৭৭Irইরিডিয়াম192.22
ইরিডিয়াম মৌলের প্রকৃত নমুনা
প্রকৃত নমুনার ছবি
স্থানান্তর ধাতু

ইরিডিয়াম (Ir)

“অ্যাকোয়া রেজিয়াও যে ধাতুকে ছুঁতে পারে না — আর ডাইনোসরদের শেষ করা গ্রহাণুর হাতের ছাপ যে মৌলের গায়ে লেগে আছে।”

পারমাণবিক সংখ্যা৭৭
পারমাণবিক ভর192.22
গ্রুপ৯
পর্যায়৬
ব্লকD-block
অবস্থাকঠিন
ইলেকট্রন কাঠামো

ইলেকট্রনগুলো কীভাবে সাজানো

Ir
[Xe] 4f14 5d7 6s2
শেল ১
২e⁻
শেল ২
৮e⁻
শেল ৩
১৮e⁻
শেল ৪
৩২e⁻
শেল ৫
১৫e⁻
শেল ৬
২e⁻

আউফবাউ নীতি থেকে গণনা করা হয়, বাস্তবের পরিচিত ব্যতিক্রমগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য হয়।

স্টাডি

নোটগুলো

মৌলটি সম্পর্কে

বৈশিষ্ট্য

  • জানা মধ্যে সবচেয়ে ক্ষয়রোধী ধাতু — কোনো অ্যাসিড, ক্ষার, সমুদ্রের জল, এমনকি অ্যাকোয়া রেজিয়াও কক্ষ তাপমাত্রায় একে দংশন করতে পারে না — তাই আদি আন্তর্জাতিক মিটার-দণ্ড ঢালা হয়েছিল প্লাটিনাম-ইরিডিয়াম সংকরে।
  • ঘনত্ব প্রায় ২২.৫৬ গ্রাম/ঘন সেন্টিমিটার — অসমিয়ামের রেকর্ডের ঠিক এক চুল পেছনে; আর প্রায় ২৪৫০° সেলসিয়াসের কাছে গলতে রাজি হয় না — কঠিন, শক্ত, এবং ভেঙে না পড়া পর্যন্ত যন্ত্রে কাটা প্রায় অসম্ভব।
  • ইলেকট্রন বিন্যাস [Xe] 4f¹⁴ 5d⁷ 6s² — পর্যায় ৬, গ্রুপ ৯, d-ব্লক; আংশিক ভরা 5d শেল থাকায় জারণ অবস্থা ঘোরে −৩ থেকে +৯ জুড়ে — এই +৯ অবস্থাই যেকোনো মৌলের প্রমাণিত সর্বোচ্চ।
  • ভূত্বকে দুর্লভ, কারণ তরুণ পৃথিবী গলে ওঠার সময় বেশিরভাগ ইরিডিয়াম লোহার সঙ্গে মিশে ভূ-কেন্দ্রে তলিয়ে গিয়েছিল; উপরিভাগের জোগাড় পরে এসেছে উল্কাপিণ্ডে — তাইই গ্রহাণু সংঘর্ষের ঠিকানা ধরিয়ে দেয় ইরিডিয়ামের অস্বাভাবিক প্রাচুর্য।
দেখতে কেমন

কঠিন, ভঙ্গুর, রূপালি-সাদা অতি ভারী ধাতু — এক দেশলাই বাক্স ভরলেই ওজন আধা কেজি ছাড়িয়ে যাবে। আয়নার মতো ঝকঝকে গায়ে সাধারণ কোনো আঘাতই বসে না: অ্যাসিড, সমুদ্রের জল, এমনকি সোনা-প্লাটিনাম গলিয়ে খাওয়া অ্যাকোয়া রেজিয়া পর্যন্ত ইরিডিয়ামের ক্ষতি করতে পারে না।

বাস্তব জগৎ

কোথায় দেখা মেলে

✦ ব্যবহার

  • গাড়ি ও সিএনজি ইঞ্জিনের দীর্ঘস্থায়ী স্পার্ক প্লাগ — সাধারণ ইস্পাতের ইলেকট্রোড যেখানে পুড়ে ছাই, ইরিডিয়াম-সংকরের ডগা সেখানে কোটি স্ফুলিঙ্গ সইয়ে নেয়।
  • LED বাতির নীলকান্তমণি (স্যাফায়ার) স্ফটিস গজানোর ক্রুসিবল, ছাঁচ ও রড — সাদা-গরম উত্তাপেও ইরিডিয়ামকে দংশন করার ক্ষমতা কারও নেই।
  • ভূতত্ত্বের ডাইনোসর-শনাক্তে কিট: ৬ কোটি ৬০ লক্ষ বছর আগের কে–পিজি সীমানার কাদাস্তর — ইতালির গুব্বিওসহ সারা বিশ্বে — চেনা হয় ১৯৮০ সালে আলভারেজ-দলের মাপা ইরিডিয়াম-অসঙ্গতি দেখে।
  • চরম-দায়িত্বের যন্ত্রাংশ: ফাউন্টেন কলমের নিবের ডগা, বৈদ্যুতিক সংযোগ, কম্পাসের বেয়ারিং, আর উচ্চক্ষমতার ইগনিশন ব্যবস্থার ইলেকট্রোড — যেখানে ক্ষয়কে ক্ষমা নেই।

◍ দৈনন্দিন উদাহরণ

  • বাংলাদেশের টিউন-করা অনেক সিএনজি গাড়িই চলে ইরিডিয়াম স্পার্ক প্লাগে — যার ডগা লক্ষ কিলোমিটার পার হয়েও ঝকঝকে স্ফুলিঙ্গ ছোড়ে।
  • ৬ কোটি ৬০ লক্ষ বছর আগের সীমানা-কাদার খাড়া পাড়ে যে পাতলা কালচে বেল্ট দেখা যায় — বিখ্যাত “ডাইনোসর-বিলুপ্তির স্তর” — ভূতত্ত্ববিদরা তার পেছনে ছোটেন ঠিক ইরিডিয়ামের অস্বাভাবিক উপস্থিতির গন্ধে।
  • ঢাকার দোকানের প্লাটিনামের আংটিতে মেশানো থাকে একই পরিবারের আত্মীয় ইরিডিয়াম — তাই আংটি সারাজীবন ঔজ্জ্বল্য হারায় না।
ইতিহাস

ইতিহাস ও নাম

১৮০৩ সালে লন্ডনে স্মিথসন টেন্যান্ট অশোধিত প্লাটিনামের ওপর অ্যাকোয়া রেজিয়া ঢেলে খেয়াল রাখলেন সেই একগুঁয়ে কালো দানাগুলোর ওপর, যাদের অন্যরা কাঠকয়লা বলে উড়িয়ে দিয়েছিল; ১৮০৪ সাল নাগাদ তিনি প্রমাণ করলেন, অবশিষ্টাংশে লুকিয়ে আছে দুটি নতুন ধাতু — অসমিয়াম আর ইরিডিয়াম। দ্বিতীয় ধাতুটির নাম তিনি দেন গ্রিক রংধনু-দেবী আইরিসের নামে, কারণ এর যৌগগুলোর রং চোখ ধাঁধানোর মতো সরস। ডেড় শতাব্দী পরে মৌলটি হয়ে উঠল গোয়েন্দার প্রমাণ: ১৯৮০ সালে লুইস ও ওয়াল্টার আলভারেজের দল দেখান, ডাইনোসরদের বিলুপ্তির ৬ কোটি ৬০ লক্ষ বছর আগের কাদাস্তরে ইরিডিয়াম অস্বাভাবিক মাত্রায় মজুত — ভূত্বকে যে মৌল দুর্লভ, গ্রহাণুতে যা প্রচুর — অর্থাৎ ক্রিটেশিয়াস যুগের ইতি টেনেছিল এক বিশাল গ্রহাণু সংঘর্ষ।

নামের উৎসগ্রিক iris — রংধনুর দেবী আইরিস; এর যৌগের রঙিন বৈচিত্র্যের স্মরণে নাম।
পাশের মৌল

কাছাকাছি মৌল

সারণিতে এই মৌলের ঠিক পাশে বসে থাকা মৌলগুলো — প্রায়ই রসায়নে সবচেয়ে কাছের আত্মীয়।