৯৭Bkবার্কেলিয়াম[247]
বার্কেলিয়াম মৌলের প্রকৃত নমুনা
প্রকৃত নমুনার ছবি
অ্যাক্টিনাইড

বার্কেলিয়াম (Bk)

“যে শহর মানচিত্রে খুঁজে পাওয়া যায়, সেই বার্কলির নাম পর্যায় সারণিতেও ঠিকানা পেয়েছে — যে শহরের গবেষণাগারে কৃত্রিম মৌলজগতের অর্ধেকই তৈরি, তার নাম বহন করে বার্কেলিয়াম।”

পারমাণবিক সংখ্যা৯৭
পারমাণবিক ভর[247]
গ্রুপf-block
পর্যায়৭
ব্লকF-block
অবস্থাকঠিন
ইলেকট্রন কাঠামো

ইলেকট্রনগুলো কীভাবে সাজানো

Bk
[Rn] 5f9 7s2
শেল ১
২e⁻
শেল ২
৮e⁻
শেল ৩
১৮e⁻
শেল ৪
৩২e⁻
শেল ৫
২৭e⁻
শেল ৬
৮e⁻
শেল ৭
২e⁻

আউফবাউ নীতি থেকে গণনা করা হয়, বাস্তবের পরিচিত ব্যতিক্রমগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য হয়।

স্টাডি

নোটগুলো

মৌলটি সম্পর্কে

বৈশিষ্ট্য

  • এতই দুর্লভ যে বিশ্বব্যাপী বার্ষিক উৎপাদন মাইক্রোগ্রাম থেকে মিলিগ্রামেই মাপা হয়, আর সরবরাহ দিতে পারে পৃথিবীর কেবল দু-একটি স্থাপনা।
  • +3 ও +4 — এই দুই জারণ দশার মাঝে সহজেই যাতায়াত-করা বিরল অ্যাক্টিনাইড, তাই চার-যোজনীয় অ্যাক্টিনাইড বন্ধন পড়ার দুর্লভ জানালা এটি।
  • শনাক্ত বিশ-কুড়িটি আইসোটোপের সবগুলোই তেজস্ক্রিয়: Bk-247 টেকে সবচেয়ে বেশি (প্রায় ১,৪০০ বছর), আর গবেষণার প্রধান Bk-249 টিকে মাত্র ৩৩০ দিন।
  • উচ্চ-ফ্লাক্স চুল্লিতে কিউরিয়ামে নিউট্রন নিক্ষেপে তৈরি হয় — মজুত রাখা সম্ভব এমন সবচেয়ে ভারী মৌলগুলোর একটি।
দেখতে কেমন

রুপালি, অতি ভারী তেজস্ক্রিয় ধাতু — যা কোনোদিন কেবল মিলিগ্রামের চূড়া পরিমাণেই তৈরি হয়েছে। চোখে দেখার মতো টুকরো কেউ কখনো হাতে ধরেনি; বার্কেলিয়াম সম্পর্কে যা জানা, তা বেঞ্চে রাখার মতো কোনো খণ্ড নয়, মাইক্রোগ্রাম নমুনা আর বর্ণালি-বিশ্লেষণের ভরসাতেই জানা।

বাস্তব জগৎ

কোথায় দেখা মেলে

✦ ব্যবহার

  • অতিভারী মৌল-শিকারের লক্ষ্যবস্তু: ওক রিজে তৈরি মূল্যবান ২২ মিলিগ্রাম Bk-249 পাঠানো হয় দুবনায়; সেখানে এতে ক্যালসিয়াম-৪৮ রশ্মি ছুড়ে বানানো হয় ১১৭ নম্বর মৌল টেনেসিন।
  • অ্যাক্টিনাইড রসায়ন গবেষণা: Bk-249-এর সহজলভ্য +4 দশার সুবাদে ২০১৮ সালে রসায়নবিদেরা গুছিয়ে তুলতে পারেন প্রথম বার্কেলিয়াম-জৈবধাতব অণু “বার্কেলোসিন”।
  • রেডিওকেমিক্যাল ট্রেসার ও ক্রমাঙ্কন গবেষণা — Bk-249-এর ক্ষয়-সারণি ভালোভাবে আঁকা থাকায় পরীক্ষায় এর পরমাণু চেনা সহজ।

◍ দৈনন্দিন উদাহরণ

  • ২০১৬ সালে টেনেসিন যখন পর্যায় সারণিতে নাম পেল, তখন এর পেছনে ছিল বার্কেলিয়াম — সারণির নতুন সারির জন্মকাহিনি ঐ ২২ মিলিগ্রামের এক চালান পর্যন্তই ফিরে খোঁজা যায়।
  • বার্কেলিয়াম দোকানে, ঘরে বা হাসপাতালে কখনো আসে না; বাংলাদেশের শিক্ষার্থীর কাছে এটি কেবল ক্লাসরুমের চার্টের অতিভারী প্রান্তেই বাস করে।
ইতিহাস

ইতিহাস ও নাম

১৯৪৯ সালের ডিসেম্বরে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্কলি ক্যাম্পাসে স্ট্যানলি থম্পসন, অ্যালবার্ট গিওর্সো ও গ্লেন সিবর্গ ৬০ ইঞ্চি সাইক্লোট্রনে কপটিকা-সংগ্রহ করা Am-241 লক্ষ্যবস্তুতে আলফা কণা ছোড়েন; প্রতিটি সংযোগে দুটি নিউট্রন উড়ে গিয়ে পেছনে রেখে যায় বার্কেলিয়াম-২৪৩। ইউরেনিয়ামের ওপরে মানুষের তৈরি পঞ্চম মৌল এটি, আর নামটিও দলের নিজের ক্যাম্পাস-শহরের — যেমন বার্কেলিয়ামের ঠিক ওপরের টার্বিয়ামের নাম হয়েছিল সুইডেনের ইটারবি গ্রামের নামে। আজকের বার্কেলিয়াম এই পথে আর তৈরি হয় না: ওক রিজের হাই ফ্লাক্স আইসোটোপ রিঅ্যাক্টরে মাসের পর মাস কিউরিয়ামের লক্ষ্যবস্তু নিউট্রনে ভিজিয়ে বিশ্বের গবেষকদের জন্য Bk-249 ফলানো হয়।

নামের উৎসক্যালিফোর্নিয়ার বার্কলি শহরের নামে — যে বিশ্ববিদ্যালয়-গবেষণাগারে এটি তৈরি হয়েছিল; ওপরের ইটারবি-নামী টার্বিয়ামের মতো নাম।
পাশের মৌল

কাছাকাছি মৌল

সারণিতে এই মৌলের ঠিক পাশে বসে থাকা মৌলগুলো — প্রায়ই রসায়নে সবচেয়ে কাছের আত্মীয়।