১১৫Mcমস্কোভিয়াম[290]
মস্কোভিয়াম মৌলের প্রকৃত নমুনা
কৃত্রিম মৌল — এর কোনো প্রকৃত নমুনার ছবি নেই
উত্তর-স্থানান্তর ধাতু

মস্কোভিয়াম (Mc)

“মস্কো অঞ্চলের নাম বহনকারী মৌল ১১৫ — ২০০৩ সালে অ্যামেরিসিয়ামের লক্ষ্যে বিরল ক্যালসিয়াম রশ্মির আঘাতে জন্ম নিয়েছিল নিছক কয়েকটি পরমাণু হয়ে।”

পারমাণবিক সংখ্যা১১৫
পারমাণবিক ভর[290]
গ্রুপ১৫
পর্যায়৭
ব্লকP-block
অবস্থাকঠিন
ইলেকট্রন কাঠামো

ইলেকট্রনগুলো কীভাবে সাজানো

Mc
[Rn] 5f14 6d10 7s2 7p3
শেল ১
২e⁻
শেল ২
৮e⁻
শেল ৩
১৮e⁻
শেল ৪
৩২e⁻
শেল ৫
৩২e⁻
শেল ৬
১৮e⁻
শেল ৭
৫e⁻

আউফবাউ নীতি থেকে গণনা করা হয়, বাস্তবের পরিচিত ব্যতিক্রমগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য হয়।

স্টাডি

নোটগুলো

মৌলটি সম্পর্কে

বৈশিষ্ট্য

  • একবারে একটি পরমাণু করে জন্ম নেওয়া কৃত্রিম সুপারহেভি মৌল — গোটা ইতিহাসে মস্কোভিয়ামের অস্তিত্ব পেয়েছে বড়জোর শতাধিক পরমাণু।
  • পরমাণুর আয়ু এক সেকেন্ডেরও কম — দীর্ঘতম আয়ুষ্কালীন আইসোটোপ Mc-290-ও টিকে মাত্র প্রায় ০.৬৫ সেকেন্ড, তারপরই আলফা ক্ষয়।
  • আপেক্ষিক প্রভাবে 7p₁/₂ ইলেকট্রনগুলো এমন দৃঢ়ভাবে স্থিতিশীল যে মস্কোভিয়াম হয়তো +1 জারণ অবস্থাই পছন্দ করবে — গ্রুপ ১৫-এ যা প্রায়ই শোনা যায় না, ওই পরিবারের ধারা তো −3 আর +3।
  • গণনায় এটি সীসার চেয়েও ঘন, রুপালি এক ধাতু — অথচ এত অল্প আয়ুর যে এর কোনো দলিল-নমুনা কোনোদিন সংগ্রহও হতে পারবে না।
দেখতে কেমন

মস্কোভিয়ামকে কখনো দেখা, ওজন করা বা বোতলে ভরা হয়নি — গোনা হয়েছে শুধু এর ক্ষয়ের ঝলক। তত্ত্ব বলছে, গ্রুপ ১৫-এ বিসমাথের ঠিক নিচের এই মৌলটি ঘন, নরম, রুপালি পোস্ট-ট্রানজিশন ধাতু — কিন্তু প্রতিটি পরমাণু এত দ্রুত হারিয়ে যায় যে এ পর্যন্ত কোনো রাসায়নিক পরীক্ষাই তার নাগাল পায়নি।

বাস্তব জগৎ

কোথায় দেখা মেলে

✦ ব্যবহার

  • এর ক্ষয়-শৃঙ্খলা একসঙ্গে তিন মৌলের প্রমাণ — মস্কোভিয়ামের শৃঙ্খলা ফ্লেরোভিয়াম হয়ে পরিচিত নিউক্লিয়াসে মেশে, তাই ১১৩, ১১৪ ও ১১৫ নম্বর মৌলের আবিষ্কারের ভিত্তি একত্রেই মজবুত হয়।
  • Mc-287 থেকে Mc-290 — প্রতিটি নতুন আইসোটোপ যাচাই করে প্রোটন সংখ্যা ১১৪-এর কাছে প্রাক্কলিত স্থিতির দ্বীপের ঢালে নিউক্লিয়ার স্থিতিশীলতা কতটা বেড়ে চলে।
  • আপেক্ষিক রসায়নের চারণভূমি: মস্কোভিয়ামের অস্বাভাবিক +1 অবস্থার ভবিষ্যদ্বাণীই দেখিয়ে দেয় এর প্রতিবেশী মৌলগুলোর ওপর এক-পরমাণু-করে পরীক্ষা কীভাবে সাজাতে হবে।
  • মস্কোভিয়ামের জন্য নিখুঁত হওয়া অ্যামেরিসিয়াম-লক্ষ্যের কৌশলই পথ দেখায় পরে বার্কেলিয়াম লক্ষ্য বানিয়ে টেনেসিন তৈরি করতে।

◍ দৈনন্দিন উদাহরণ

  • ২০১৬ সালে একসঙ্গে চার মৌলের নাম ঘোষণার খবর ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বের সংবাদপত্র ও টিভিতে — আর বাংলাদেশসহ সব জায়গার পর্যায় সারণি রাতারাতি বদলে যায়।
  • বাংলাদেশের বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড কিংবা কুইজ প্রতিযোগিতায় প্রশ্ন আসে — কোন মৌল মস্কো অঞ্চলের নাম বহন করে? উত্তর: ১১৫ নম্বর, মস্কোভিয়াম।
  • এনসিটিবির পর্যায় সারণিতে পরিচিত ১১৮টি মৌলের নাম আছে — সপ্তম সারির শেষ থেকে পঞ্চম ঘরটি মস্কোভিয়ামের।
ইতিহাস

ইতিহাস ও নাম

২০০৩–০৪ সালে ইউরি ওগানেসিয়ানের নেতৃত্বে দুবনা–লিভারমোর দল Am-243 লক্ষ্যে Ca-48 আয়ন নিক্ষেপ করে Mc-288 ও Mc-287-এর কয়েকটি পরমাণুর আলফা-ক্ষয়ের শৃঙ্খলা রেকর্ড করে — শৃঙ্খলাগুলো ফ্লেরোভিয়াম হয়ে আগে থেকে পরিচিত নিউক্লিয়াসে গিয়ে শেষ হতো, আর সেটাই ছিল দাবির মজবুত ভিত্তি। পরে ইউরোপ ও আমেরিকার গবেষণাগারে শৃঙ্খলাগুলো পুনরুৎপাদিত হয়, আর ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে আইইউপিএসি আবিষ্কারের কৃতিত্ব দেয় দুবনা ও লিভারমোরকে। ২০১৬ সালের জুনে আইইউপিএসি একসঙ্গে ঘোষণা করে নিহোনিয়াম, মস্কোভিয়াম, টেনেসিন ও ওগানেসন — চারটি নতুন নাম; নভেম্বরে সেগুলো চূড়ান্ত হয়, আর মস্কোভিয়াম নামটি দুবনা গবেষণাগারের ঠিকানা মস্কো ওবলাস্ট (মস্কো অঞ্চল)-এর সম্মানে।

নামের উৎসমস্কো ওবলাস্ট বা মস্কো অঞ্চলের সম্মানে নাম — বিজ্ঞান-নগরী দুবনা এই অঞ্চলেরই অংশ।
পাশের মৌল

কাছাকাছি মৌল

সারণিতে এই মৌলের ঠিক পাশে বসে থাকা মৌলগুলো — প্রায়ই রসায়নে সবচেয়ে কাছের আত্মীয়।