মানে নাম — প্রতিষ্ঠাতা জর্জি ফ্লেরভ স্বতঃস্ফূর্ত বিভাজনের সহ-আবিষ্কারক।
পাশের মৌল

কাছাকাছি মৌল

সারণিতে এই মৌলের ঠিক পাশে বসে থাকা মৌলগুলো — প্রায়ই রসায়নে সবচেয়ে কাছের আত্মীয়।