
টাইটানিয়াম (Ti)
“ইস্পাতের সমান শক্ত, ওজনে তার অর্ধেকও নয় — আর মানবদেহের প্রতি এত ভদ্র যে হাড়ের কোষ একে নিজেরই অঙ্গ ভেবে জড়িয়ে ধরে।”
ইলেকট্রনগুলো কীভাবে সাজানো
আউফবাউ নীতি থেকে গণনা করা হয়, বাস্তবের পরিচিত ব্যতিক্রমগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য হয়।
নোটগুলো
বৈশিষ্ট্য
- ইলেকট্রন বিন্যাস [Ar] 3d² 4s² — পর্যায় ৪, গ্রুপ ৪, d-ব্লক; যৌগে এর পছন্দের আসন +4 জারণ অবস্থা — যেমন তুষার-সাদা , যা পৃথিবীর অর্ধেক রং করে।
- গাঠনিক ধাতুদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ শক্তি-ওজনের সমীকরণ: ইস্পাতের ঘনত্বের সামান্য বেশি-অর্ধেকে অনেক ইস্পাতের সমান টেকসই — তাই জেট ইঞ্জিন, তাই রেসিং বাইক।
- মাত্র ন্যানোমিটার-পুরু নিষ্ক্রিয় পাতের আড়ালে ক্ষয়রোধ: সমুদ্রের পানি, ভেজা ক্লোরিন, এমনকি কক্ষ-তাপমাত্রার অ্যাকুয়া রেজিয়াও প্রবেশাধিকার পায় না।
- দেহের সম্মানিত অতিথি — দেহ-রসে ক্ষয় হয় না, বিষাক্তও নয়; হাড়ের কোষ একে সরাসরি ধরে ফেলে, শল্য-বিজ্ঞানে যার নাম অসিওইন্টিগ্রেশন।
চকচকে, গাঢ় রুপালি-ধূসর ধাতু — এত শক্ত হয়েও বেশ হালকা। ঘষা তল ইস্পাতের মতো ঝকঝক করে, কিন্তু সেই দ্যুতি সমুদ্রের পানি, ঘাম, এমনকি অ্যাকুয়া রেজিয়াকেও হার মানায় না; কারণ চোখের পলকেই তলটি ঢেকে নেয় নিজেকে টাইটানিয়াম ডাই-অক্সাইডের অদৃশ্য চামড়ায়।
কোথায় দেখা মেলে
✦ ব্যবহার
- কৃত্রিম জয়েন্ট ও ডেন্টাল ইমপ্ল্যান্ট — টাইটানিয়ামের কৃত্রিম হিপ, হাঁটু আর দাঁতের শিকড় রোগীর দেহে দশকের পর দশক বসে থাকে; মরিচা ধরে না, দেহ প্রত্যাখ্যানও করে না।
- বিমান — জেট-ইঞ্জিনের ব্লেড থেকে ল্যান্ডিং গিয়ার, যেখানে তাপ আর লবণ সাধারণ ধাতু পচিয়ে দিত, সেখানেই বিমান-কাঠামো গিলে নেয় টাইটানিয়াম; একেকটি বোয়িং ৭৮৭-এর প্রায় সপ্তমাংশ ওজনই এই ধাতু।
- রেসিং সাইকেল — টাইটানিয়াম ফ্রেমের জনশ্রুতি, সওয়ারির চেয়ে ফ্রেমই বেশিদিন টেকে; ইস্পাতের নরম বাউন্সের সঙ্গে অ্যালুমিনিয়ামের হালকা ভার একসঙ্গে।
- টাইটানিয়াম ডাই-অক্সাইড — পৃথিবীর সবচেয়ে সাদা সাদা রং; দেয়ালের রং, টুথপেস্ট ও কাগজের সাদা, আর বাংলাদেশের রোদেলা ত্বকে সানস্ক্রিনের UV-ঢাল।
◍ দৈনন্দিন উদাহরণ
- বাথরুমের টুথপেস্টের টিউব আর দেয়ালের সাদা রং — দুটোরই সাদা-ভাব এসেছে টাইটানিয়াম ডাই-অক্সাইডের গুঁড়া থেকে।
- কক্সবাজারের সৈকত-বালিতে মিশে থাকা ভারী কালো কণাগুলোর মধ্যে আছে ইলমেনাইট — এক লোহা-টাইটানিয়াম অক্সাইড; বিশ্ব যে আকরিক গলিয়ে টাইটানিয়াম তোলে, তারই নাম।
- দাদুর নতুন হিপ-জয়েন্টে ভর দিয়ে মসজিদে হাঁটা, বা চাচাতো ভাইয়ের ঝলমলে রেসিং বাইক — দুটোতেই নীরবে কাজ করছে টাইটানিয়াম।
ইতিহাস ও নাম
১৭৯১ সালে কর্নওয়ালের ধর্মযাজক ও খণ্ডকালীন খনিজবিদ উইলিয়াম গ্রেগর মেনাকান উপত্যকার অদ্ভুত কালো বালি বিশ্লেষণ করে পান এক সাদা অক্সাইড, যার সঙ্গে কোনো জানা মৌলের মিলই খুঁজে পাননি। চার বছর পর বার্লিনে মার্টিন হাইনরিখ ক্লাপরোথ রুটাইল খনিজের ভেতরে খুঁজে পান সেই একই অচেনা, বুঝে যান এ নতুন এক মৌল, আর নাম রাখেন টাইটানিয়াম — গ্রিক পুরাণের ধরিত্রী-পুত্র পরাক্রমী দৈত্য টাইটানদের নামে — স্বীকার করেই যে এমন গুপ্ত-শক্তির ধাতুর প্রতি ন্যায় করতে প্রাচীন কোনো নামই যথেষ্ট নয়। কেউই খাঁটি ধাতুটি চোখে দেখে যাননি: ১৯১০ সালে ম্যাথিউ হান্টারের সোডিয়ামের কাছে ধাতুটি সমর্পণ করে, আর ১৯২৫ সালের আয়োডাইড পদ্ধতিতে মেলে ৯৯.৯% খাঁটি টাইটানিয়াম।
কাছাকাছি মৌল
সারণিতে এই মৌলের ঠিক পাশে বসে থাকা মৌলগুলো — প্রায়ই রসায়নে সবচেয়ে কাছের আত্মীয়।
