মস্কোভিয়াম (Mc)
“মস্কো অঞ্চলের নাম বহনকারী মৌল ১১৫ — ২০০৩ সালে অ্যামেরিসিয়ামের লক্ষ্যে বিরল ক্যালসিয়াম রশ্মির আঘাতে জন্ম নিয়েছিল নিছক কয়েকটি পরমাণু হয়ে।”
ইলেকট্রনগুলো কীভাবে সাজানো
আউফবাউ নীতি থেকে গণনা করা হয়, বাস্তবের পরিচিত ব্যতিক্রমগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য হয়।
নোটগুলো
বৈশিষ্ট্য
- একবারে একটি পরমাণু করে জন্ম নেওয়া কৃত্রিম সুপারহেভি মৌল — গোটা ইতিহাসে মস্কোভিয়ামের অস্তিত্ব পেয়েছে বড়জোর শতাধিক পরমাণু।
- পরমাণুর আয়ু এক সেকেন্ডেরও কম — দীর্ঘতম আয়ুষ্কালীন আইসোটোপ Mc-290-ও টিকে মাত্র প্রায় ০.৬৫ সেকেন্ড, তারপরই আলফা ক্ষয়।
- আপেক্ষিক প্রভাবে 7p₁/₂ ইলেকট্রনগুলো এমন দৃঢ়ভাবে স্থিতিশীল যে মস্কোভিয়াম হয়তো +1 জারণ অবস্থাই পছন্দ করবে — গ্রুপ ১৫-এ যা প্রায়ই শোনা যায় না, ওই পরিবারের ধারা তো −3 আর +3।
- গণনায় এটি সীসার চেয়েও ঘন, রুপালি এক ধাতু — অথচ এত অল্প আয়ুর যে এর কোনো দলিল-নমুনা কোনোদিন সংগ্রহও হতে পারবে না।
মস্কোভিয়ামকে কখনো দেখা, ওজন করা বা বোতলে ভরা হয়নি — গোনা হয়েছে শুধু এর ক্ষয়ের ঝলক। তত্ত্ব বলছে, গ্রুপ ১৫-এ বিসমাথের ঠিক নিচের এই মৌলটি ঘন, নরম, রুপালি পোস্ট-ট্রানজিশন ধাতু — কিন্তু প্রতিটি পরমাণু এত দ্রুত হারিয়ে যায় যে এ পর্যন্ত কোনো রাসায়নিক পরীক্ষাই তার নাগাল পায়নি।
কোথায় দেখা মেলে
✦ ব্যবহার
- এর ক্ষয়-শৃঙ্খলা একসঙ্গে তিন মৌলের প্রমাণ — মস্কোভিয়ামের শৃঙ্খলা ফ্লেরোভিয়াম হয়ে পরিচিত নিউক্লিয়াসে মেশে, তাই ১১৩, ১১৪ ও ১১৫ নম্বর মৌলের আবিষ্কারের ভিত্তি একত্রেই মজবুত হয়।
- Mc-287 থেকে Mc-290 — প্রতিটি নতুন আইসোটোপ যাচাই করে প্রোটন সংখ্যা ১১৪-এর কাছে প্রাক্কলিত স্থিতির দ্বীপের ঢালে নিউক্লিয়ার স্থিতিশীলতা কতটা বেড়ে চলে।
- আপেক্ষিক রসায়নের চারণভূমি: মস্কোভিয়ামের অস্বাভাবিক +1 অবস্থার ভবিষ্যদ্বাণীই দেখিয়ে দেয় এর প্রতিবেশী মৌলগুলোর ওপর এক-পরমাণু-করে পরীক্ষা কীভাবে সাজাতে হবে।
- মস্কোভিয়ামের জন্য নিখুঁত হওয়া অ্যামেরিসিয়াম-লক্ষ্যের কৌশলই পথ দেখায় পরে বার্কেলিয়াম লক্ষ্য বানিয়ে টেনেসিন তৈরি করতে।
◍ দৈনন্দিন উদাহরণ
- ২০১৬ সালে একসঙ্গে চার মৌলের নাম ঘোষণার খবর ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বের সংবাদপত্র ও টিভিতে — আর বাংলাদেশসহ সব জায়গার পর্যায় সারণি রাতারাতি বদলে যায়।
- বাংলাদেশের বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড কিংবা কুইজ প্রতিযোগিতায় প্রশ্ন আসে — কোন মৌল মস্কো অঞ্চলের নাম বহন করে? উত্তর: ১১৫ নম্বর, মস্কোভিয়াম।
- এনসিটিবির পর্যায় সারণিতে পরিচিত ১১৮টি মৌলের নাম আছে — সপ্তম সারির শেষ থেকে পঞ্চম ঘরটি মস্কোভিয়ামের।
ইতিহাস ও নাম
২০০৩–০৪ সালে ইউরি ওগানেসিয়ানের নেতৃত্বে দুবনা–লিভারমোর দল Am-243 লক্ষ্যে Ca-48 আয়ন নিক্ষেপ করে Mc-288 ও Mc-287-এর কয়েকটি পরমাণুর আলফা-ক্ষয়ের শৃঙ্খলা রেকর্ড করে — শৃঙ্খলাগুলো ফ্লেরোভিয়াম হয়ে আগে থেকে পরিচিত নিউক্লিয়াসে গিয়ে শেষ হতো, আর সেটাই ছিল দাবির মজবুত ভিত্তি। পরে ইউরোপ ও আমেরিকার গবেষণাগারে শৃঙ্খলাগুলো পুনরুৎপাদিত হয়, আর ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে আইইউপিএসি আবিষ্কারের কৃতিত্ব দেয় দুবনা ও লিভারমোরকে। ২০১৬ সালের জুনে আইইউপিএসি একসঙ্গে ঘোষণা করে নিহোনিয়াম, মস্কোভিয়াম, টেনেসিন ও ওগানেসন — চারটি নতুন নাম; নভেম্বরে সেগুলো চূড়ান্ত হয়, আর মস্কোভিয়াম নামটি দুবনা গবেষণাগারের ঠিকানা মস্কো ওবলাস্ট (মস্কো অঞ্চল)-এর সম্মানে।
কাছাকাছি মৌল
সারণিতে এই মৌলের ঠিক পাশে বসে থাকা মৌলগুলো — প্রায়ই রসায়নে সবচেয়ে কাছের আত্মীয়।
