
ব্রোমিন (Br)
“কক্ষ তাপমাত্রায় তরল থাকা একমাত্র অধাতু — ঘন, টকটকে লাল তরল, বের হয় দম-কাশানো ধোঁয়া।”
ইলেকট্রনগুলো কীভাবে সাজানো
আউফবাউ নীতি থেকে গণনা করা হয়, বাস্তবের পরিচিত ব্যতিক্রমগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য হয়।
নোটগুলো
বৈশিষ্ট্য
- সাধারণ কক্ষ তাপমাত্রায় তরল থাকা মাত্র দুটি মৌলের একটি (অন্যটি পারদ) — আর একমাত্র তরল অধাতু।
- গ্রুপ ১৭-এর হ্যালোজেন, সাতটি যোজ্যতা ইলেকট্রন ([Ar] 3d¹⁰ 4s² 4p⁵): ক্লোরিনের চেয়ে কম আক্রমণাত্মক কিন্তু আয়োডিনের চেয়ে বেশি সক্রিয় — খালি একটি ইলেকট্রনের জন্য সর্বদা তার ব্যাকুলতা।
- ধাতুর সঙ্গে ব্রোমাইড লবণ (Br⁻), আর হাইড্রোজেনের সঙ্গে বর্ণহীন ঝাঁঝালো গ্যাস গঠন করে; সিলভার ব্রোমাইডের () আলোক-সংবেদনশীলতা বিখ্যাত।
- পানিতে সামান্যই দ্রবীভূত হয় (হালকা হলুদ “ব্রোমিন ওয়াটার”), কিন্তু জৈব দ্রাবকে সহজে মিশে সেগুলোকে কমলা করে দেয় — তেল ও অ্যালকিনের অসম্পৃক্ততা পরীক্ষার চিরায়ত পদ্ধতি।
- তরলও বাষ্পও ত্বক, চোখ ও ফুসফুসে আঘাত করে; ব্রোমিনের পোড়া ক্ষত শুকোতে বড় দেরি হয়, তাই গবেষণাগারে একে ধরা হয় সবচেয়ে সাবধানির মতো করেই।
ঘন (৩.১ গ্রাম/সেমি³), গাঢ় লাল-বাদামি তরল, সহজেই উবে গিয়ে দম-বন্ধ করা কমলা-বাদামি বাষ্প ছড়ায়। গন্ধই এর হাজিরা জানিয়ে দেয়; ফিউম কাপবোর্ডেও রসায়নবিদরা দস্তানা-গগলস ছাড়া একে ধরেন না।
কোথায় দেখা মেলে
✦ ব্যবহার
- পুরোনো যুগের ফটোগ্রাফিক ফিল্মের সিলভার ব্রোমাইড () — আলো পেলে যে দানাগুলো কালচে হয়ে গিয়ে বিশ শতকের একেকটি ছবি ধরে রেখেছিল।
- টিভির খোল, সার্কিট বোর্ড ও সোফার ফোমের ব্রোমিনযুক্ত অগ্নিনিরোধক — আগুন জ্বালিয়ে রাখা মুক্ত র্যাডিক্যাল শুষে নিয়ে শিখা কমিয়ে আনে।
- একসময়ের স্নায়ু শান্ত করার ওষুধ পটাশিয়াম ব্রোমাইড — ভিক্টোরীয় যুগের ডাক্তাররা ঘুমের জন্য এটিই লিখতেন।
- সুইমিং পুল ও শিল্প-কারখানার কুলিং টাওয়ারের জীবাণুনাশক — খাঁটি ক্লোরিন যেখানে বেশি কড়া পড়ে, সেখানে ব্রোমিনভিত্তিক প্রস্তুতি কাজে লাগে।
◍ দৈনন্দিন উদাহরণ
- সমুদ্রের জলে প্রায় দশ লক্ষ ভাগে ৬৫ ভাগ হারে ব্রোমাইড থাকে — পৃথিবীর বিশালতম ব্রোমিনের ভাণ্ডার মহাসাগরই; অনেক দেশ আবার লবণ-কূপের নোনা জল থেকেও এটি তোলে।
- পারিবারিক অ্যালবামের প্রিয় সাদা-কালো ছবিগুলোর জন্ম ফিল্মে রূপার ব্রোমাইডের দানায় — আলো পেয়ে যা ধীরে কালো হয়ে উঠেছিল।
- রোমান সম্রাটদের একচ্ছত্র রাজকীয় রং টায়ারিয়ান পার্পল আসলে সাগরের ঝিনুক থেকে আহরিত এক ব্রোমিন যৌগ (ডাইব্রোমোইন্ডিগো)।
ইতিহাস ও নাম
১৮২৬ সালে ফ্রান্সের তরুণ রসায়নবিদ আঁতোয়ান জেরোম বালার মোঁপেলিয়েরের কাছে ভূমধ্যসাগরের লবণচাতার নোনা জল নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে চোখে পড়ে এক গাঢ় হলুদ-বাদামি তরল, যার কোনো ব্যাখ্যা মেলে না। প্রথমে সবাই একে ভেবেছিল ক্লোরিন ও আয়োডিনের কোনো যৌগ, কিন্তু বালার প্রমাণ করেন এটি সম্পূর্ণ নতুন এক মৌল। জার্মান ছাত্র কার্ল ইয়াকব লোভিখ আগের বছরই (১৮২৫) ঝরনার জল থেকে এই পদার্থ পৃথক করেছিলেন, তবু আগে গবেষণাপত্র ছাপালেন বলে আবিষ্কারের কৃতিত্ব থেকে যায় বালারের নামে। ভয়ংকর গন্ধের জন্যই মৌলটির নাম — গ্রিক brōmos অর্থ “দুর্গন্ধ”, সেখান থেকেই ব্রোমিন।
কাছাকাছি মৌল
সারণিতে এই মৌলের ঠিক পাশে বসে থাকা মৌলগুলো — প্রায়ই রসায়নে সবচেয়ে কাছের আত্মীয়।
