৯৩Npনেপটুনিয়াম[237]
নেপটুনিয়াম মৌলের প্রকৃত নমুনা
প্রকৃত নমুনার ছবি
অ্যাক্টিনাইড

নেপটুনিয়াম (Np)

“ইউরেনিয়ামের সীমা পেরিয়ে গড়া প্রথম মৌল — ১৯৪০ সালে বার্কলির সাইক্লোট্রনে বানানো, আর প্রতিবেশীর ধাঁচেই নাম নেওয়া পরের গ্রহ নেপচুনের নামে।”

পারমাণবিক সংখ্যা৯৩
পারমাণবিক ভর[237]
গ্রুপf-block
পর্যায়৭
ব্লকF-block
অবস্থাকঠিন
ইলেকট্রন কাঠামো

ইলেকট্রনগুলো কীভাবে সাজানো

Np
[Rn] 5f⁴ 6d¹ 7s²
শেল ১
২e⁻
শেল ২
৮e⁻
শেল ৩
১৮e⁻
শেল ৪
৩২e⁻
শেল ৫
২২e⁻
শেল ৬
৯e⁻
শেল ৭
২e⁻

আউফবাউ নীতি থেকে গণনা করা হয়, বাস্তবের পরিচিত ব্যতিক্রমগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য হয়।

স্টাডি

নোটগুলো

মৌলটি সম্পর্কে

বৈশিষ্ট্য

  • ইলেকট্রন বিন্যাস [Rn] 5f⁴ 6d¹ 7s² — পর্যায় ৭-এর f-ব্লক অ্যাক্টিনাইড; +৩ থেকে +৭ পর্যন্ত জারণ অবস্থা দেখায়, আর জলীয় রসায়নের সিংহাসনে বসে থাকে শান্ত +৫ নেপটুনাইল আয়ন Np(V)।
  • মূল আইসোটোপ Np-২৩৭-এর অর্ধায়ু ২১.৪ লক্ষ বছর — দীর্ঘায়ু আলফা বিকিরণকারী; মাটির গভীরে পোঁতা নিউক্লিয়ার বর্জ্যের লক্ষ-বছরের ঝুঁকির তালিকায় সবার আগে নেপটুনিয়ামের নামই আসে এ কারণে।
  • প্রকৃতি রাখে কেবল আঙুলের ছাপ: ইউরেনিয়াম-আকরিকের ভেতরে বিরল স্বতঃস্ফূর্ত বিভাজনের ছোঁয়া নিউট্রন মাঝে মাঝে একটি-আধটি নেপটুনিয়াম পরমাণু গড়ে দেয় — তাই মৌলটি প্রাকৃতিক, কেবল অতি সামান্য পরিমাণেই।
  • দ্রুত নিউট্রনে বিভাজ্য, আর অ্যামেরিসিয়ামের ক্ষয়-পিতা: ঘরের স্মোক-ডিটেক্টরের Am-২৪১ ধীরে ধীরে ভেঙে Np-২৩৭ হয়ে যায় — শুধু ক্ষয়ের পথ ধরেই দুই মৌলের যোগসূত্র।
দেখতে কেমন

রুপালি, নমনীয় ধাতু — দ্রুত অক্সাইডের পাতলা পর্দায় নিজেকে মুড়িয়ে ইস্পাতি আভায় থিতু হয়। ইউরেনিয়ামের কাছাকাছি ঘনত্বের ভারী অ্যাক্টিনাইড, গলে প্রায় ৬৪৪ °C-তে, আর তাপমাত্রা বদলালে দেখা দেয় তিন রকমের স্ফটিক রূপে।

বাস্তব জগৎ

কোথায় দেখা মেলে

✦ ব্যবহার

  • মহাকাশ-ব্যাটারির প্লুটোনিয়াম-২৩৮ ফলানো: নাসার ওক রিজে নতুন করে চালু উৎপাদন-ব্যবস্থায় Np-২৩৭-এর লক্ষ্যবস্তুতে বিকিরণ দেওয়া হয়, আর তা থেকে জন্ম নেওয়া Pu-২৩৮-ই চালায় কিউরিওসিটি ও পারসিভারেন্সের মতো রোভার-প্রোবের RTG।
  • নিউট্রন শনাক্তকরণ: Np-২৩৭ মাখানো ফিশন-চেম্বার কেবল দ্রুত নিউট্রনেই সাড়া দেয় — তাই চুল্লির নিউট্রন-শক্তি-বর্ণালি মাপার কাজে চুল্লি-পদার্থবিদদের প্রথম পছন্দ সেগুলোই।
  • নিছক গবেষণার খাম্বাজ: 5f ইলেকট্রন-সারির অধ্যয়ন আর অ্যাক্টিনাইড পাথর-কাদা-ভূগর্ভস্থ জলে কীভাবে ভেসে বেড়ায় তার হিসাব — দুই ক্ষেত্রেই এটি মানদণ্ড; নিউক্লিয়ার বর্জ্যের সমাধি নকশা করতে যে তথ্যই দরকার।
  • অনাকাঙ্ক্ষী অস্ত্র-তথ্য: ১৯৬২ সালে যুক্তরাষ্ট্র ভূগর্ভস্থ পরীক্ষায় নেপটুনিয়াম-২৩৭ দিয়ে বোমা বানানো যায় কি না যাচাই করেছিল — প্রায় ব্যবহৃতই হয় না, তবু এ জন্যই আইসোটোপটিকে অস্ত্রের মালামালের মতো পাহারায় রাখা হয়।

◍ দৈনন্দিন উদাহরণ

  • নিউক্লিয়ার-শক্তিচালিত মহাকাশযান নিয়ে ভয়েজার-ধাঁচের সংবাদ আসলে Pu-২৩৮-এরই খবর — আর Pu-২৩৮-এর জীবনযাত্রা শুরু হয় নেপটুনিয়ামের লক্ষ্যবস্তুতে, তাই এমন প্রতিটি অভিযানে মৌলটি অদৃশ্য সঙ্গী হয়েই থাকে।
  • ব্যবহার-শেষ চুল্লি-জ্বালানি লক্ষ বছরের জন্য মাটির নিচে পোঁতার বিতর্কে বারবার নেপটুনিয়াম-২৩৭-এর নাম উঠে আসে — বর্জ্যের প্রায় সবকিছুকে ছেড়ে গিয়ে বেঁচে থাকে বলেই।
  • পাঠ্যবইয়ের পর্যায় সারণির সীমান্ত-তীর — “ইউরেনিয়ামের-পরের মৌল” — যে ঘর থেকে শুরু হয়, সেটি ঠিক নেপটুনিয়ামের ঘর, ৯৩ নম্বর।
ইতিহাস

ইতিহাস ও নাম

১৯৪০ সালের বসন্তে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, বার্কলিতে এডউইন ম্যাকমিলান লক্ষ করলেন, নিউট্রনে গুলি করা ইউরেনিয়াম বারবার এমন এক বিটা-বিকিরণকারী জন্ম দিচ্ছে যাকে আর কোনো পরিচিত কিছু দিয়েই বোঝানো যায় না। তরুণ ভৌত রসায়নবিদ ফিলিপ অ্যাবেলসনের সঙ্গে মে মাসের মধ্যেই তিনি দোষীটিকে ধরলেন: ইউরেনিয়াম-২৩৯ বিটা ক্ষয়ে জন্ম নিয়েছে ৯৩ নম্বর মৌল — মানুষের বানানো ইতিহাসের প্রথম ট্রান্সইউরেনিক মৌল। ইউরেনিয়ামে শুরু হওয়া গ্রহ-নামের রীতি মেনে দুজনে এর নাম দিলেন নেপটুনিয়াম — ইউরেনাসের পরের গ্রহ নেপচুনের নামে — আর গবেষণাপত্র প্রকাশ্যেই ছাপল, কারণ ধাতুটির সামরিক গুরুত্ব তখনো কারও কল্পনায়ও আসেনি। কৃত্রিম-মৌলের যুগের দরজা খুলে দেওয়ার স্বীকৃতিতে ম্যাকমিলান ১৯৫১ সালে রসায়নে নোবেল ভাগ করে নিলেন।

নামের উৎসইউরেনাসের পরের গ্রহ নেপচুনের নামে — ইউরেনিয়াম শুরু করা গ্রহ-নামের মইয়ের দ্বিতীয় ধাপ।
পাশের মৌল

কাছাকাছি মৌল

সারণিতে এই মৌলের ঠিক পাশে বসে থাকা মৌলগুলো — প্রায়ই রসায়নে সবচেয়ে কাছের আত্মীয়।