৩৬Krক্রিপ্টন83.798
ক্রিপ্টন মৌলের প্রকৃত নমুনা
প্রকৃত নমুনার ছবি
নিষ্ক্রিয় গ্যাস

ক্রিপ্টন (Kr)

“বাতাসের সামনেই লুকিয়ে ছিল বলে নাম “গুপ্ত” — অথচ এর আলোর তরঙ্গ দিয়েই একদিন মিটারের সংজ্ঞা দেওয়া হতো।”

পারমাণবিক সংখ্যা৩৬
পারমাণবিক ভর83.798
গ্রুপ১৮
পর্যায়৪
ব্লকP-block
অবস্থাগ্যাস
ইলেকট্রন কাঠামো

ইলেকট্রনগুলো কীভাবে সাজানো

Kr
[Ar] 3d10 4s2 4p6
শেল ১
২e⁻
শেল ২
৮e⁻
শেল ৩
১৮e⁻
শেল ৪
৮e⁻

আউফবাউ নীতি থেকে গণনা করা হয়, বাস্তবের পরিচিত ব্যতিক্রমগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য হয়।

স্টাডি

নোটগুলো

মৌলটি সম্পর্কে

বৈশিষ্ট্য

  • ইলেকট্রন বিন্যাস [Ar] 3d¹⁰ 4s² 4p⁶ — পূর্ণ অষ্টক; তাই ইলেকট্রন দেয়ও না, নেয়ও না, ভাগও করে না — একক নিষ্ক্রিয় পরমাণু হয়েই থাকে (পর্যায় ৪, গ্রুপ ১৮)।
  • বাতাসের প্রায় তিন গুণ ঘন — দৈনন্দিন রসায়নে চোখে পড়া সবচেয়ে ভারী গ্যাসগুলোর একটি।
  • তবে একেবারে জড়ও নয়: ১৯৬৩ সালে রসায়নবিদরা একে জোর করে ক্রিপ্টন ডাইফ্লোরাইড (KrF2\mathrm{KrF_{2}})-এ বদলে ফেলেন — চরম জারক ফ্লোরিনের সঙ্গেই কেবল তা সম্ভব।
  • তীব্র বৈদ্যুতিক স্পন্দনে ঝলসে ওঠে ঝলমলে সাদা আলোয় — মুহূর্তের জন্য সূর্যালোককেও ছাপিয়ে যায় — দ্রুতগতির ফটোগ্রাফির ঐতিহ্যবাহী বাতি এটিই।
  • ভগ্নাংশীয় পাতনে তরল বায়ু থেকে আলাদা করতে হয়; এক লিটার ক্রিপ্টন ছাড়াতে প্রায় দশ লক্ষ লিটার বাতাস পাকাতে হয়।
দেখতে কেমন

কক্ষ তাপমাত্রায় বর্ণহীন, গন্ধহীন, স্বাদহীন গ্যাস — বাতাসে থাকে মাত্র প্রায় দশ লক্ষ ভাগে এক ভাগ হারে। নিষ্ক্রিয় গ্যাসের এই ভাই একক পরমাণু হয়ে বিচরণ করে, আর নিঃসরণ নলে বিদ্যুৎ চালনা করলে ছড়ায় ফিকে নীলাভ-সাদা আভা।

বাস্তব জগৎ

কোথায় দেখা মেলে

✦ ব্যবহার

  • ক্রিপ্টন-ভরা বাল্ব ও বিমানবন্দরের রানওয়ে আলোকিত করা সিলড ল্যাম্প — ভারী গ্যাস ফিলামেন্টের বাষ্পীভবন ধীর করে দেয়, তাই বাতি বেশি তপে বেশি আলো দিয়ে বেশিদিন চলে।
  • দ্রুতগতির ফটোগ্রাফির ক্রিপ্টন ফ্ল্যাশ ল্যাম্প — উড়ন্ত বুলেট বা ফাটারো বেলুনকে মাঝপথে থামিয়ে দেওয়া বিখ্যাত সব আলোকচিত্র এরই অবদান।
  • LASIK চক্ষু শল্যচিকিৎসায় মণির পর্দা গড়ে দেওয়া ও মাইক্রোচিপের নকশা খোদাই করা ক্রিপ্টন-ফ্লোরাইড এক্সিমার লেজার (২৪৮ ন্যানোমিটার অতিবেগুনি)।
  • ১৯৬০ থেকে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত মিটারের সংজ্ঞাই ছিল ক্রিপ্টন-৮৬-এর কমলা-লাল আলোর ১,৬৫০,৭৬৩.৭৩ তরঙ্গদৈর্ঘ্যের সমান — পৃথিবীর প্রতিটি স্কেলের মানদণ্ড ছিল এই গ্যাস।

◍ দৈনন্দিন উদাহরণ

  • তোমার প্রতিটি শ্বাসেই থাকে ক্রিপ্টনের পরমাণু — বাতাসের প্রায় দশ লক্ষ ভাগে এক ভাগ — তবু দেহের ভেতর দিয়ে অবিকৃতই বেরিয়ে যায়।
  • রাতের ফ্লাইটকে ঢাকার বিমানবন্দরে নামতে দেখানো রানওয়ে ও অ্যাপ্রোচ লাইটের সারিগুলো সেই উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন গ্যাস-ভরা বাতিরই পরিবার, যে পরিবারে ক্রিপ্টন জ্বলে।
  • সুপারম্যানের কল্পিত দুর্বলতা “ক্রিপ্টোনাইট”-এর নাম ধার করা এই গ্যাসের কাছ থেকেই — খ্যাতি ছাড়া দুজনের মিল আর কিছুই নেই।
ইতিহাস

ইতিহাস ও নাম

১৮৯৮ সালের ৩০ মে লন্ডনে উইলিয়াম র‍্যামজে ও মরিস ট্র্যাভার্স তরল বায়ু থেকে আর্গন পাতন করে হাতে পেলেন নামমাত্র কিছু অবশিষ্টাংশ। তাতে বিদ্যুৎ চালনা করতেই নলটি জ্বলে উঠল, আর স্পেকট্রোস্কোপে ভেসে উঠল অজানা রেখা — সাধারণ বাতাসের ভেতরেই লুকিয়ে ছিল নতুন আরেক মৌল! পরের দুই মাসের মধ্যে সেই একই অবশিষ্টাংশ থেকে মিলে যায় নিয়ন আর জেননও। এতদিন যে গ্যাসটি চোখের সামনেই লুকিয়ে ছিল, গ্রিক kryptos বা “গুপ্ত” শব্দ থেকে তার নাম হলো ক্রিপ্টন।

নামের উৎসগ্রিক kryptos অর্থ “গুপ্ত/লুকানো” — ১৮৯৮ সাল পর্যন্ত সাধারণ বাতাসেই লুকিয়ে ছিল বলে।
পাশের মৌল

কাছাকাছি মৌল

সারণিতে এই মৌলের ঠিক পাশে বসে থাকা মৌলগুলো — প্রায়ই রসায়নে সবচেয়ে কাছের আত্মীয়।