
নিকেল (Ni)
“তামা হতে এত ব্যর্থ যে খনিশ্রমিকরা দুষ্টু আত্মার নামে ওর নাম রেখেছিল — সেই ধাতুই আজ তোমার চামচ ঝকঝকে রাখে, কেটলি গরম রাখে।”
ইলেকট্রনগুলো কীভাবে সাজানো
আউফবাউ নীতি থেকে গণনা করা হয়, বাস্তবের পরিচিত ব্যতিক্রমগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য হয়।
নোটগুলো
বৈশিষ্ট্য
- ইলেকট্রন বিন্যাস [Ar] 3d⁸ 4s² — পর্যায় ৪-এর গ্রুপ ১০-এর স্থানান্তর ধাতু; নিকেল প্রায় সবসময়ই অভিনয় করে সবুজ Ni²⁺ আয়ন হয়ে।
- ক্ষয়রোধে আত্মনির্ভর — নিজে নিজেই মেরামত হয় এমন অদৃশ্য অক্সাইড পর্দা ঘষা নিকেলকে বাতাস-পানিতে দশকের পর দশক দ্যুতি হারাতে দেয় না; অন্য ধাতুতে প্রলেপ আর স্টেইনলেস স্টিলে এর আধিপত্যের রহস্য এটাই।
- মহান চুম্বক-ত্রয়ীর তৃতীয় সদস্য — লোহা, কোবাল্ট আর নিকেলই দৈনন্দিন অবস্থায় প্রবল চুম্বকীয় একমাত্র মৌল।
- চামড়ায় কারসাজি — প্রায় দশজনে একজনের সঙ্গে নিকেলের এলার্জি, তাই সস্তা দুল বা ঘড়ির বেড়ে চুলকানি আর সবুজ-কালো দাগ রেখে যেতে পারে; বহু দেশের আইন এখন গহনায় নিকেলের মাত্রা সীমিত করে।
কঠিন, রুপালি-সাদা ধাতু — রঙে অতি সামান্য সোনালি আভা, এমন উজ্জ্বল ঘষা নেয় যে বহু “ক্রোম-দেখা” ফিটিংয়ের নিচে আসলে থাকে নিকেল। টেকসই হয়েও নমনীয় — টেনে তার, গড়িয়ে পাত আর পেটিয়ে মুদ্রায় রূপ নেয়; আর অদৃশ্য অক্সাইডের পাতলা চামড়া গায়ে জড়িয়ে রাখে বলে বছরের পর বছর দ্যুতি হারায় না।
কোথায় দেখা মেলে
✦ ব্যবহার
- স্টেইনলেস স্টিল — লোহা-ক্রোমিয়ামের সঙ্গে প্রায় ৮% নিকেল মেশালে ইস্পাত হয় মরিচামুক্ত, টেকসই ও সহজে গড়া; বাংলাদেশের চামচ, সিংক, হাসপাতালের যন্ত্রপাতি থেকে পানির ট্যাংক — সবখানে এটিই।
- নাইক্রোম তাপদায়ী তার — নিকেল আর ক্রোমিয়ামের এই মিশ্র ধাতু ইমার্শন রড, ইলেকট্রিক কেটলি আর টোস্টারে লাল-গরম জ্বলেও পুড়ে যায় না।
- মুদ্রা — ৭৫:২৫ অনুপাতের তামা-নিকেল মিশ্রণ কুপ্রো-নিকেল দিয়ে এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে পৃথিবীর ছোট মুদ্রা তৈরি হয়ে আসছে; আমেরিকার পাঁচ-সেন্টের মুদ্রাটিকে মানুষ হুবহু “নিকেল”ই ডাকে।
- রিচার্জেবল ব্যাটারি ও প্রভাবক — NiMH সেল রিমোট-টর্চ চালায়; আর সূক্ষ্ম নিকেল প্রভাবকের উপস্থিতিতেই তরল তেল হাইড্রোজেন শুষে ভ্যানাস্পতি ঘি হয়।
◍ দৈনন্দিন উদাহরণ
- সকালের স্টেইনলেস স্টিলের চামচ — লোহা আর ক্রোমিয়ামের সঙ্গে দায়িত্ব পালনে থাকা পরিমাণ নিকেলই ওকে দাগহীন রাখে।
- বাথরুমের রুপালি ট্যাপ বা সাইকেলের বেল — “চকচকে স্টিল” বলে যা বিক্রি হয়, তার বেশির ভাগের নিচেই নিকেলের প্রলেপ।
- ইমার্শন রডের জ্বলন্ত কয়েল — যা ঠান্ডা পানির বালতিকে মিনিট কয়েকেই ধোঁয়া-ওঠা গরম করে তোলে।
ইতিহাস ও নাম
স্যাক্সনির খনিশ্রমিকদের দেখা হয়েছিল তামা-রঙা এক আকরিকের সঙ্গে — আজ যার নাম নিকোলাইট; দেখতে ধনী, কিন্তু যত গলানোই হোক, তামার এক কণাও ধরা পড়ে না। নাম দেওয়া হলো kupfernickel — “দানবের তামা”, পাহাড়ের দুষ্টু আত্মা Nickel-এর নামে। ১৭৫১ সালে সুইডিশ খনিজবিদ আক্সেল ফ্রেডরিক ক্রনস্টেড ওই আকরিক থেকে তামা বের করতে গিয়ে পেলেন অজানা এক কঠিন সাদা ধাতু — আর বিচক্ষণের মতো নাম রাখলেন সেই দানবের নামেই। এবার গালাগালিটাই উল্টে গেল: “দানবের ধাতু” প্রমাণিত হলো অসাধারণ, আর কয়েক দশকের মধ্যেই ইউরোপজুড়ে প্রলেপ, মিশ্র ধাতু আর মুদ্রায় সে জায়গা করে নিল। আর এদিকে চীনে শতাব্দীর পর শতাব্দী চলছিল paktong বা “সাদা তামা”র ব্যবহার — তামা-নিকেল-জিঙ্কের ওই মিশ্রণের ধাঁধায় ইউরোপীয় রসায়নবিদরা পড়েই ছিলেন, যতদিন না ক্রনস্টেডের আবিষ্কার জবাব দিল।
কাছাকাছি মৌল
সারণিতে এই মৌলের ঠিক পাশে বসে থাকা মৌলগুলো — প্রায়ই রসায়নে সবচেয়ে কাছের আত্মীয়।
