
ক্রোমিয়াম (Cr)
“নামেরই মানে রং — যৌগগুলো সবুজ, হলদে, কমলা; আর কয়েক ভাগ মেশালেই মরিচাপ্রবণ লোহা হয়ে ওঠে স্টেইনলেস স্টিল।”
ইলেকট্রনগুলো কীভাবে সাজানো
আউফবাউ নীতি থেকে গণনা করা হয়, বাস্তবের পরিচিত ব্যতিক্রমগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য হয়।
নোটগুলো
বৈশিষ্ট্য
- ইলেকট্রন বিন্যাস [Ar] 3d⁵ 4s¹ — অফবাউ নিয়মের বিখ্যাত বিপ্লবী: প্রত্যাশিত 3d⁴ 4s² না হয়ে পরমাণু 4s থেকে একটি ইলেকট্রন d-উপস্তরে তুলে দিয়ে তাকে অর্ধপূর্ণ করে নেয়, কিনে নেয় বাড়তি স্থিরতা।
- খাঁটি ধাতুদের মধ্যে সবচেয়ে কঠিনদের একটি — ক্রোমিয়ামের দলা দিয়ে কাচে আঁচড় পড়ে; গলনাঙ্ক ১৯০৭ °C, লোহার চেয়েও অনেক ওপরে।
- নিষ্ক্রিয়করণের চ্যাম্পিয়ন: আত্ম-মেরামতকারী স্তর ক্রোমিয়াম ও তার স্টেইনলেস সংকরকে পানি, বাতাস আর বেশিরভাগ অ্যাসিডের প্রতি উদাসীন রাখে।
- যৌগগুলো রসায়নকে রঙিনই রাখে: Cr³⁺ সবুজ, ক্রোমেট ²⁻ হলদে, ডাইক্রোমেট ²⁻ কমলা — আর পটাশিয়াম ডাইক্রোমেটের কমলা কেলাস স্কুল-ল্যাবের পরিচিত মুখ।
ইস্পাত-ধূসর, চকচকে ধাতু — এত কঠিন যে খাঁটি নমুনা দিয়ে কাচে আঁচড় পড়ে; ঘষলে দাঁড়ির আয়নার মতো উজ্জ্বল হয়, যা বছরের পর বছরেও মলিন হতে চায় না। এই স্থায়ী দ্যুতি এক রাসায়নিক কৌশল: বাতাস মুহূর্তেই পৃষ্ঠটিকে মুড়ে দেয় মাত্র কয়েক পরমাণু-পুরু স্তরে, আর সেই ঢাল কাউকেই ঢুকতে দেয় না।
কোথায় দেখা মেলে
✦ ব্যবহার
- স্টেইনলেস স্টিল — বাসন-কোসন, সিঙ্ক, শল্যচিকিৎসার যন্ত্র আর পানির ট্যাংক, সবই প্রায় ১৮% ক্রোমিয়াম-মেশানো লোহা; মরিচাকে প্রত্যাখ্যান করা সেই ঢাল।
- ক্রোম প্রলেপন — সাইকেলের চকচকে হ্যান্ডেলবার, রিম আর মোটরবাইক-বাসের বাম্পার হলো নিকেলের ওপর তড়িৎ-প্রলেপিত ক্রোমিয়ামের আস্তরণ।
- পটাশিয়াম ডাইক্রোমেট — স্কুল-কলেজের টাইট্রেশনের কমলা জারক; বিশ্লেষ্য থেকে ইলেকট্রন গ্রহণ করতে করতে সবুজ হয়ে যায়।
- রং ও চামড়া শিল্প — ক্রোম হলুদ একসময় ট্যাক্সি-স্কুলবাস আঁকত; ক্রোমিয়াম সালফেট আজও বিশ্বের বেশিরভাগ চামড়া “ট্যান” করে।
◍ দৈনন্দিন উদাহরণ
- বাংলাদেশি রান্নাঘরের স্টেইনলেস চামচ আর টিফিন-বক্সের দ্যুতি একেবারে সংকর ধাতুর ভেতরে লুকানো ওই ক্রোমিয়ামেরই দান।
- সকালের রাস্তায় সাইকেলের ক্রোম-হ্যান্ডেলবারের আয়নার মতো ঝিলিক হলো তড়িৎ-প্রলেপিত ক্রোমিয়ামেরই নীরব কাজ।
- গয়নার দোকানের রুবির আগুন আর পান্নার সবুজ — দুটোই ধার করেছে কেলাসে বন্দি ক্রোমিয়াম পরমাণুর কাছ থেকে।
ইতিহাস ও নাম
১৭৯৭ সালে প্যারিসের রসায়নবিদ লুই-নিকোলা ভোকল্যাঁ-এর হাতে আসে ক্রোকোইটের চোখ ধাঁধানো কমলা-লাল কেলাস — ডাকনাম “সাইবেরিয়ান লাল সীসা” — রাশিয়ার এক সোনার খনি থেকে; খুঁজে দেখেন রংটি এসেছে অজানা এক অ্যাসিডের সীসা-লবণ থেকে, আর তার ভেতরে লুকানো একেবারে নতুন এক ধাতু। ১৭৯৮-এর গোড়ায় নতুন অক্সাইডটি কাঠকয়লার সঙ্গে পোড়াতেই তিনি পান ক্রোমিয়ামের প্রথম ক্ষুদ্র ধূসর দানাগুলো। মৌলটির যৌগ যেহেতু রং রেখে রং ফেলে — ক্রোম হলুদ, ক্রোম সবুজ, রুবির লাল — তাই গ্রিক chroma অর্থাৎ “রং” থেকে তিনি নাম দেন ক্রোমিয়াম। পরে জানা গেল, প্রকৃতি আদিকাল থেকেই একে নিজের রংমিস্ত্রি হিসেবে নিয়োগ রেখেছিলেন: খানিকটা ক্রোমিয়ামেই রুবি হয় লাল, পান্না হয় সবুজ।
কাছাকাছি মৌল
সারণিতে এই মৌলের ঠিক পাশে বসে থাকা মৌলগুলো — প্রায়ই রসায়নে সবচেয়ে কাছের আত্মীয়।
