
পটাশিয়াম (K)
“একটিমাত্র বাইরের ইলেকট্রন ছাড়তে মরিয়া ধাতু — পানির ওপর ভেসে ভেসে বেগুনি শিখায় নাচে, অথচ তোমার স্নায়ু আর কলাগাছ শান্তভাবেই অপেক্ষা করে এর আয়নের জন্য।”
ইলেকট্রনগুলো কীভাবে সাজানো
আউফবাউ নীতি থেকে গণনা করা হয়, বাস্তবের পরিচিত ব্যতিক্রমগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য হয়।
নোটগুলো
বৈশিষ্ট্য
- ইলেকট্রন বিন্যাস [Ar] 4s¹ — একটিমাত্র যোজ্যতা ইলেকট্রন এত সহজে দান করে যে প্রকৃতিতে মুক্ত পটাশিয়াম কোথাও মেলে না: সবসময় এটি K⁺ আয়ন হয়েই বেড়ায়।
- ঠান্ডা পানির সঙ্গে প্রচণ্ড বিক্রিয়া করে পটাশিয়াম হাইড্রক্সাইড আর হাইড্রোজেন গ্যাস দেয়; বিক্রিয়ার তাপেই হাইড্রোজেন জ্বলে ওঠে, শিখাটি দারুণ দেখতে বেগুনি।
- লিথিয়ামের পরেই সবচেয়ে হালকা ধাতু — পানিতে ভেসে থাকে (ঘনত্ব ০.৮৬ গ্রাম/ঘন সেন্টিমিটার); বাতাস আর জলীয় বাষ্প থেকে দূরে রাখতে কেরোসিনের নিচে ডুবিয়ে রাখা হয়।
- এখানেই চতুর্থ শেল খোলে: পরমাণুর ভেতরের শক্তির ক্রম অনুযায়ী 3d-এর আগে 4s পূরণ হয় বলেই পটাশিয়াম দিয়ে শুরু হয় পর্যায় ৪।
রুপালি-সাদা ধাতু, এত নরম যে মাখনের ছুরি দিয়েই কাটা যায় — সদ্য কাটা তল ঝকঝকে ইস্পাতের মতো চকচক করে, তারপর কয়েক সেকেন্ডেই বাতাসের আক্রমণে মলিন হয়ে যায়। এতটাই হালকা (ঘনত্ব ০.৮৬ গ্রাম/ঘন সেন্টিমিটার) যে বিক্রিয়া করতে করতেও খণ্ডটি পানিতে ভেসে থাকে, হাইড্রোজেন বুদবুদের বালিশে দুলতে দুলতে।
কোথায় দেখা মেলে
✦ ব্যবহার
- পটাশিয়াম সার — বা মিউরিয়েট অব পটাশ, NPK-এর সেই K — বাংলাদেশের কলা, আখ, পাট আর সবজি ক্ষেতে প্রতি বছর হাজার হাজার টন এই সার খেয়ে ফেলে।
- পটাশিয়াম হাইড্রক্সাইড () — অ্যালকালাইন ব্যাটারির তড়িৎবাহী দ্রবণ, আবার নরম তরল সাবান ও ফটোগ্রাফির ডেভেলপার বানানোর ক্ষার।
- পটাশিয়াম নাইট্রেট () — বারুদের সেই শোরা, সঙ্গে দেশলাই মাথা ও আতশবাজির জারক; এর বেগুনি শিখাই উৎসবের রকেটে রং ছড়ায়।
- মুখে খাওয়া ওরস আর হাসপাতালের ড্রিপে পটাশিয়াম ক্লোরাইড — স্নায়ু, পেশি আর হৃৎস্পন্দন চালানোর K⁺ এভাবেই দেহে ফেরানো হয়।
◍ দৈনন্দিন উদাহরণ
- কলা আর নারকেল পটাশিয়ামে ভরপুর — একটা মাঝারি আকারের কলাতেই থাকে প্রায় ৪০০ মিলিগ্রাম K⁺।
- পাতলা পায়খানার দিনে যে ওরসের প্যাকেট গুলে খাওয়া হয়, তাতে লবণ-চিনির পাশাপাশি থাকে পটাশিয়াম ক্লোরাইড।
- আতশবাজির শেষ জমানো বেগুনি ঝিলিক আর দেশলাই মাথায় দেওয়ার মুহূর্তের ফটফট শব্দ — দুটোই পটাশিয়ামের উপস্থিতি প্রকাশ করে দেয়।
ইতিহাস ও নাম
কাঠ আর গাছপালার ছাই ধুয়ে যে সাদা লবণ পাওয়া যেত, সেটিই পটাশ — বহুকাল পাত্রে জমিয়ে রাখা হতো বলে ইংরেজি নাম "পট-অ্যাশ" বা পাত্রের ছাই; সাবান সেদ্ধ করা থেকে কাচ বানানো পর্যন্ত যুগ যুগ ধরে এর চল ছিল, আর কৃষকেরা জানত কলাগাছের কাণ্ড-খোসা পুড়িয়ে পাওয়া ছাই এতে বিশেষ ভরপুর। ১৮০৭ সালে হামফ্রি ডেভি গলানো কস্টিক পটাশের () ভেতর দিয়ে বিদ্যুৎ চালনা করতেই ক্যাথোড থেকে ঠিকরে বেরোল ঝকঝকে নতুন ধাতুর ফোঁটা — তড়িৎ বিশ্লেষণে পাওয়া প্রথম ধাতু এটিই। পটাশ থেকে এসেছে বলে ডেভি নাম দেন পটাশিয়াম; আর প্রতীক K মনে রাখে পুরনো লাতিন নাম কালিয়ামকে, যা এসেছে আরবি আল-কালিয়া অর্থাৎ "গাছের ছাই" থেকে।
কাছাকাছি মৌল
সারণিতে এই মৌলের ঠিক পাশে বসে থাকা মৌলগুলো — প্রায়ই রসায়নে সবচেয়ে কাছের আত্মীয়।
