১Hহাইড্রোজেন1.008
হাইড্রোজেন মৌলের প্রকৃত নমুনা
প্রকৃত নমুনার ছবি
অধাতু

হাইড্রোজেন (H)

“মহাবিশ্বের সবচেয়ে হালকা ও সর্বাধিক প্রাপ্ত মৌল — প্রতি দশটি পরমাণুর নয়টিই হাইড্রোজেন।”

পারমাণবিক সংখ্যা১
পারমাণবিক ভর1.008
গ্রুপ১
পর্যায়১
ব্লকS-block
অবস্থাগ্যাস
ইলেকট্রন কাঠামো

ইলেকট্রনগুলো কীভাবে সাজানো

H
1s1
শেল ১
১e⁻

আউফবাউ নীতি থেকে গণনা করা হয়, বাস্তবের পরিচিত ব্যতিক্রমগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য হয়।

স্টাডি

নোটগুলো

মৌলটি সম্পর্কে

বৈশিষ্ট্য

  • সবচেয়ে হালকা পরমাণু: একটি প্রোটন ও একটি ইলেকট্রন। ইলেকট্রন বিন্যাস 1s¹; অবস্থান পর্যায় ১, গ্রুপ ১।
  • অক্সিজেনে প্রায় অদৃশ্য হালকা-নীল শিখায় জ্বলে খাঁটি পানি তৈরি করে — এই বিক্রিয়াতেই কখনো হিন্ডেনবার্গ বাতাসযানটি ধ্বংস হয়েছিল।
  • একক পরমাণু হিসেবে অত্যন্ত দাহ্য ও সক্রিয়, কিন্তু H2\mathrm{H_{2}} অণুটি বেশ স্থিতিশীল; বিক্রিয়া ঘটাতে তাপ বা প্রভাবক লাগে।
  • মহাবিশ্বের সর্বাধিক প্রাপ্ত মৌল — সূর্য প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৬০ কোটি টন হাইড্রোজেন ফিউশন করে হিলিয়াম বানায়।
দেখতে কেমন

কক্ষ তাপমাত্রায় বর্ণহীন, গন্ধহীন গ্যাস। এটি দ্বিপরমাণবক অণু (H2\mathrm{H_{2}}) আকারে থাকে — দুটি পরমাণু জোড়া বেঁধে থাকে — এবং বাতাসের চেয়ে প্রায় চৌদ্দ গুণ হালকা, তাই একসময় বেলুন ভরতে এটি ব্যবহৃত হতো।

বাস্তব জগৎ

কোথায় দেখা মেলে

✦ ব্যবহার

  • সার তৈরির অ্যামোনিয়া (NH3\mathrm{NH_{3}}) উৎপাদনে — হেবার পদ্ধতিতে বিপুল পরিমাণ হাইড্রোজেন ব্যবহৃত হয়; বাংলাদেশের সারকারখানাগুলোতেও এই প্রক্রিয়াই চলে।
  • উদ্ভিজ্জ তেল জমাট করে মার্গারিন ও ভ্যানাস্পতি ঘি তৈরিতে — নিকেল প্রভাবকের উপস্থিতিতে তেলের ভেতর দিয়ে হাইড্রোজেন চালনা করা হয়।
  • রকেট ও ফুয়েল-সেল গাড়ির জ্বালানি — পুড়লে প্রচুর শক্তি মেলে, আর নিঃসরণ শুধু পানি।
  • আবহাওয়া বেলুন ও কালের বাতাসযান ভরতে; ধাতু কাটা ও ওয়েল্ডিংয়ের অক্সি-হাইড্রোজেন টর্চেও ব্যবহৃত হয়।

◍ দৈনন্দিন উদাহরণ

  • পানি — H2O\mathrm{H_{2}O} — পরমাণু সংখ্যার হিসাবে দুই-তৃতীয়াংশই হাইড্রোজেন; তুমি যে গ্লাস পানি পান করো, তাতেই এর ভরা।
  • সূর্যসহ নক্ষত্রগুলো বিশাল হাইড্রোজেন প্লাজমার গোলা; গবেষণাগারের অ্যাসিড এমনকি পাকস্থলীর অম্লতার জন্যও দায়ী হাইড্রোজেন আয়ন।
  • রান্নাঘরের স্যাচেট দুধ, সরিষার তেল কিংবা পেট্রোল পাম্পের জ্বালানি — সবই হাইড্রোজেন-সমৃদ্ধ যৌগ।
ইতিহাস

ইতিহাস ও নাম

১৭৬৬ সালে ইংরেজ বিজ্ঞানী হেনরি ক্যাভেন্ডিশ ধাতুতে অ্যাসিড ফোঁটানোর সময় এক ধরনের অদ্ভুত “দাহ্য বায়ু” সংগ্রহ করেন এবং প্রমাণ করেন যে এটি পুড়লে পানি তৈরি হয়। পরে আঁতোয়ান লাভোয়াজিয়ে এই পরীক্ষা পুনরাবৃত্তি করে গ্যাসটির নাম দেন হাইড্রোজেন — গ্রিক শব্দ হাইডর (পানি) ও জেনেস (জন্ম দেওয়া) থেকে — এবং এটিকে প্রকৃত মৌল হিসেবে চিহ্নিত করেন। পানির সঙ্গে এর সম্পর্ক রসায়ন-বিপ্লবের একটি ভিত্তিপ্রস্তর হয়ে ওঠে।

নামের উৎসগ্রিক hydor (পানি) + genes (গঠনকারী) — “পানি গঠনকারী”; নাম দেন লাভোয়াজিয়ে।
পাশের মৌল

কাছাকাছি মৌল

সারণিতে এই মৌলের ঠিক পাশে বসে থাকা মৌলগুলো — প্রায়ই রসায়নে সবচেয়ে কাছের আত্মীয়।