১৯Kপটাশিয়াম39.098
পটাশিয়াম মৌলের প্রকৃত নমুনা
প্রকৃত নমুনার ছবি
ক্ষার ধাতু

পটাশিয়াম (K)

“একটিমাত্র বাইরের ইলেকট্রন ছাড়তে মরিয়া ধাতু — পানির ওপর ভেসে ভেসে বেগুনি শিখায় নাচে, অথচ তোমার স্নায়ু আর কলাগাছ শান্তভাবেই অপেক্ষা করে এর আয়নের জন্য।”

পারমাণবিক সংখ্যা১৯
পারমাণবিক ভর39.098
গ্রুপ১
পর্যায়৪
ব্লকS-block
অবস্থাকঠিন
ইলেকট্রন কাঠামো

ইলেকট্রনগুলো কীভাবে সাজানো

K
[Ar] 4s1
শেল ১
২e⁻
শেল ২
৮e⁻
শেল ৩
৮e⁻
শেল ৪
১e⁻

আউফবাউ নীতি থেকে গণনা করা হয়, বাস্তবের পরিচিত ব্যতিক্রমগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য হয়।

স্টাডি

নোটগুলো

মৌলটি সম্পর্কে

বৈশিষ্ট্য

  • ইলেকট্রন বিন্যাস [Ar] 4s¹ — একটিমাত্র যোজ্যতা ইলেকট্রন এত সহজে দান করে যে প্রকৃতিতে মুক্ত পটাশিয়াম কোথাও মেলে না: সবসময় এটি K⁺ আয়ন হয়েই বেড়ায়।
  • ঠান্ডা পানির সঙ্গে প্রচণ্ড বিক্রিয়া করে পটাশিয়াম হাইড্রক্সাইড আর হাইড্রোজেন গ্যাস দেয়; বিক্রিয়ার তাপেই হাইড্রোজেন জ্বলে ওঠে, শিখাটি দারুণ দেখতে বেগুনি।
  • লিথিয়ামের পরেই সবচেয়ে হালকা ধাতু — পানিতে ভেসে থাকে (ঘনত্ব ০.৮৬ গ্রাম/ঘন সেন্টিমিটার); বাতাস আর জলীয় বাষ্প থেকে দূরে রাখতে কেরোসিনের নিচে ডুবিয়ে রাখা হয়।
  • এখানেই চতুর্থ শেল খোলে: পরমাণুর ভেতরের শক্তির ক্রম অনুযায়ী 3d-এর আগে 4s পূরণ হয় বলেই পটাশিয়াম দিয়ে শুরু হয় পর্যায় ৪।
দেখতে কেমন

রুপালি-সাদা ধাতু, এত নরম যে মাখনের ছুরি দিয়েই কাটা যায় — সদ্য কাটা তল ঝকঝকে ইস্পাতের মতো চকচক করে, তারপর কয়েক সেকেন্ডেই বাতাসের আক্রমণে মলিন হয়ে যায়। এতটাই হালকা (ঘনত্ব ০.৮৬ গ্রাম/ঘন সেন্টিমিটার) যে বিক্রিয়া করতে করতেও খণ্ডটি পানিতে ভেসে থাকে, হাইড্রোজেন বুদবুদের বালিশে দুলতে দুলতে।

বাস্তব জগৎ

কোথায় দেখা মেলে

✦ ব্যবহার

  • পটাশিয়াম সার — KCl\mathrm{KCl} বা মিউরিয়েট অব পটাশ, NPK-এর সেই K — বাংলাদেশের কলা, আখ, পাট আর সবজি ক্ষেতে প্রতি বছর হাজার হাজার টন এই সার খেয়ে ফেলে।
  • পটাশিয়াম হাইড্রক্সাইড (KOH\mathrm{KOH}) — অ্যালকালাইন ব্যাটারির তড়িৎবাহী দ্রবণ, আবার নরম তরল সাবান ও ফটোগ্রাফির ডেভেলপার বানানোর ক্ষার।
  • পটাশিয়াম নাইট্রেট (KNO3\mathrm{KNO_{3}}) — বারুদের সেই শোরা, সঙ্গে দেশলাই মাথা ও আতশবাজির জারক; এর বেগুনি শিখাই উৎসবের রকেটে রং ছড়ায়।
  • মুখে খাওয়া ওরস আর হাসপাতালের ড্রিপে পটাশিয়াম ক্লোরাইড — স্নায়ু, পেশি আর হৃৎস্পন্দন চালানোর K⁺ এভাবেই দেহে ফেরানো হয়।

◍ দৈনন্দিন উদাহরণ

  • কলা আর নারকেল পটাশিয়ামে ভরপুর — একটা মাঝারি আকারের কলাতেই থাকে প্রায় ৪০০ মিলিগ্রাম K⁺।
  • পাতলা পায়খানার দিনে যে ওরসের প্যাকেট গুলে খাওয়া হয়, তাতে লবণ-চিনির পাশাপাশি থাকে পটাশিয়াম ক্লোরাইড।
  • আতশবাজির শেষ জমানো বেগুনি ঝিলিক আর দেশলাই মাথায় দেওয়ার মুহূর্তের ফটফট শব্দ — দুটোই পটাশিয়ামের উপস্থিতি প্রকাশ করে দেয়।
ইতিহাস

ইতিহাস ও নাম

কাঠ আর গাছপালার ছাই ধুয়ে যে সাদা লবণ পাওয়া যেত, সেটিই পটাশ — বহুকাল পাত্রে জমিয়ে রাখা হতো বলে ইংরেজি নাম "পট-অ্যাশ" বা পাত্রের ছাই; সাবান সেদ্ধ করা থেকে কাচ বানানো পর্যন্ত যুগ যুগ ধরে এর চল ছিল, আর কৃষকেরা জানত কলাগাছের কাণ্ড-খোসা পুড়িয়ে পাওয়া ছাই এতে বিশেষ ভরপুর। ১৮০৭ সালে হামফ্রি ডেভি গলানো কস্টিক পটাশের (KOH\mathrm{KOH}) ভেতর দিয়ে বিদ্যুৎ চালনা করতেই ক্যাথোড থেকে ঠিকরে বেরোল ঝকঝকে নতুন ধাতুর ফোঁটা — তড়িৎ বিশ্লেষণে পাওয়া প্রথম ধাতু এটিই। পটাশ থেকে এসেছে বলে ডেভি নাম দেন পটাশিয়াম; আর প্রতীক K মনে রাখে পুরনো লাতিন নাম কালিয়ামকে, যা এসেছে আরবি আল-কালিয়া অর্থাৎ "গাছের ছাই" থেকে।

নামের উৎসইংরেজি "পটাশ" (পাত্র + ছাই) — ডেভি যে পদার্থের তড়িৎ বিশ্লেষণ করেছিলেন; প্রতীক K এসেছে লাতিন kalium থেকে, যার আদি উৎস আরবি al-qalyah অর্থ "গাছের ছাই"।
পাশের মৌল

কাছাকাছি মৌল

সারণিতে এই মৌলের ঠিক পাশে বসে থাকা মৌলগুলো — প্রায়ই রসায়নে সবচেয়ে কাছের আত্মীয়।