
রেনিয়াম (Re)
“আবিষ্কৃত সর্বশেষ স্থায়ী মৌল — ১৯২৫ সালে বার্লিনে পাওয়া, নাম রাইন নদীর — ভূপৃষ্ঠে সোনার চেয়েও দুর্লভ, তবু প্রতিটি জেট ইঞ্জিনে খাটছে।”
ইলেকট্রনগুলো কীভাবে সাজানো
আউফবাউ নীতি থেকে গণনা করা হয়, বাস্তবের পরিচিত ব্যতিক্রমগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য হয়।
নোটগুলো
বৈশিষ্ট্য
- ইলেকট্রন বিন্যাস [Xe] 4f¹⁴ 5d⁵ 6s² — পর্যায় ৬, গ্রুপ ৭, d-ব্লক, সাতটি যোজ্যতা ইলেকট্রন; ওপরের তলার ম্যাঙ্গানিজের মতোই রেনিয়ামের জারণ অবস্থা ঘোরে −১ থেকে +৭ পর্যন্ত পুরো বৃত্তে।
- গলনাঙ্ক ৩১৮৬° সেলসিয়াস — কার্বন ও টাংস্টেনের পরে সব মৌল মিলিয়ে তৃতীয় সর্বোচ্চ — আর স্ফুটনাঙ্কও জানা সর্বোচ্চগুলোর সারিতে।
- ভূপৃষ্ঠের প্রায় এক প্রতি শত কোটি ভাগ — সোনার চেয়েও দুর্লভ — বলে সবচেয়ে বিরল মৌলদের একটি; নিজের কোনো আকরিক নেই, উদ্ধার হয় কেবল মলিবডেনাইট গলানো কারখানার চিমনির ধুলো থেকে।
- ধবধবে লাল-গরম তাপমাত্রাতেও শক্তি ধরে রাখে, ক্ষয়-ক্ষয়ণেও টেকে — সাদা-লাল গরম টারবাইন ব্লেড যা চায়, হুবহু তা-ই।
রূপোলি-ধূসর ধাতু, ওজনে প্লাটিনাম-শ্রেণির — ঘনত্ব ২১.০২ গ্রাম/ঘন সেন্টিমিটার — চেহারাই ভারী, ঝকঝকে। জানা সবচেয়ে তাপ-সহ ধাতুদের একটি: ৩১৮৬° সেলসিয়াসের আগে গলতেই রাজি নয়, আর ধীরে জন্মানো এর স্ফটিসের গায়ে দেখা যায় সুন্দর বাঁকা খাঁজ।
কোথায় দেখা মেলে
✦ ব্যবহার
- নিকেল সুপারঅ্যালয়ের টারবাইন ব্লেড: নতুন প্রজন্মের একক-স্ফটিস জেট ইঞ্জিন ও বিদ্যুৎ-টারবাইনের ব্লেডে ৩–৬ শতাংশ রেনিয়াম মেশালে সেগুলো সংকরের নিজের গলনাঙ্কের চেয়েও গরম গ্যাস সইতে পারে।
- তেল শোধনাগারের প্লাটিনাম-রেনিয়াম রিফর্মিং প্রভাবক — প্রতিটি পাম্পে দাম ওঠানামা করা হাই-অকটেন পেট্রলের আসল রসায়ন এর হাতেই।
- টাংস্টেন-রেনিয়াম থার্মোকাপল — চুল্লি আর রিয়্যাক্টরের ভেতরের প্রায় ২৩০০° সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা নিখুঁতভাবে পড়ে।
- W–Re সংকরের ঘূর্ণায়মান এক্স-রে অ্যানোড, তাছাড়া যেখানে দীর্ঘ স্থায়িত্ব চাই সেখানকার ফিলামেন্ট ও তড়িৎ সংযোগ।
◍ দৈনন্দিন উদাহরণ
- যিনিই উড়ুন — বিমান বাংলাদেশের জেট হোক বা বিদেশি ওয়াইড-বডি — ইঞ্জিনের সবচেয়ে গরম অংশের ব্লেডে রেনিয়ামের শক্তিই তাঁকে বহন করে।
- বাংলাদেশের পাম্পে যে অকটেনের দাম ওঠানামা করে, তার জন্মপ্রায় সবসময়ই ঘটে প্লাটিনাম-রেনিয়াম রিফর্মিং প্রভাবকের ওপর দিয়ে।
- গভীর-উত্তপ্ত চুল্লির শিল্পগুলো সাধারণ সেন্সর যেখানে গলে যেত, সেখানকার তাপমাত্রার খবর W–Re থার্মোকাপলের ওপরেই ভরসা করে।
ইতিহাস ও নাম
মেন্ডেলিফ তাঁর ১৮৬৯ সালের পর্যায় সারণিতেই এর জন্য নাম-লেখা ঘর রেখেছিলেন — “দ্বি-ম্যাঙ্গানিজ”, ম্যাঙ্গানিজের ভারী সহোদর, যার সারণি দাবি করেছিল। খোঁজ ঘুরে গেল ১৯২৫ সালের বার্লিনে — ভাল্টার নোডাক, ইডা টাকে ও অটো বার্গ কলম্বাইট ও প্লাটিনাম আকরিকে এর এক্স-রে আঙুলের ছাপ তুলে ধরেন — আর রেনিয়াম হয়ে উঠল ইতিহাসে আবিষ্কৃত সর্বশেষ স্থায়ী মৌল, কারণ তার পরের সব আবিষ্কারই ছিল তেজস্ক্রিয়। দলটি নামটি নিল রেনুস থেকে — রাইন নদীর লাতিন নাম — ইডা টাকের রাইনল্যান্ড ঘরবাড়ির সম্মানে। ১৯২৮ সালে চোখে দেখা প্রথম এক গ্রাম বের করতে গিয়ে ৬৬০ কেজি মলিবডেনাইট সেদ্ধ করতে হয়েছিল — রেনিয়াম কতটা দুর্লভ, তারই এক মাপকাঠি।
কাছাকাছি মৌল
সারণিতে এই মৌলের ঠিক পাশে বসে থাকা মৌলগুলো — প্রায়ই রসায়নে সবচেয়ে কাছের আত্মীয়।
