
ক্যালিফোর্নিয়াম (Cf)
“মাত্র এক মাইক্রোগ্রাম প্রতি সেকেন্ডে দুই মিলিয়নের বেশি নিউট্রন ছোড়ে — ক্যালিফোর্নিয়াম-২৫২ পৃথিবীর সবচেয়ে কেন্দ্রীভূত বহনযোগ্য নিউট্রন উৎস।”
ইলেকট্রনগুলো কীভাবে সাজানো
আউফবাউ নীতি থেকে গণনা করা হয়, বাস্তবের পরিচিত ব্যতিক্রমগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য হয়।
নোটগুলো
বৈশিষ্ট্য
- Cf-252 এক স্বতঃস্ফূর্ত-বিভাজনের যন্ত্র: অর্ধায়ু ২.৬ বছর, আর এক মাইক্রোগ্রাম প্রতি সেকেন্ডে ছাড়ে প্রায় ২৩ লাখ নিউট্রন।
- এ পর্যন্ত বিক্রি হওয়া সবচেয়ে দামি পদার্থগুলোর একটি — গ্রাম-হিসেবে Cf-252-এর দামের ট্যাগে উঠেছে কোটিরও ওপরে মার্কিন ডলার।
- এতই তেজস্ক্রিয় যে নিজেই নিজেকে গরম করে নিজের স্ফটিক-কাঠামো নষ্ট করে; কর্মীরা ভারী ঢালের আড়াল থেকে দূরনিয়ন্ত্রিত যন্ত্রহাতে একে সামলান।
- উচ্চ-ফ্লাক্স চুল্লিতে কিউরিয়াম বা প্লুটোনিয়ামের লক্ষ্যবস্তুতে মাস-বছরের নিউট্রন-স্নানে তৈরি হয় — এক এক প্রচেষ্টায় মেলে নিছক কয়েক মিলিগ্রাম।
রুপালি-ধূসর তেজস্ক্রিয় ধাতু; চূড়া পরিমাণের বেশি কখনো তৈরি হলে প্লাটিনামের মতো ঝলমল করত। কেবল মিলিগ্রাম-দলে তৈরি এই মৌল এতই প্রবল তেজস্ক্রিয় যে নমুনা নিজেই নিজেকে উল্লেখযোগ্যরকম উষ্ণ রাখে, আর প্রকৃত প্রতিটি নমুনাকেই থাকতে হয় ভারী ঢালের আড়ালে।
কোথায় দেখা মেলে
✦ ব্যবহার
- চুল্লির সূচনা-উৎস: নতুন লোড করা রিঅ্যাক্টর কোরে চিমটে Cf-252 বসিয়ে শিকল-বিক্রিয়ার প্রথম নিউট্রনগুলো জোগানো হয় — পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের যেন স্পার্ক-প্লাগ।
- তেলকূপ বিশ্লেষণ: বোরহোলে নামিয়ে Cf-252 উৎস চারপাশের শিলায় নিউট্রন ছোড়ে, আর ফিরে আসা গামা রশ্মিই বেঁধে দেয় পানি, তেল ও গ্যাসের স্তর — বিশ্বজুড়ে খননের দিক ঠিক করে এই তথ্যই।
- নিউট্রন সক্রিয়করণ বিশ্লেষণ: নিরাপত্তা ও শুল্ক গবেষণাগারে Cf-252-এর নিউট্রনে শোঁয়া হয় বিস্ফোরক আর মাদক; খনি-খুঁটিয়ারা একই কৌশলে খানিতেই সোনা-রুপার আকরিকের মান মেপে নেন।
- ক্যান্সারের নিউট্রন-ক্যাপচার থেরাপি গবেষণায় — দুর্গম টিউমারের বিরুদ্ধে এর কমপ্যাক্ট নিউট্রন নির্গমন পরীক্ষিত হয়েছে।
◍ দৈনন্দিন উদাহরণ
- আধুনিক কোনো তেলক্ষেত্রের প্রতিটি ব্যারেল তেলের পেছনে থাকতে পারে এক ক্যালিফোর্নিয়াম উৎসের অবদান — খনন শুরুর আগেই যা কিলোমিটার নিচের শিলাস্তরের হিসাব মিলিয়ে দিয়েছিল।
- নতুন যেকোনো পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম চাই নিউট্রনের স্ফুলিঙ্গ — Cf-252 সূচনা-উৎস তার একটি প্রচলিত সমাধান, যা এই দুর্লভ ধাতুকে পারমাণবিক বিদ্যুতের যুগের সঙ্গে জুড়ে দেয়।
- বাংলা-মাধ্যম ক্লাসরুমের পর্যায় সারণির চার্টে Cf চুপচাপ অ্যাক্টিনাইড সারিতে বসে আছে — অথচ সত্যিকারের শিল্প-কাজ থাকা কতিপয় কৃত্রিম মৌলের এটি একটি।
ইতিহাস ও নাম
১৯৫০ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি বার্কলিতে স্ট্যানলি থম্পসন, কেনেথ স্ট্রিট জুনিয়র, অ্যালবার্ট গিওর্সো ও গ্লেন সিবর্গ ৬০ ইঞ্চি সাইক্লোট্রনে চোখে-কানায় না-দেখা এক ফালি Cm-242-তে আলফা কণা ছোড়েন; প্রতিটি সংযোগে একটি নিউট্রন বেরিয়ে গিয়ে পেছনে রেখে যায় ক্যালিফোর্নিয়াম-২৪৫। দলটি নামকরণে বেশ একটা মজার মিলও খুঁজে পেয়েছিল: ক্যালিফোর্নিয়ামের ঠিক ওপরের ল্যান্থানাইড ডিসপ্রোসিয়ামের নাম গ্রিক শব্দ থেকে, যার অর্থ “পাওয়া কঠিন” — নতুন মৌলটিও দিব্যি তা-ই প্রমাণ করছিল। নামটি রাখা হয় ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্য ও কাজটি যে বিশ্ববিদ্যালয়ে হয়েছিল তার সম্মানে। আজ যুক্তরাষ্ট্রের ওক রিজ ও রাশিয়ার উচ্চ-ফ্লাক্স চুল্লিতে মিলিগ্রাম-দলে ক্যালিফোর্নিয়াম ফলানো হয়।
কাছাকাছি মৌল
সারণিতে এই মৌলের ঠিক পাশে বসে থাকা মৌলগুলো — প্রায়ই রসায়নে সবচেয়ে কাছের আত্মীয়।
