
আমেরিসিয়াম (Am)
“সম্ভবত তোমার ঘরে থাকা একমাত্র কৃত্রিম মৌল — ছাদে লাগানো ধোঁয়া শনাক্তকারী যন্ত্রের ভেতরে এক চিমটে আমেরিসিয়াম বসে আছে।”
ইলেকট্রনগুলো কীভাবে সাজানো
আউফবাউ নীতি থেকে গণনা করা হয়, বাস্তবের পরিচিত ব্যতিক্রমগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য হয়।
নোটগুলো
বৈশিষ্ট্য
- প্রতিটি পরমাণুই তেজস্ক্রিয়: প্রধান আইসোটোপ Am-241-এর অর্ধায়ু ৪৩২ বছর; নেপচুনিয়াম-২৩৭ হয়ে যাওয়ার পথে এটি আলফা কণা ছুড়ে মারে।
- নিউক্লিয়ার চুল্লিতে প্লুটোনিয়াম থেকে গ্রাম-পরিমাণে উৎপাদিত হয় — এর চেয়ে ভারী যেকোনো কৃত্রিম মৌলের চেয়ে অনেক বেশি সুলভ।
- রসায়নে +3 জারণ অবস্থাই প্রধান, তবে +2, +4, +5 ও +6 দশাও জানা — অ্যাক্টিনাইড হয়েও বেশ সমৃদ্ধ তালিকা।
- অবিচলিত ও দীর্ঘ-আয়ুর আলফা ক্ষয়ের ফলে দশকের পর দশক একই কাজ চালিয়ে যায়: ১৯৯০-এর দশকে বানানো ধোঁয়া শনাক্তকারীর উৎস আজও নির্ভুল কাজ করে।
রুপালি-সাদা, বেশ শক্ত তেজস্ক্রিয় ধাতু; বাতাসে ধীরে ধীরে মলিন হয়। বিশ্বে এর উৎপাদন গ্রাম হিসেবেই মাপা হয়, তবু লাখ লাখ ঘর ও অফিসের ধোঁয়া শনাক্তকারীর ভেতরে লুকিয়ে থাকায় বিস্তারের বিচারে এটিই সবচেয়ে সুলভ কৃত্রিম মৌল।
কোথায় দেখা মেলে
✦ ব্যবহার
- আয়নীকরণ-ভিত্তিক ধোঁয়া শনাক্তকারী: সোনার পাতে বন্দি প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মাইক্রোগ্রাম Am-241 বাতাসকে আয়নিত করে; ধোঁয়া সেই আয়ন শুষে নিলেই বেজে ওঠে অ্যালার্ম — কোটি কোটি যন্ত্র এখন ঘর আর অফিস পাহারা দিচ্ছে।
- Am-Be নিউট্রন উৎস: বেরিলিয়ামের সঙ্গে জুড়ি বেঁধে আমেরিসিয়াম নিউট্রন ছোড়ে — কূপ-অন্বেষণের প্রোব, শিল্প-মাপকাঠি ও গবেষণাগারের নিউট্রন সক্রিয়করণ বিশ্লেষণে কাজে লাগে।
- ভারী মৌল গড়ার লক্ষ্যবস্তু: গবেষণা চুল্লিতে Am-243-এ আয়ন নিক্ষেপ করা হয় বার্কেলিয়াম, ক্যালিফোর্নিয়াম কিংবা আরও ভারী মৌল বানানোর একটি পথ হিসেবে।
- মহাকাশযানের ক্ষুদ্র তেজস্ক্রিয় শক্তিউৎস হিসেবে গবেষিত হয়েছে — এর আলফা ক্ষয় বেশ উষ্ণ, যদিও উড়ালে Pu-238-ই প্রথম পছন্দ।
◍ দৈনন্দিন উদাহরণ
- বাংলাদেশের কোনো স্কুল-করিডোরের সিলিঙে লাগানো ধোঁয়া শনাক্তকারীর ভেতরের ছোট্ট প্লেটটিই সম্ভবত কোনো কৃত্রিম মৌলের তোমার সবচেয়ে কাছে পৌঁছানোর সুযোগ।
- ঢাকার আধুনিক উঁচু ভবনে অগ্নি-নিরাপত্তা নিয়মে ধোঁয়া শনাক্তকারী ক্রমে বাধ্যতামূলক হচ্ছে — প্রতিটি টাওয়ারেই কয়েক মাইক্রোগ্রাম আমেরিসিয়াম নীরব পাহারায় নিয়োজিত।
- তেজস্ক্রিয়তা-নিরাপত্তার পুস্তিকা বলে, ধোঁয়া শনাক্তকারী কখনো ভেঙে দেখো না: বন্দি আমেরিসিয়াম যথাস্থানে নিরীহ, কিন্তু শ্বাসের সঙ্গে নেওয়ার মতো নয়।
ইতিহাস ও নাম
১৯৪৪ সালের শেষ দিকে শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের মেটালার্জিক্যাল ল্যাবরেটরিতে গ্লেন সিবর্গের দল — রাল্ফ জেমস, লিওন মর্গান ও অ্যালবার্ট গিওর্সো — নিউক্লিয়ার চুল্লিতে প্লুটোনিয়াম-২৩৯-এ নিউট্রন নিক্ষেপ করেন। প্লুটোনিয়াম পরপর নিউট্রন গিলে প্লুটোনিয়াম-২৪১-এ পরিণত হয়, আর তা বিটা ক্ষয়ের পথ ধরে জন্ম দেয় একেবারে নতুন এক মৌলের — আমেরিসিয়াম-২৪১। ম্যানহাটন প্রজেক্টের গোপনীয়তার কারণে আবিষ্কারটি গোপন ছিল; ১৯৪৫ সালের নভেম্বরে শিশুতোষ “কুইজ কিডস” রেডিও কুইজ অনুষ্ঠানে সিবর্গ কিউরিয়ামের সঙ্গে একসঙ্গে প্রথম প্রকাশ্যে ঘোষণা করেন। নাম রাখা হয় আমেরিকা মহাদেশের নামে — ঠিক যেভাবে সারণিতে এর ঠিক ওপরে ইউরোপ মহাদেশের নাম বহন করে ইউরোপিয়াম।
কাছাকাছি মৌল
সারণিতে এই মৌলের ঠিক পাশে বসে থাকা মৌলগুলো — প্রায়ই রসায়নে সবচেয়ে কাছের আত্মীয়।
