৮২Pbসীসা207.2
সীসা মৌলের প্রকৃত নমুনা
প্রকৃত নমুনার ছবি
উত্তর-স্থানান্তর ধাতু

সীসা (Pb)

“রোমান নগরের নলের ধাতু, আবার প্রতিটি গাড়ির ব্যাটারির প্রাণ — ছয় হাজার বছর ভরসার পরেও বিষক্রিয়ার দায়ে জগৎ একে পর্যায়ক্রমে বিদায় করতে বাধ্য।”

পারমাণবিক সংখ্যা৮২
পারমাণবিক ভর207.2
গ্রুপ১৪
পর্যায়৬
ব্লকP-block
অবস্থাকঠিন
ইলেকট্রন কাঠামো

ইলেকট্রনগুলো কীভাবে সাজানো

Pb
[Xe] 4f14 5d10 6s2 6p2
শেল ১
২e⁻
শেল ২
৮e⁻
শেল ৩
১৮e⁻
শেল ৪
৩২e⁻
শেল ৫
১৮e⁻
শেল ৬
৪e⁻

আউফবাউ নীতি থেকে গণনা করা হয়, বাস্তবের পরিচিত ব্যতিক্রমগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য হয়।

স্টাডি

নোটগুলো

মৌলটি সম্পর্কে

বৈশিষ্ট্য

  • জমে-জমে অভিশাপ হওয়া বিষ, যার কোনো নিরাপদ মাত্রা নেই: সীসা নিঃশব্দে হাড় আর মস্তিষ্কে জমা হয়, শিশুর বুদ্ধিমত্তা ম্লান করে, স্নায়ু ও রক্ত তৈরির ব্যবস্থায় আঘাত লাগায় — তাই লেডেড পেট্রোল, সীসা-রং ও খাদ্য-টিনের সোল্ডারে নিষেধাজ্ঞা।
  • অস্বাভাবিক ঘন (১১.৩৪ গ্রাম/ঘন সেন্টিমিটার) অথচ নরম, গলে মাত্র ৩২৭° সেলসিয়াসে — সাদামাটা ছাঁচেই ঢালা যায় ব্যাটারির খাঁচা, বুলেট কিংবা মাছ ধরার জালের ওজন।
  • নিষ্ক্রিয় জোড় প্রভাবে Pb²⁺-এর রাজত্ব, সঙ্গে অদ্রবণীয় বর্মের কৌশল: সীসার অ্যাসিটেট মিষ্টি ও দ্রবণীয়, কিন্তু ধাতুর গায়ে জন্মানো সালফেট-ক্লোরাইড পর্দা এত ভালো সিল করে যে সালফিউরিক অ্যাসিডেও বছরের পর বছর বাঁচে — গাড়ির ব্যাটারির এটাই রহস্য।
  • বিকিরণ-ঢালের চ্যাম্পিয়ান: পিণ্ড আর ভারী নিউক্লিয়াসের জোরে এক্স-রে ও গামা রশ্মি গিলে নেয় — এজন্যই রেডিওলজির দরজা-দেয়াল আর এপ্রনে সীসা ভরানো।
দেখতে কেমন

নরম, অতি ঘন, নীলচে-ধূসর ধাতু — নখের আঁচড়ে দাগ পড়ে, কাগজে ঘষলে ধূসর ছাপ রেখে যায়; একসময় গ্রাফাইটের নাম ছিল “ব্ল্যাক লেড”, তাই পেন্সিলে “সীসা” থাকার কথা বলা হয়, যদিও থাকে না। নতুন কাটা গা ঝিলমিল করে, কিন্তু বাতাস শীঘ্রই তাকে মুড়িয়ে দেয় ম্লান গাঢ়-ধূসর অক্সাইডের রক্ষাকবচে।

বাস্তব জগৎ

কোথায় দেখা মেলে

✦ ব্যবহার

  • লেড-অ্যাসিড ব্যাটারি — প্রতিটি বাস, গাড়ি, বাসার IPS আর বাংলাদেশের ব্যাটারি-চালিত ইজিবাইক-রিকশার ভারী প্রাণ; প্রতিটি সেলে সালফিউরিক অ্যাসিডের ভেতরে Pb ও PbO2\mathrm{PbO_{2}} পাতের স্তূপ বসে, আর ব্যাটারিই বিশ্বে সীসার সবচেয়ে বড় খাত।
  • বিকিরণ-ঢাল: হাসপাতালের এক্স-রে কক্ষের সীসা-লেপা দরজা-দেয়াল, রোগীর গায়ে জড়ানো ভারী এপ্রন, আর তেজস্ক্রিয় উৎস বহনের পাত্র।
  • ওজন ও আস্তরণ: চাকার ব্যালান্সিং-ওজন, মাছ ধরার জালের গোড়ায় বাঁধা সীসার ওজন, ক্রেনের পাল্লা-ওজন, সমুদ্রতলের কেবলের খোল, আর টিনে-কামারদের ছাদে পিটানো সীসার পাত।
  • অবসর-নেওয়া গৌরব: সাদা সীসার রং আর পেট্রোলের টেট্রাএথাইল সীসা দশকের পর দশক মুক্ত বাজারে বিকোত, যতক্ষণ না বিজ্ঞান তাদের দাম মেপে ফেলে — রাসায়নিক নিয়ন্ত্রণ-নীতি কেন দরকার, তারই পাঠ্যপুস্তকীয় গল্প।

◍ দৈনন্দিন উদাহরণ

  • ঢাকার বাসের ইঞ্জিনের তলার ব্যাটারি আর গ্রামের ইজিবাইকের চারটি ব্যাটারি — সবই লেড-অ্যাসিড; মরা ব্যাটারি গ্যারেজ টাকায় কিনে নিয়ে রিসাইক্লিংয়ে পাঠায়।
  • এক্স-রের আগে রেডিওগ্রাফার আচমকা ভারী একটা সীসার এপ্রন গায়ে জড়িয়ে দেন — ওই ভারটুকুই আসলে কাজ করা ঢাল।
  • নিষেধাজ্ঞা-পূর্ব দালানের খসে পড়া পুরোনো রং আর অনিয়ন্ত্রিত ব্যাটারি-রিসাইক্লিং প্রাঙ্গণের মাটি — এই দুটিই আজ বাংলাদেশি শিশুদের দেহে সীসা ঢোকার প্রধান পথ।
ইতিহাস

ইতিহাস ও নাম

মানুষের গলিয়ে আয়ত্ত করা প্রাচীনতম ধাতুগুলোর একটি সীসা — নরম, প্রচুর, আর ঝলমলে আকরিক গ্যালেনা থেকে ছাড়ানো সহজ — যার নিদর্শন প্রায় ছয় হাজার বছর পেছনে। রোম তার শহরে সীসার পাইপে জল চালাত (লাতিন plumbum — তা থেকেই Pb চিহ্ন আর plumber শব্দ), এমনকি মদ মিষ্টি করত “সীসার চিনি” নামের সীসা-অ্যাসিটেট দিয়ে। বিশ শতকে টেট্রাএথাইল সীসা মেশানো হতো বিশ্বজোড়া পেট্রোলে, যতক্ষণ না শিশুদের মস্তিষ্কে তার আঘাতের হিসাব পেট্রোল থেকে সীসা সম্পূর্ণ সরিয়ে দেওয়ার বৈশ্বিক অভিযান ডেকে আনে — যে অভিযান শেষ হয় মাত্র ২০২১ সালে; আর ঠিক সেই সময়তকেই চিকিৎসকেরা মাপছিলেন বাংলাদেশের ব্যাটারি-রিসাইক্লিং প্রাঙ্গণের আশপাশের শিশুদের রক্তে জমে ওঠা সীসা।

নামের উৎসলাতিন plumbum — রোমান নলের ধাতু; Pb চিহ্ন ও plumber শব্দ দুটোরই উৎস।
পাশের মৌল

কাছাকাছি মৌল

সারণিতে এই মৌলের ঠিক পাশে বসে থাকা মৌলগুলো — প্রায়ই রসায়নে সবচেয়ে কাছের আত্মীয়।