৭৪Wটাংস্টেন183.84
টাংস্টেন মৌলের প্রকৃত নমুনা
প্রকৃত নমুনার ছবি
স্থানান্তর ধাতু

টাংস্টেন (W)

“সব ধাতুর মধ্যে সবচেয়ে দেরিতে গলে — ৩৪২২° সেলসিয়াস — কালের বাল্বে জ্বলেছে, আজও টাংস্টেন কার্বাইড হয়ে ইস্পাত কাটে।”

পারমাণবিক সংখ্যা৭৪
পারমাণবিক ভর183.84
গ্রুপ৬
পর্যায়৬
ব্লকD-block
অবস্থাকঠিন
ইলেকট্রন কাঠামো

ইলেকট্রনগুলো কীভাবে সাজানো

W
[Xe] 4f14 5d4 6s2
শেল ১
২e⁻
শেল ২
৮e⁻
শেল ৩
১৮e⁻
শেল ৪
৩২e⁻
শেল ৫
১২e⁻
শেল ৬
২e⁻

আউফবাউ নীতি থেকে গণনা করা হয়, বাস্তবের পরিচিত ব্যতিক্রমগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য হয়।

স্টাডি

নোটগুলো

মৌলটি সম্পর্কে

বৈশিষ্ট্য

  • ইলেকট্রন বিন্যাস [Xe] 4f¹⁴ 5d⁴ 6s² — পর্যায় ৬, গ্রুপ ৬, d-ব্লক, ছয়টি যোজ্যতা ইলেকট্রন; মজার ব্যাপার, ওপরের তলার ক্রোমিয়াম-মলিবডেনাম নিয়ম ভেঙে s¹d⁵ নিলেও টাংস্টেন নিখুঁত অফবাউ-পূরণেই থেকে যায়।
  • ধাতুদের গলনাঙ্কের রেকর্ড একারই: ৩৪২২° সেলসিয়াস — আর সব মৌল মিলিয়ে কেবল কার্বনই (যে গলে না, সরাসরি বাষ্প হয়) এর চেয়ে বেশি তাপ-সহ; উত্তপ্ত টাংস্টেনের বাষ্পচাপও সব ধাতুর মধ্যে সর্বনিম্ন।
  • ঘনত্ব ১৯.২৫ গ্রাম/ঘন সেন্টিমিটার — সোনার ১৯.৩-এর পাশেই, যদিও দামে টাংস্টেনের বার সোনার কতক ভগ্নাংশ, আর কাঠিন্যে ঢের বেশি।
  • খাঁটি টাংস্টেন কক্ষ তাপমাত্রায় কঠিন কিন্তু ভঙ্গুর; তবে ধবধবে লাল-গরমে যেখানে অন্য ধাতু নেতিয়ে পড়ে, সেখানেও এর শক্তি ঠিক থাকে — ফিলামেন্টের চাইতে এমন গুণ আর কী লাগে।
দেখতে কেমন

ইস্পাত-ধূসর, খুব কঠিন ও ভঙ্গুর ধাতু, আর আশ্চর্য রকম ভারী — ঘনত্ব ১৯.২৫ গ্রাম/ঘন সেন্টিমিটার, প্রায় সোনার সমানই। সরু তার আকারে একে পাকানো যায়, আর ধবধবে লাল-গরম অবস্থাতেও এর গড়ন ঠিক থাকে — যেখানে অন্য যেকোনো ধাতু বহু আগেই গলে টলমল দশা নিত।

বাস্তব জগৎ

কোথায় দেখা মেলে

✦ ব্যবহার

  • তাপ-উৎপাদী বাল্বের ফিলামেন্ট — এখনও সব হার্ডওয়্যার দোকানে মেলে — ২৫০০–৩০০০° সেলসিয়াসে জ্বলে, তাছাড়া ওভেন-কিলনের হিটিং এলিমেন্ট।
  • টিআইজি (আর্গন-আর্ক) ওয়েল্ডিংয়ের না-গলা ইলেকট্রোড, যাকে দাউদাউ আর্ক বইতে হয় কিন্তু টপকে পড়া চলবে না।
  • টাংস্টেন কার্বাইডের (WC) যন্ত্রের ডগা: নির্মাণ-সাইটে কংক্রিট আর ইস্পাত চিবোনো ড্রিল বিট, লেদের কাটার ইনসার্ট, রাজমিস্ত্রির পেরেক — এমনকি বলপয়েন্ট কলমের গড়িয়ে চলা বল।
  • হাসপাতালের এক্স-রে টিউবের ঘূর্ণায়মান টার্গেট অ্যানোড, তাছাড়া ভারী কাউন্টারওয়েট ও বর্ম-ভেদী পেনিট্রেটর, যেখানে সীসার মতো ঘনত্বের সঙ্গে ধাক্কাও সইতে হয়।

◍ দৈনন্দিন উদাহরণ

  • যেকোনো হার্ডওয়্যার দোকানে এখনও ফিলামেন্ট বাল্ব পাওয়া যায়, আর প্রতিটির ভেতরে পাকানো তার হয়ে জ্বলে যেটি — সেটাই টাংস্টেন।
  • ঢাকার কোনো উঁচু ভবনের কাজে কংক্রিট কাটা ড্রিলের ডগা প্রায় নিশ্চিতভাবেই টাংস্টেন কার্বাইডের; বহু বলপয়েন্ট কলমও গড়ায় কার্বাইডের বল।
  • হাসপাতালের প্রতিটি এক্স-রে ছবির জন্ম হয় ইলেকট্রন যখন টিউবের ভেতরে টাংস্টেন টার্গেটে ঝাঁপ দেয়।
ইতিহাস

ইতিহাস ও নাম

১৭৮১ সালে কার্ল উইলহেল্ম শীলে সুইডিশ খনি-মজুরদের “টাং স্তেন” (ভারী পাথর — আজকের শিলিট খনিজ, CaWO4\mathrm{CaWO_{4}}) গলিয়ে প্রমাণ করেন এর ভেতরে নতুন একটি অ্যাসিড লুকানো, আর অনুমান করেন আরও গভীরে থাকতে পারে নতুন এক ধাতু। দুই বছর পর, ১৭৮৩ সালে, বাস্ক ভাই হুয়ান হোসে ও ফাউস্তো এলহুইয়ার স্পেনের বেরগারায় ভোলফ্রামাইটকে কাঠকয়লার সঙ্গে উত্তপ্ত করে ধাতুটিকেই টেনে বের করে আনেন। ইংরেজিতে রইল সুইডিশ নামটি — “টাংস্টেন” — আর প্রতীক W মানায় জার্মান Wolfram-কে, অর্থ “নেকড়ের ফেনা”: গলানোর কাজে ভোলফ্রামাইট নেকড়ের মতো টিন গিলে খেয়ে ফেলত বলেই খনি-মজুরদের দেওয়া এই গালি-নাম।

নামের উৎসসুইডিশ tung sten অর্থ “ভারী পাথর” — শিলিট খনিজের খনি-মজুরি নাম থেকে; প্রতীক W এসেছে জার্মান Wolfram “নেকড়ের ফেনা” থেকে।
পাশের মৌল

কাছাকাছি মৌল

সারণিতে এই মৌলের ঠিক পাশে বসে থাকা মৌলগুলো — প্রায়ই রসায়নে সবচেয়ে কাছের আত্মীয়।