২৯Cuতামা63.546
তামা মৌলের প্রকৃত নমুনা
প্রকৃত নমুনার ছবি
স্থানান্তর ধাতু

তামা (Cu)

“আধুনিক পৃথিবীকে বিদ্যুতে জুড়ে দেওয়া ধাতু — প্রায় প্রতিটি বাতি, ফ্যান ও চার্জারের পেছনেই গুঞ্জন করে তামার তার।”

পারমাণবিক সংখ্যা২৯
পারমাণবিক ভর63.546
গ্রুপ১১
পর্যায়৪
ব্লকD-block
অবস্থাকঠিন
ইলেকট্রন কাঠামো

ইলেকট্রনগুলো কীভাবে সাজানো

Cu
[Ar] 3d¹⁰ 4s¹
শেল ১
২e⁻
শেল ২
৮e⁻
শেল ৩
১৮e⁻
শেল ৪
১e⁻

আউফবাউ নীতি থেকে গণনা করা হয়, বাস্তবের পরিচিত ব্যতিক্রমগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য হয়।

স্টাডি

নোটগুলো

মৌলটি সম্পর্কে

বৈশিষ্ট্য

  • রূপার পরেই তামা শ্রেষ্ঠ বিদ্যুৎ পরিবাহী সাধারণ ধাতু — তাই ঘরের ওয়্যারিং, ট্রান্সফরমারের কয়েল ও মোটরের বাইন্ডিং প্রায় সবই তামার।
  • ইলেকট্রন বিন্যাস [Ar] 3d¹⁰ 4s¹ — আউফবাউ নীতির বিখ্যাত ব্যতিক্রম: সম্পূর্ণ ভরা d-উপস্তর বেশি স্থিতিশীল বলেই একটি 4s ইলেকট্রন 3d-তে চলে যায়। তামার অবস্থান পর্যায় ৪, গ্রুপ ১১।
  • সহজে সংকর হয়: টিনের সঙ্গে ব্রোঞ্জ, জিঙ্কের সঙ্গে পিতল — বাঙালি কারিগরি বাজারের কাঁসার জিনিসপত্র আসলে তামার সংকর ধাতু। সবুজ প্যাটিনা গা ঢেকে দেওয়ায় ক্ষয়ও ধীরে হয়।
  • হালকা জীবাণুনাশক ক্ষমতা আছে — তামার গায়ে জীবাণু ঘণ্টাখানেকেই মরে যায়; আবার অপরিহার্য অনুমাত্রিক মৌলও — মানবরক্তে সেরুলোপ্লাজমিন প্রোটিনে তামা বয়ে বেড়ায়।
দেখতে কেমন

শক্ত অথচ ঝকঝকে, রং লালচে-কমলা — রুপালি-ধূসর নয় এমন বিরল কয়েকটি ধাতুর একটি তামা। ভাঙে না, বেঁকেও না; টেনে পাতলা তার বানানো যায়, আর আর্দ্র বাতাসে গা ধীরে ধীরে ঢেকে যায় নরম সবুজ প্যাটিনায়।

বাস্তব জগৎ

কোথায় দেখা মেলে

✦ ব্যবহার

  • বিদ্যুতের তার ও কেবল — বাড়ির বাইরের খুঁটি থেকে সিলিং ফ্যানের মোটর, এমনকি প্রতিটি সার্কিট বোর্ডের তামার লাইন পর্যন্ত।
  • পিতল ও ব্রোঞ্জের জিনিসপত্র, মুদ্রা ও মূর্তি — ঐতিহ্যবাহী বাঙালি ঘরের কাঁসার বাটি আর কলসই তামার সংকর ধাতু।
  • পানির পাইপ, গরম পানির ট্যাংকি ও চালের পাত — তামার পাইপলাইন দশকের পর দশক টিকে থাকে, জীবাণুও বাড়তে দেয় না।
  • কপার সালফেট (CuSO4\mathrm{CuSO_{4}}) ছত্রাকনাশক হিসেবে ও ফসলে স্প্রে করা বর্দো মিশ্রণে, আর পুকুর-জলাধারা শৈবালমুক্ত রাখতে।

◍ দৈনন্দিন উদাহরণ

  • ভাঙা মোবাইল চার্জারের রাবারের আস্তরণ ছাড়ালে ভেতরের চকচকে লালচে সুতাগুলো প্রায় খাঁটি তামা।
  • বাঙালি রান্নাঘরের পিতলের কলস বা কাঁসার থালায় মূল ধাতু তামাই, সঙ্গে মেশানো থাকে জিঙ্ক ও টিন।
  • বর্ষায় খোলা আকাশের নিচে রাখা তামার পয়সা বা প্রতিমায় যে সবুজ স্তর ধীরে জমে, সেটি ক্ষারীয় কপার কার্বনেট।
ইতিহাস

ইতিহাস ও নাম

তামা প্রাগৈতিহাসিক যুগের ধাতু — প্রায় নয় হাজার বছর আগেই মানুষ প্রাকৃতিক তামা পিটিয়ে যন্ত্রপাতি ও অলংকার বানাত, আর ইরাকের এক গুহায় পাওয়া তামার পেন্ডেন্ট প্রায় দশ হাজার বছরের পুরোনো। খ্রিস্টপূর্ব ৫০০০ অব্দের দিকে কারিগররা সবুজ ম্যালাকাইট আকরিকা গলিয়ে তামা আলাদা করতে শিখলে শুরু হয় তাম্র-প্রস্তর যুগ বা ক্যালকোলিথিক। সাম্রাজ্যে তামা জোগানো সাইপ্রাস দ্বীপের নামে রোমানরা একে ডাকত aes Cyprium বা “সাইপ্রাসের ধাতু” — সংক্ষেপে তা হয়ে ওঠে cuprum, যেখান থেকেই প্রতীক Cu আর ইংরেজি নাম copper।

নামের উৎসলাতিন cuprum ← aes Cyprium বা “সাইপ্রাসের ধাতু”; বাংলা নাম তামা এসেছে সংস্কৃত তাম্র থেকে।
পাশের মৌল

কাছাকাছি মৌল

সারণিতে এই মৌলের ঠিক পাশে বসে থাকা মৌলগুলো — প্রায়ই রসায়নে সবচেয়ে কাছের আত্মীয়।