
ক্লোরিন (Cl)
“সিলিন্ডারে বিষ, পানি শুদ্ধকরণ কেন্দ্রে প্রাণরক্ষক — দুনিয়ার বেশিরভাগ খাবার পানি নীরবে জীবাণুমুক্ত করে এই হলদে-সবুজ গ্যাস।”
ইলেকট্রনগুলো কীভাবে সাজানো
আউফবাউ নীতি থেকে গণনা করা হয়, বাস্তবের পরিচিত ব্যতিক্রমগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য হয়।
নোটগুলো
বৈশিষ্ট্য
- হলদে-সবুজ, বিষাক্ত গ্যাস, অণু রূপ ; বাতাসের চেয়ে প্রায় আড়াই গুণ ঘন — প্রথম বিশ্বযুদ্ধের খাদে আসলেই রাসায়নিক অস্ত্র হিসেবে এটি ব্যবহৃত হয়েছিল।
- ইলেকট্রন বিন্যাস [Ne] 3s² 3p⁵ — পূর্ণ অক্টেট থেকে মাত্র একটি ইলেকট্রনের ঘাটতি, তাই তীব্রভাবে ইলেকট্রন ছিনিয়ে নিয়ে প্রায় সব মৌলের সঙ্গে ক্লোরাইড (Cl⁻) আয়ন গড়ে।
- অত্যন্ত শক্তিশালী জারক ও ব্লিচিং (রং ওঠানো) কারক: ভেজা লাল লিটমাস এর সামনে সাদা হয়ে যায়, আর একই ইলেকট্রন-ছোঁ রসায়নে ব্যাকটেরিয়া-ভাইরাসও মারা পড়ে।
- এতটাই সক্রিয় যে প্রকৃতিতে মুক্ত ক্লোরিন টিকে থাকতে পারে না — সমুদ্রের পানিতে (ভরের প্রায় ১.৯%) আর বিশাল পাথর-লবণের স্তরে এটি ক্লোরাইড আয়ন হয়েই থাকে।
হলদে-সবুজ রঙের, তীব্র ঝাঁঝালো গন্ধের গ্যাস — বাতাসের চেয়ে প্রায় আড়াই গুণ ভারী বলে নিচু জায়গায় গিয়ে জমে। এটি দ্বিপরমাণবক অণু আকারে ঘোরে আর মাত্র −৩৪°C-তেই তরল হয়ে যায় — সে কারণেই সিলিন্ডার বা ট্যাংকে চাপ দিয়ে এটি বহন করা হয়।
কোথায় দেখা মেলে
✦ ব্যবহার
- খাবার পানি জীবাণুমুক্ত করতে — মাত্র কয়েক পিপিএম ক্লোরিনেই কলেরা-টাইফয়েডের জীবাণু মারা পড়ে; ঢাকাসহ দুনিয়ার পানি শুদ্ধকরণ কেন্দ্রগুলোতে প্রতিদিনই এই ডোজ দেওয়া হয়।
- সুতা ও কাপড় ধোয়ার ব্লিচিং পাউডার [] — পোশাক কারখানার ওয়াশিং ইউনিটের প্রাণ, আর ড্রেন বা পুকুরের জীবাণুনাশনেও এটি চলে।
- পিভিসি (পলিভিনাইল ক্লোরাইড) প্লাস্টিক — পানির পাইপ, বৈদ্যুতিক তারের নিরোধক, রক্তের ব্যাগ, রেইনকোট আর চটি-জুতো সবই ক্লোরিন-রসায়নের সন্তান।
- ক্লোর-অ্যালকালি শিল্পে লবণ-পানি ভেঙে ক্লোরিন, হাইড্রোজেন আর কস্টিক সোডা () — সাবান, ব্লিচ, হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড আর অসংখ্য রসায়নের কাঁচামাল।
◍ দৈনন্দিন উদাহরণ
- খাবার লবণের প্রতিটি দানা সোডিয়াম ক্লোরাইড — ভর হিসাবে অর্ধেকটাই ক্লোরিন; ওরসের প্যাকেটেও থাকে পটাশিয়াম ক্লোরাইড।
- সুইমিং পুলের সেই ঝাঁঝালো গন্ধ — পানির জীবাণু আর ঘামের ওপর ক্লোরিন-রসায়নের হামলা চলারই লক্ষণ।
- নতুন খোলা কলের পানিতে বা ব্লিচিং পাউডারে ধোয়া কাপড়ে যে হালকা ঝাঁঝ টের পাওয়া যায়, সেটাই লঘু ক্লোরিনের কাজ।
ইতিহাস ও নাম
১৭৭৪ সালে সুইডিশ ওষুধ-ব্যবসায়ী কার্ল ভিলহেল্ম শিলি হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিডের সঙ্গে কালো খনিজ পাইরোলুসাইট () গরম করে হলদে-সবুজ, ঝাঁঝালো এক গ্যাস সংগ্রহ করেন — কিন্তু তিনি ভেবেছিলেন এটি "ডিফ্লজিস্টিকেটেড মিউরিয়াটিক অ্যাসিড", নতুন কোনো মৌল নয়। ছত্রিশ বছর ধরে রসায়নবিদেরা গ্যাসটি নিয়ে ভেবেছেন, শেষে ১৮১০ সালে হামফ্রি ডেভি প্রমাণ করেন এটিকে আর ভাঙা যায় না — এটি মৌল; আর গ্রিক শব্দ ক্লোরোস (হলদে-সবুজ) থেকে এর নাম দেন ক্লোরিন। সবুজ গ্যাসটিই হয়ে ওঠে সক্রিয় মৌলদের এক পূর্ণ পরিবারের — হ্যালোজেনদের — জনক।
কাছাকাছি মৌল
সারণিতে এই মৌলের ঠিক পাশে বসে থাকা মৌলগুলো — প্রায়ই রসায়নে সবচেয়ে কাছের আত্মীয়।
