মানচিত্র, দাবার বোর্ড নয়
পর্যায় সারণি কারও সাজানো কোনো গ্রিড নয় — এটা ইলেকট্রন শেল যেভাবে ভরে, তার মানচিত্র। প্রতিটা সারি (পর্যায়) শেল ভরার একবার ভ্রমণ: পর্যায় ১ ভরে শেল ১, পর্যায় ২ ভরে শেল ২, এভাবেই। প্রতিটা কলাম (গ্রুপ) জমায় এমন পরমাণুদের, যাদের বাইরের শেল ভরার একই পর্যায়ে আছে — যোজ্যতা ইলেকট্রনের সংখ্যা এক — এজন্যই একটা কলাম পরিবারের মতো আচরণ করে। এই চোখে পড়লে সারণি আর ১১৮টা বাক্স নয়, নিয়মটারই একখানা ছবি।
s, p, d, f ব্লকগুলো
ইলেকট্রন নির্দিষ্ট ক্রমে উপশেলে বসে, আর চার পরিবারের উপশেলই সারণিকে দেয় চারটা আনুভূমিক বলয়। s-ব্লক (গ্রুপ ১–২, সঙ্গে হিলিয়াম): বাইরের ইলেকট্রন s অরবিটালে — দুটো আসন, চোখের পলকে ভরে যায়। p-ব্লক (গ্রুপ ১৩–১৮): আরও ছয়টা আসন — অধাতু আর হ্যালোজেনদের ঠিকানা। d-ব্লক (গ্রুপ ৩–১২): এক শেল ভেতরে দশটা আসন — স্থানান্তর ধাতু আর তাদের পরিবর্তনশীল যোজনী। f-ব্লক: দুই শেল গভীরে চৌদ্দটা আসন — ল্যান্থানাইড আর অ্যাক্টিনাইড।
চওড়াগুলো কারও নকশার পছন্দ নয়: ২, ৬, ১০ আর ১৪ আক্ষরিক অর্থেই s, p, d, f উপশেলের আসন-সংখ্যা। এটা জানার পর সারণির আকৃতিটা — দুটো লম্বা কলাম, মাঝে মোটা অংশ, ডানে চওড়া ডানা, আর একেবারে নিচে আলাদা দুই সারি — যেন কোয়ান্টাম বলবিজ্ঞানের একখানা বার-চার্ট।
f-ব্লক নিচে ঝুলে থাকে কেন
কড়া করে ভরার ক্রম মানলে ল্যান্থানাইডরা (মৌল ৫৭–৭১) পর্যায় ৬-তে আর অ্যাক্টিনাইডরা (৮৯–১০৩) পর্যায় ৭-তে — ঠিক গ্রুপ ২ আর গ্রুপ ৩-এর মাঝখানে — বসার কথা। ওখানে ছাপলে সারণি ৩২ কলামে টেনে যেত, আর প্রতিটা পাঠ্যবই হতো টেবিল-ক্লথের সাইজ। প্রচলিত রীতি ওই দুই সারিকে টেনে বের করে নিচে পাদটীকা বানিয়ে রাখে, গ্রুপ ৩-এ একটা ছোট ফাঁক দিয়ে জানিয়ে দেয় ওরা কোথায় আবার জুড়বে। এটা ছাপার করুণা, রসায়নের কোনো বদল নয় — প্রশ্ন করলে পরীক্ষায় স্পষ্ট করে বলে দেওয়াই ভালো।
আঠারোটা কলাম কেন
সবচেয়ে বড় শেলের একটা পূর্ণ পর্যায়ে ব্লকগুলো যোগ করো: s (২) + f (১৪) + d (১০) + p (৬) = ৩২টা মৌল পর্যায় ৬ ও ৭-এ — কিন্তু f-ব্লক যেহেতু নিচে পার্ক করা, ছাপা সারণিতে দেখা যায় ২ + ১০ + ৬ = ১৮টা কলাম। আধুনিক আইইউপ্যাক রীতিতে গ্রুপগুলো বাম থেকে ডানে ১–১৮ সংখ্যায় পড়ে — যেটা আবার আমাদের যোজ্যতা-ইলেকট্রন গাইডের গুনন-শর্টকাটটাকেও চালনা দেয়।
যে আসন নিয়ে কেউ একমত নয়
হাইড্রোজেন এই আকৃতির বিখ্যাত বিব্রতকর অধ্যায়: গ্রুপ ১-এর হিসাব-খাতা, অথচ গ্রুপ ১৭-এর স্বভাব। প্রতিটা পরিবার ডাক দেয়, কেউ পুরোপুরি দাবি করে না — এর জন্য আলাদা গাইড আছে আমাদের। একটা মাত্র মৌল যদি জ্যামিতিটাকে বেঁকে দেয়, সেটা সারণির দোষ নয়; সারণি সত্যি অস্বাভাবিক এক পরমাণু সম্পর্কে সৎ থাকার নাম।
তুমি জিজ্ঞেস করেছিলে
০বিন্যাস দেখে ব্লক বলা যায়?
দেখো শেষ ইলেকট্রনটা কোন উপশেলে ঢুকছে: s-এ শেষ → s-ব্লক (গ্রুপ ১–২), p-তে শেষ → p-ব্লক (গ্রুপ ১৩–১৮), d-তে শেষ → d-ব্লক (গ্রুপ ৩–১২), f-এ শেষ → f-ব্লক। এটাই প্রচলিত পরীক্ষার শিকল: বিন্যাস → শেষ উপশেল → ব্লক → গ্রুপ ও পর্যায়।
