২৫Mnম্যাঙ্গানিজ54.938
ম্যাঙ্গানিজ মৌলের প্রকৃত নমুনা
প্রকৃত নমুনার ছবি
স্থানান্তর ধাতু

ম্যাঙ্গানিজ (Mn)

“পর্যায় সারণির মহান রূপান্তরকারী — ফ্যাকাশে গোলাপি Mn²⁺ থেকে গাঢ় বেগুনি MnO₄⁻, অন্য যেকোনো মৌলের চেয়ে বেশি জারণ অবস্থায় বিচরণ করে ম্যাঙ্গানিজ।”

পারমাণবিক সংখ্যা২৫
পারমাণবিক ভর54.938
গ্রুপ৭
পর্যায়৪
ব্লকD-block
অবস্থাকঠিন
ইলেকট্রন কাঠামো

ইলেকট্রনগুলো কীভাবে সাজানো

Mn
[Ar] 3d5 4s2
শেল ১
২e⁻
শেল ২
৮e⁻
শেল ৩
১৩e⁻
শেল ৪
২e⁻

আউফবাউ নীতি থেকে গণনা করা হয়, বাস্তবের পরিচিত ব্যতিক্রমগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য হয়।

স্টাডি

নোটগুলো

মৌলটি সম্পর্কে

বৈশিষ্ট্য

  • ইলেকট্রন বিন্যাস [Ar] 3d⁵ 4s² — ঠিক পাঁচটি ইলেকট্রনে অর্ধ-পূর্ণ 3d উপস্তর, যা বিশেষ স্থিতিশীলতার নিয়ম; ম্যাঙ্গানিজের অবস্থান পর্যায় ৪-এর গ্রুপ ৭-এ, d-ব্লকে।
  • জারণ অবস্থার চ্যাম্পিয়ন — +২ (ফ্যাকাশে গোলাপি Mn²⁺ আয়ন) থেকে +৪ (ব্যাটারির কালো MnO2\mathrm{MnO_{2}}) হয়ে +৭ (গাঢ় বেগুনি পারম্যাঙ্গানেট MnO4\mathrm{MnO_{4}}⁻, স্কুল-গবেষণাগারের অন্যতম শক্তিশালী জারক) পর্যন্ত সব রূপই ধরে।
  • লোহার চেয়েও কঠিন ও ভঙ্গুর — তবু সামান্য ম্যাঙ্গানিজ মেশালেই ইস্পাত হয় অনেক মজবুত; এ কারণেই উত্তোলিত ম্যাঙ্গানিজের প্রায় নয়-দশমাংশই চলে যায় ইস্পাত শিল্পে।
  • তোমার প্রতিটি নিঃশ্বাসের সঙ্গে ওতপ্রোত — সালোকসংশ্লেষণের কেন্দ্রে পানি ভেঙে অক্সিজেন ছাড়ার যন্ত্রটি চারটি ম্যাঙ্গানিজ আর একটি ক্যালসিয়াম পরমাণুর গুচ্ছ; পৃথিবীর সব অক্সিজেনের একমাত্র উৎস এটিই। তবে আধিক্য হলে খনিশ্রমিকদের মধ্যে পার্কিনসনের মতো “ম্যাঙ্গানিজম” রোগ দেখা দেয়।
দেখতে কেমন

কঠিন, ভঙ্গুর, ধূসর-সাদা ধাতু — দেখতে লোহার মতোই, তবে একটু ফিকে আর অনেক কম নমনীয়; পেটালে বাঁকে না, খট শব্দে ভেঙে যায়। আর্দ্র বাতাসে ধীরে ধীরে মলিন হয়, আর বাজারে সাধারণত রুপালি ছোট দলা বা ধূসর গুঁড়া হিসেবেই মেলে।

বাস্তব জগৎ

কোথায় দেখা মেলে

✦ ব্যবহার

  • রেললাইনের ইস্পাত কঠিন করতে — ঢাকার মেট্রোরেলের লাইনসহ রেলের ট্র্যাকে প্রায় ১% ম্যাঙ্গানিজ থাকে; আর ক্রসিং-পয়েন্টে ব্যবহৃত হয় ১২–১৪% ম্যাঙ্গানিজের ইস্পাত, যত ট্রেন চাপায় ততই যার কাঠিন্য বাড়ে।
  • ড্রাই সেল ব্যাটারিতে — টর্চ বা রিমোটের ব্যাটারির ভেতরের কালো ম্যাঙ্গানিজ ডাই-অক্সাইড (MnO2\mathrm{MnO_{2}}) পেস্ট হাইড্রোজেন গ্যাস শুষে নেয়, নইলে সেলটি মরে যেত।
  • পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট (KMnO4\mathrm{KMnO_{4}}) — প্রায়-কালো বেগুনি ওই দানাগুলো পানিতে গুলে খাবার পানি জীবাণুমুক্ত করতে, মাছ-চিংড়ি ধুতে আর ক্ষত পরিষ্কার করতে বাংলাদেশের ঘরে ঘরে ও মাছ-খামারে ব্যবহৃত হয়।
  • অ্যালুমিনিয়াম মজবুত করতে — ম্যাঙ্গানিজ-মিশ্রিত অ্যালুমিনিয়াম অ্যালয়ের ক্যান ও হাঁড়ি খাঁটি অ্যালুমিনিয়ামের চেয়ে দাগ ও ক্ষয় অনেক বেশি রোধ করে।

◍ দৈনন্দিন উদাহরণ

  • যে রেললাইনের ওপর দিয়ে ট্রেন ছুটে যায় — প্রতি লাইনের ইস্পাতেই মজবুতির জন্য থাকে ম্যাঙ্গানিজের ছড়ানো ছিটে।
  • দিনের মাছ বা সবজি ধোয়ার আগে এক চিমটে পারম্যাঙ্গানেট দিয়ে গ্রামের বালতির পানি ফ্যাকাশে বেগুনি করে নেওয়া।
  • মুঠো একরাশ ডাল, চাল আর সবুজ শাকসবজি — শক্ত হাড় আর সুস্থ মস্তিষ্কের জন্য দেহের দৈনিক চাহিদার কয়েক মিলিগ্রাম ম্যাঙ্গানিজ মেটায়।
ইতিহাস

ইতিহাস ও নাম

কাচশিল্পীরা যুগ যুগ ধরে জানত যে এক ধরনের কালো খনিজ পাইরোলুসাইট (MnO2\mathrm{MnO_{2}}) কাচের সবুজ ভাব কেটে তাকে স্বচ্ছ করে দেয়, কিন্তু কালো পাথরের ভেতরে কী লুকিয়ে আছে কেউ জানত না। ১৭৭০-এর দশকের শুরুতে সুইডিশ রসায়নবিদ কার্ল ভিলহেল্ম শিলি প্রমাণ করেন যে পাইরোলুসাইটের ভেতরে একটি নতুন ধাতু লুকিয়ে আছে, আর ১৭৭৪ সালে তাঁর বন্ধু খনিজবিদ ইয়োহান গটলিব গান চুল্লিতে পাইরোলুসাইট আর কাঠকয়লা একসঙ্গে তীব্র আঁচে গরম করে বের করে আনেন আগে কখনো খাঁটি অবস্থায় না দেখা এক ধাতুর দলা। প্রাচীন নামগুলো ছিল গোলমেলে — রোমানরা কালো আকরিকটিকে চুম্বকের নামে magnes ডাকত, কালো চুম্বক-লোহার আকরিকের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলে; আর রসায়নবিদরা আলাদা করতে বলতেন magnesia nigra অর্থাৎ “কালো ম্যাগনেসিয়া”। কাচশিল্পীদের মুখে বিকৃত ওই শব্দ manganesum থেকেই নতুন ধাতুটির নাম হয় ম্যাঙ্গানিজ।

নামের উৎসল্যাটিন magnes (চুম্বক) শব্দ থেকে, কাচশিল্পীদের মুখের manganesum হয়ে — কালো আকরিকটিকে চুম্বক-লোহার আকরিক ভেবে বহুকাল গোলমাল চলেছিল।
পাশের মৌল

কাছাকাছি মৌল

সারণিতে এই মৌলের ঠিক পাশে বসে থাকা মৌলগুলো — প্রায়ই রসায়নে সবচেয়ে কাছের আত্মীয়।