১৭Clক্লোরিন35.45
ক্লোরিন মৌলের প্রকৃত নমুনা
প্রকৃত নমুনার ছবি
হ্যালোজেন

ক্লোরিন (Cl)

“সিলিন্ডারে বিষ, পানি শুদ্ধকরণ কেন্দ্রে প্রাণরক্ষক — দুনিয়ার বেশিরভাগ খাবার পানি নীরবে জীবাণুমুক্ত করে এই হলদে-সবুজ গ্যাস।”

পারমাণবিক সংখ্যা১৭
পারমাণবিক ভর35.45
গ্রুপ১৭
পর্যায়৩
ব্লকP-block
অবস্থাগ্যাস
ইলেকট্রন কাঠামো

ইলেকট্রনগুলো কীভাবে সাজানো

Cl
[Ne] 3s2 3p5
শেল ১
২e⁻
শেল ২
৮e⁻
শেল ৩
৭e⁻

আউফবাউ নীতি থেকে গণনা করা হয়, বাস্তবের পরিচিত ব্যতিক্রমগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য হয়।

স্টাডি

নোটগুলো

মৌলটি সম্পর্কে

বৈশিষ্ট্য

  • হলদে-সবুজ, বিষাক্ত গ্যাস, অণু রূপ Cl2\mathrm{Cl_{2}}; বাতাসের চেয়ে প্রায় আড়াই গুণ ঘন — প্রথম বিশ্বযুদ্ধের খাদে আসলেই রাসায়নিক অস্ত্র হিসেবে এটি ব্যবহৃত হয়েছিল।
  • ইলেকট্রন বিন্যাস [Ne] 3s² 3p⁵ — পূর্ণ অক্টেট থেকে মাত্র একটি ইলেকট্রনের ঘাটতি, তাই তীব্রভাবে ইলেকট্রন ছিনিয়ে নিয়ে প্রায় সব মৌলের সঙ্গে ক্লোরাইড (Cl⁻) আয়ন গড়ে।
  • অত্যন্ত শক্তিশালী জারক ও ব্লিচিং (রং ওঠানো) কারক: ভেজা লাল লিটমাস এর সামনে সাদা হয়ে যায়, আর একই ইলেকট্রন-ছোঁ রসায়নে ব্যাকটেরিয়া-ভাইরাসও মারা পড়ে।
  • এতটাই সক্রিয় যে প্রকৃতিতে মুক্ত ক্লোরিন টিকে থাকতে পারে না — সমুদ্রের পানিতে (ভরের প্রায় ১.৯%) আর বিশাল পাথর-লবণের স্তরে এটি ক্লোরাইড আয়ন হয়েই থাকে।
দেখতে কেমন

হলদে-সবুজ রঙের, তীব্র ঝাঁঝালো গন্ধের গ্যাস — বাতাসের চেয়ে প্রায় আড়াই গুণ ভারী বলে নিচু জায়গায় গিয়ে জমে। এটি দ্বিপরমাণবক Cl2\mathrm{Cl_{2}} অণু আকারে ঘোরে আর মাত্র −৩৪°C-তেই তরল হয়ে যায় — সে কারণেই সিলিন্ডার বা ট্যাংকে চাপ দিয়ে এটি বহন করা হয়।

বাস্তব জগৎ

কোথায় দেখা মেলে

✦ ব্যবহার

  • খাবার পানি জীবাণুমুক্ত করতে — মাত্র কয়েক পিপিএম ক্লোরিনেই কলেরা-টাইফয়েডের জীবাণু মারা পড়ে; ঢাকাসহ দুনিয়ার পানি শুদ্ধকরণ কেন্দ্রগুলোতে প্রতিদিনই এই ডোজ দেওয়া হয়।
  • সুতা ও কাপড় ধোয়ার ব্লিচিং পাউডার [Ca(OCl)2\mathrm{Ca(OCl)_{2}}] — পোশাক কারখানার ওয়াশিং ইউনিটের প্রাণ, আর ড্রেন বা পুকুরের জীবাণুনাশনেও এটি চলে।
  • পিভিসি (পলিভিনাইল ক্লোরাইড) প্লাস্টিক — পানির পাইপ, বৈদ্যুতিক তারের নিরোধক, রক্তের ব্যাগ, রেইনকোট আর চটি-জুতো সবই ক্লোরিন-রসায়নের সন্তান।
  • ক্লোর-অ্যালকালি শিল্পে লবণ-পানি ভেঙে ক্লোরিন, হাইড্রোজেন আর কস্টিক সোডা (NaOH\mathrm{NaOH}) — সাবান, ব্লিচ, হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড আর অসংখ্য রসায়নের কাঁচামাল।

◍ দৈনন্দিন উদাহরণ

  • খাবার লবণের প্রতিটি দানা সোডিয়াম ক্লোরাইড — ভর হিসাবে অর্ধেকটাই ক্লোরিন; ওরসের প্যাকেটেও থাকে পটাশিয়াম ক্লোরাইড।
  • সুইমিং পুলের সেই ঝাঁঝালো গন্ধ — পানির জীবাণু আর ঘামের ওপর ক্লোরিন-রসায়নের হামলা চলারই লক্ষণ।
  • নতুন খোলা কলের পানিতে বা ব্লিচিং পাউডারে ধোয়া কাপড়ে যে হালকা ঝাঁঝ টের পাওয়া যায়, সেটাই লঘু ক্লোরিনের কাজ।
ইতিহাস

ইতিহাস ও নাম

১৭৭৪ সালে সুইডিশ ওষুধ-ব্যবসায়ী কার্ল ভিলহেল্ম শিলি হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিডের সঙ্গে কালো খনিজ পাইরোলুসাইট (MnO2\mathrm{MnO_{2}}) গরম করে হলদে-সবুজ, ঝাঁঝালো এক গ্যাস সংগ্রহ করেন — কিন্তু তিনি ভেবেছিলেন এটি "ডিফ্লজিস্টিকেটেড মিউরিয়াটিক অ্যাসিড", নতুন কোনো মৌল নয়। ছত্রিশ বছর ধরে রসায়নবিদেরা গ্যাসটি নিয়ে ভেবেছেন, শেষে ১৮১০ সালে হামফ্রি ডেভি প্রমাণ করেন এটিকে আর ভাঙা যায় না — এটি মৌল; আর গ্রিক শব্দ ক্লোরোস (হলদে-সবুজ) থেকে এর নাম দেন ক্লোরিন। সবুজ গ্যাসটিই হয়ে ওঠে সক্রিয় মৌলদের এক পূর্ণ পরিবারের — হ্যালোজেনদের — জনক।

নামের উৎসগ্রিক শব্দ chlōros, অর্থ "হলদে-সবুজ" — গ্যাসটির নিজের রঙের নাম; ১৮১০ সালে হামফ্রি ডেভি নামটি দেন।
পাশের মৌল

কাছাকাছি মৌল

সারণিতে এই মৌলের ঠিক পাশে বসে থাকা মৌলগুলো — প্রায়ই রসায়নে সবচেয়ে কাছের আত্মীয়।