
বার্কেলিয়াম (Bk)
“যে শহর মানচিত্রে খুঁজে পাওয়া যায়, সেই বার্কলির নাম পর্যায় সারণিতেও ঠিকানা পেয়েছে — যে শহরের গবেষণাগারে কৃত্রিম মৌলজগতের অর্ধেকই তৈরি, তার নাম বহন করে বার্কেলিয়াম।”
ইলেকট্রনগুলো কীভাবে সাজানো
আউফবাউ নীতি থেকে গণনা করা হয়, বাস্তবের পরিচিত ব্যতিক্রমগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য হয়।
নোটগুলো
বৈশিষ্ট্য
- এতই দুর্লভ যে বিশ্বব্যাপী বার্ষিক উৎপাদন মাইক্রোগ্রাম থেকে মিলিগ্রামেই মাপা হয়, আর সরবরাহ দিতে পারে পৃথিবীর কেবল দু-একটি স্থাপনা।
- +3 ও +4 — এই দুই জারণ দশার মাঝে সহজেই যাতায়াত-করা বিরল অ্যাক্টিনাইড, তাই চার-যোজনীয় অ্যাক্টিনাইড বন্ধন পড়ার দুর্লভ জানালা এটি।
- শনাক্ত বিশ-কুড়িটি আইসোটোপের সবগুলোই তেজস্ক্রিয়: Bk-247 টেকে সবচেয়ে বেশি (প্রায় ১,৪০০ বছর), আর গবেষণার প্রধান Bk-249 টিকে মাত্র ৩৩০ দিন।
- উচ্চ-ফ্লাক্স চুল্লিতে কিউরিয়ামে নিউট্রন নিক্ষেপে তৈরি হয় — মজুত রাখা সম্ভব এমন সবচেয়ে ভারী মৌলগুলোর একটি।
রুপালি, অতি ভারী তেজস্ক্রিয় ধাতু — যা কোনোদিন কেবল মিলিগ্রামের চূড়া পরিমাণেই তৈরি হয়েছে। চোখে দেখার মতো টুকরো কেউ কখনো হাতে ধরেনি; বার্কেলিয়াম সম্পর্কে যা জানা, তা বেঞ্চে রাখার মতো কোনো খণ্ড নয়, মাইক্রোগ্রাম নমুনা আর বর্ণালি-বিশ্লেষণের ভরসাতেই জানা।
কোথায় দেখা মেলে
✦ ব্যবহার
- অতিভারী মৌল-শিকারের লক্ষ্যবস্তু: ওক রিজে তৈরি মূল্যবান ২২ মিলিগ্রাম Bk-249 পাঠানো হয় দুবনায়; সেখানে এতে ক্যালসিয়াম-৪৮ রশ্মি ছুড়ে বানানো হয় ১১৭ নম্বর মৌল টেনেসিন।
- অ্যাক্টিনাইড রসায়ন গবেষণা: Bk-249-এর সহজলভ্য +4 দশার সুবাদে ২০১৮ সালে রসায়নবিদেরা গুছিয়ে তুলতে পারেন প্রথম বার্কেলিয়াম-জৈবধাতব অণু “বার্কেলোসিন”।
- রেডিওকেমিক্যাল ট্রেসার ও ক্রমাঙ্কন গবেষণা — Bk-249-এর ক্ষয়-সারণি ভালোভাবে আঁকা থাকায় পরীক্ষায় এর পরমাণু চেনা সহজ।
◍ দৈনন্দিন উদাহরণ
- ২০১৬ সালে টেনেসিন যখন পর্যায় সারণিতে নাম পেল, তখন এর পেছনে ছিল বার্কেলিয়াম — সারণির নতুন সারির জন্মকাহিনি ঐ ২২ মিলিগ্রামের এক চালান পর্যন্তই ফিরে খোঁজা যায়।
- বার্কেলিয়াম দোকানে, ঘরে বা হাসপাতালে কখনো আসে না; বাংলাদেশের শিক্ষার্থীর কাছে এটি কেবল ক্লাসরুমের চার্টের অতিভারী প্রান্তেই বাস করে।
ইতিহাস ও নাম
১৯৪৯ সালের ডিসেম্বরে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্কলি ক্যাম্পাসে স্ট্যানলি থম্পসন, অ্যালবার্ট গিওর্সো ও গ্লেন সিবর্গ ৬০ ইঞ্চি সাইক্লোট্রনে কপটিকা-সংগ্রহ করা Am-241 লক্ষ্যবস্তুতে আলফা কণা ছোড়েন; প্রতিটি সংযোগে দুটি নিউট্রন উড়ে গিয়ে পেছনে রেখে যায় বার্কেলিয়াম-২৪৩। ইউরেনিয়ামের ওপরে মানুষের তৈরি পঞ্চম মৌল এটি, আর নামটিও দলের নিজের ক্যাম্পাস-শহরের — যেমন বার্কেলিয়ামের ঠিক ওপরের টার্বিয়ামের নাম হয়েছিল সুইডেনের ইটারবি গ্রামের নামে। আজকের বার্কেলিয়াম এই পথে আর তৈরি হয় না: ওক রিজের হাই ফ্লাক্স আইসোটোপ রিঅ্যাক্টরে মাসের পর মাস কিউরিয়ামের লক্ষ্যবস্তু নিউট্রনে ভিজিয়ে বিশ্বের গবেষকদের জন্য Bk-249 ফলানো হয়।
কাছাকাছি মৌল
সারণিতে এই মৌলের ঠিক পাশে বসে থাকা মৌলগুলো — প্রায়ই রসায়নে সবচেয়ে কাছের আত্মীয়।
