২০Caক্যালসিয়াম40.078
ক্যালসিয়াম মৌলের প্রকৃত নমুনা
প্রকৃত নমুনার ছবি
মৃৎক্ষার ধাতু

ক্যালসিয়াম (Ca)

“চোখের সামনেই লুকায়িত ধাতু — তোমার হাড়, ডিমের খোসা, ব্ল্যাকবোর্ডের চক আর পদ্মা সেতুর কংক্রিট, সবই দাঁড়িয়ে ভূত্বক্ষের এই পঞ্চম সর্বাধিক মৌলের ওপর।”

পারমাণবিক সংখ্যা২০
পারমাণবিক ভর40.078
গ্রুপ২
পর্যায়৪
ব্লকS-block
অবস্থাকঠিন
ইলেকট্রন কাঠামো

ইলেকট্রনগুলো কীভাবে সাজানো

Ca
[Ar] 4s2
শেল ১
২e⁻
শেল ২
৮e⁻
শেল ৩
৮e⁻
শেল ৪
২e⁻

আউফবাউ নীতি থেকে গণনা করা হয়, বাস্তবের পরিচিত ব্যতিক্রমগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য হয়।

স্টাডি

নোটগুলো

মৌলটি সম্পর্কে

বৈশিষ্ট্য

  • ইলেকট্রন বিন্যাস [Ar] 4s² — দুটি যোজ্যতা ইলেকট্রন এত সহজে ছাড়ে যে ক্যালসিয়ামের প্রায় সব রসায়নই আসলে Ca²⁺ আয়নের রসায়ন।
  • ভূত্বক্ষের পঞ্চম সর্বাধিক প্রাপ্ত মৌল: চুনাপাথর, মার্বেল আর চক সবই ক্যালসিয়াম কার্বনেট (CaCO3\mathrm{CaCO_{3}}) — কোটি কোটি বছর ধরে প্রাচীন সামুদ্রিক প্রাণীর খোসা জমে জমে গড়া স্তর।
  • পটাশিয়ামের চেয়ে অনেক শান্তভাবে পানির সঙ্গে বিক্রিয়া করে — ক্যালসিয়াম হাইড্রক্সাইডে রূপ নিতে নিতে হাইড্রোজেনের বুদবুদ ধারাবাহিকভাবে উঠতে থাকে, আর সেই দ্রবণই গবেষণাগারের "লাইম ওয়াটার"।
  • এর যৌগগুলো শিখাকে ইটের মতো লাল (খয়েরি-কমলা) করে তোলে — ক্যালসিয়ামের চিরাচরিত ফ্লেম টেস্ট; আর দ্রবীভূত Ca²⁺-ই পানিকে "খর" করে তোলে।
দেখতে কেমন

রুপালি-সাদা, বেশ নরম ধাতু — খোলা বাতাসে কয়েক মিনিটেই ধূসর প্রলেপে মলিন হয়ে যায়। গবেষণাগারে এটি বদ্ধ বোতলে কুচি বা ফিতার মতো আসে, কিন্তু দৈনন্দিন জীবনে খাঁটি ধাতুটির সঙ্গে দেখা প্রায় হয়ই না — চক, মার্বেল বা চুনাপাথরের মতো যৌগ হয়েই ক্যালসিয়াম ঘোরে।

বাস্তব জগৎ

কোথায় দেখা মেলে

✦ ব্যবহার

  • সিমেন্ট ও কংক্রিট — চুনাপাথর পুড়িয়ে বানানো ক্লিংকারই গ্রামের পিলার থেকে পদ্মা সেতু পর্যন্ত সব স্থাপনার আঠা, আর চুনের গাঁথুনিতে শতাব্দীর পর শতাব্দী সাজছে বাঙালির ঘর।
  • হাড় ও দাঁতের সুস্থতা — হাইড্রক্সিঅ্যাপাটাইট নামের ক্যালসিয়াম ফসফেটই কঙ্কালের খনিজ; দুধ, কাঁটাসহ খাওয়া ছোট মাছ (মলা-ঢেলা), ডিমের খোসা আর ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট সেই মজুত পূরণ করে।
  • প্লাস্টার অব প্যারিস ও জিপসাম বোর্ড — ক্যালসিয়াম সালফেট হেমিহাইড্রেট (CaSO4\mathrm{CaSO_{4}}·½H2O\mathrm{H_{2}O}) জমাট বেঁধেই হাড় ভাঙা জোড়া লাগানোর প্লাস্টার আর আধুনিক দালানের সিলিং-প্যানেল।
  • বস্তার চুন [Ca(OH)2\mathrm{Ca(OH)_{2}}] উৎসবের আগে গ্রামের দেয়াল সাদা করে আর আম্লিক ক্ষেতের মাটি ঠিক করে; সেই চুন থেকেই বানে পানি জীবাণুমুক্ত করার ব্লিচিং পাউডার।

◍ দৈনন্দিন উদাহরণ

  • ডিমের খোসা, শামুকের খোল আর ঝিনুকের খোসা প্রায় খাঁটি CaCO3\mathrm{CaCO_{3}} — একটার ওপর ভিনেগার ফেললে দেখবে CO2\mathrm{CO_{2}}-এর ফিনফিন বুদবুদ উঠছে।
  • ব্ল্যাকবোর্ডের চক চাপা হয়ে থাকা ক্যালসিয়াম কার্বনেট, আর বুক-জ্বালা মেটানোর অ্যান্টাসিড ট্যাবলেটও তাই-ই।
  • দুধ-দই, কাঁটাসহ খাওয়া ছোট মাছ আর শাকপাতা — বাঙালি থালার রোজকার ক্যালসিয়ামের উৎস এগুলোই।
ইতিহাস

ইতিহাস ও নাম

চুনাপাথর পুড়িয়ে পাওয়া সাদা গুঁড়ো চুন যুগ যুগ ধরে ঘর গাঁথছে আর পিরামিড তুলেছে, কিন্তু এটি আসলে কী — তা রসায়নবিদদের কাছে রহস্যই ছিল। ১৭৮৯ সালে আঁতোয়ান লাভোয়াজিয়ে চুনকে তাঁর নতুন "মৃৎ" পদার্থের তালিকায় রাখেন এবং সন্দেহ করেন যে প্রতিটি মৃত্বক্‌ পদার্থের ভেতরে একেকটি ধাতু লুকিয়ে আছে — অনুমানটি সঠিক প্রমাণিত হলো। ১৮০৮ সালে পটাশিয়াম-সাফল্যের উত্তেজনা নিয়েই হামফ্রি ডেভি চুন ও পারদ-অক্সাইডের পেস্টের ভেতর দিয়ে বিদ্যুৎ চালনা করে ক্যাথোডে জমা পেলেন ক্যালসিয়াম-পারদ অ্যামালগাম, তারপর পারদ উবিয়ে বের করে সামনে আনলেন ঝকঝকে ক্যালসিয়াম ধাতু। মৌলটির নাম এলো লাতিন calx অর্থাৎ চুন থেকে।

নামের উৎসলাতিন calx, অর্থ "চুন" — রোমানরা যে পাথর পুড়িয়ে সুরকির চুন বানাত।
পাশের মৌল

কাছাকাছি মৌল

সারণিতে এই মৌলের ঠিক পাশে বসে থাকা মৌলগুলো — প্রায়ই রসায়নে সবচেয়ে কাছের আত্মীয়।