৯Fফ্লোরিন18.998
ফ্লোরিন মৌলের প্রকৃত নমুনা
প্রকৃত নমুনার ছবি
হ্যালোজেন

ফ্লোরিন (F)

“পর্যায় সারণির সবচেয়ে হিংস্র বিক্রিয়াশীল মৌল — এই হালকা হলুদ গ্যাস পানির সঙ্গেও তীব্র বিক্রিয়া ঘটায়, নিষ্ক্রিয় গ্যাস জেননকেও যৌগ গঠনে বাধ্য করে।”

পারমাণবিক সংখ্যা৯
পারমাণবিক ভর18.998
গ্রুপ১৭
পর্যায়২
ব্লকP-block
অবস্থাগ্যাস
ইলেকট্রন কাঠামো

ইলেকট্রনগুলো কীভাবে সাজানো

F
[He] 2s2 2p5
শেল ১
২e⁻
শেল ২
৭e⁻

আউফবাউ নীতি থেকে গণনা করা হয়, বাস্তবের পরিচিত ব্যতিক্রমগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য হয়।

স্টাডি

নোটগুলো

মৌলটি সম্পর্কে

বৈশিষ্ট্য

  • জানা মৌলগুলোর মধ্যে সর্বাধিক বিক্রিয়াশীল ও সর্বোচ্চ তড়িৎ-ঋণাত্মক — পলিং স্কেলে মান ৪.০; শেয়ারকৃত ইলেকট্রনকে ফ্লোরিনের চেয়ে শক্তভাবে আঁজড়ে ধরতে পারে এমন পরমাণু আর নেই।
  • ইলেকট্রন বিন্যাস 1s² 2s² 2p⁵ — সাতটি যোজ্যতা ইলেকট্রন, তাই পর্যায় ২-এ হ্যালোজেনদের গ্রুপ ১৭-তে এর আসন, আর একটি ইলেকট্রন জোগাড় করে F⁻ হওয়াই এর একমাত্র চাওয়া।
  • গাঢ় অন্ধকারে, তীব্র শীতেও হাইড্রোজেনের সঙ্গে স্পর্শমাত্র বিস্ফোরণ ঘটায়; পানির সঙ্গে প্রচণ্ডভাবে বিক্রিয়া করে, এমনকি জেননের সঙ্গেও XeF2\mathrm{XeF_{2}}-এর মতো যৌগ গঠন করে।
  • এর বন্ধনগুলো শক্তিতে চ্যাম্পিয়ন — টেফলনে (PTFE) কার্বনের শিকলের সঙ্গে এমন শক্তিতে আবদ্ধ থাকে যে ফুটন্ত তেল কিংবা অ্যাসিডও প্যানের গায়ে আঁটে না।
দেখতে কেমন

ঝাঁঝালো গন্ধের হালকা হলুদ গ্যাস; দ্বিপরমাণবক F2\mathrm{F_{2}} অণুতে থাকে। স্ফুটনাঙ্ক −১৮৮°C হলেও সেই শীতলতাতেও এটি ভয়ংকর বিক্রিয়াশীল — তাই রসায়নবিদেরা একে ধরতে পারেন কেবল তামা বা নিকেলের মজবুত পাত্রে, যেসব পাত্র নিজেরাই পাতলা ফ্লোরাইড স্তর জমিয়ে নিজেকে রক্ষা করে।

বাস্তব জগৎ

কোথায় দেখা মেলে

✦ ব্যবহার

  • টুথপেস্টের NaF\mathrm{NaF} বা SnF2\mathrm{SnF_{2}}-এর মতো ফ্লোরাইড — দাঁতের এনামেলকে অ্যাসিড-সহনশীল ফ্লুওরোঅ্যাপাটাইটে বদলে দেয়; দাঁতের ক্ষয়রোধে জনস্বাস্থ্যের অন্যতম সফল অস্ত্র।
  • টেফলন (PTFE) প্রলেপ — ভাজার প্যানের নন-স্টিক তল আর রেইনকোটের পানি-নিরোধক আস্তরণ, দুটিই ফ্লুরোপলিমার।
  • হাইড্রোফ্লুরিক অ্যাসিড (HF\mathrm{HF}) — কাচ খোদাই করতে পারে এমন বিরল অ্যাসিড; বাল্ব ফ্রস্টিং থেকে থার্মোমিটারের দাগ কাটা পর্যন্ত এর কাজ।
  • সালফার হেক্সাফ্লোরাইড (SF6\mathrm{SF_{6}}) — ভারী, নিষ্ক্রিয় এই ফ্লোরিন-যৌগ বিদ্যুৎ গ্রিডের উচ্চ-ভোল্টেজ সুইচে অন্তরক হিসেবে কাজ করে; ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণও চলে বায়বীয় UF6\mathrm{UF_{6}}-কে ঘিরে।

◍ দৈনন্দিন উদাহরণ

  • পরিবারের টুথপেস্টের টিউবের গায়ের উপাদান-তালিকায় “sodium fluoride” নামটি স্পষ্ট লেখাই থাকে — সাধারণত তালিকার একেবারে শেষ দিকে।
  • রান্নাঘরের নন-স্টিক কড়াই আর বাল্বের গায়ের দুধ-সাদা ভেজা আস্তরণ — দুটিই ফ্লোরিনের রসায়নে তৈরি।
  • সিলেটের বাগানের এক কাপ চায়েও সামান্য প্রাকৃতিক ফ্লোরাইড থাকে, কারণ চা-গাছ মাটি থেকে এটি টেনে তোলে।
ইতিহাস

ইতিহাস ও নাম

১৫০০-এর দশক থেকেই খনি শ্রমিক ও ধাতুবিদেরা ফ্লোরিনের খনিজ ফ্লুওরস্পার (CaF2\mathrm{CaF_{2}}) গলানোর ফ্লাক্স হিসেবে ব্যবহার করতেন, কিন্তু মৌলটিকে মুক্ত অবস্থায় আনা ছিল রসায়নের সবচেয়ে মারাত্মক চ্যালেঞ্জ — বিষাক্ত ধোঁয়ায় কয়েকজন গবেষক চোখ হারান, কেউ কেউ প্রাণ; তাঁদের স্মরণ করা হয় “ফ্লোরিনের শহিদ” নামে। ১৮৮৬ সালে ফরাসি রসায়নবিদ অঁরি মোয়াসাঁ অবশেষে সফল হন — বরফশীতল নির্জল হাইড্রোফ্লুরিক অ্যাসিডে দ্রবীভূত পটাশিয়াম হাইড্রোজেন ফ্লোরাইডের তড়িৎ-বিশ্লেষণ ঘটিয়ে তিনি অধরা গ্যাসটিকে মুক্ত করেন। এই কৃতিত্বের জন্য তিনি পান ১৯০৬ সালের রসায়নে নোবেল পুরস্কার। নামটি ফ্লুওরস্পারের সেই পুরোনো কাজের স্মৃতি বহন করে: ল্যাটিন fluere অর্থ “প্রবাহিত হওয়া” — কারণ চুল্লিতে খনিজটি গলিত আকরিককে সহজে প্রবাহিত হতে সাহায্য করত।

নামের উৎসল্যাটিন fluere (“প্রবাহিত হওয়া”) — চুল্লির আকরিক সহজে প্রবাহিত করা ফ্লুওরস্পার খনিজের নামানুসারে।
পাশের মৌল

কাছাকাছি মৌল

সারণিতে এই মৌলের ঠিক পাশে বসে থাকা মৌলগুলো — প্রায়ই রসায়নে সবচেয়ে কাছের আত্মীয়।