
ফ্লোরিন (F)
“পর্যায় সারণির সবচেয়ে হিংস্র বিক্রিয়াশীল মৌল — এই হালকা হলুদ গ্যাস পানির সঙ্গেও তীব্র বিক্রিয়া ঘটায়, নিষ্ক্রিয় গ্যাস জেননকেও যৌগ গঠনে বাধ্য করে।”
ইলেকট্রনগুলো কীভাবে সাজানো
আউফবাউ নীতি থেকে গণনা করা হয়, বাস্তবের পরিচিত ব্যতিক্রমগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য হয়।
নোটগুলো
বৈশিষ্ট্য
- জানা মৌলগুলোর মধ্যে সর্বাধিক বিক্রিয়াশীল ও সর্বোচ্চ তড়িৎ-ঋণাত্মক — পলিং স্কেলে মান ৪.০; শেয়ারকৃত ইলেকট্রনকে ফ্লোরিনের চেয়ে শক্তভাবে আঁজড়ে ধরতে পারে এমন পরমাণু আর নেই।
- ইলেকট্রন বিন্যাস 1s² 2s² 2p⁵ — সাতটি যোজ্যতা ইলেকট্রন, তাই পর্যায় ২-এ হ্যালোজেনদের গ্রুপ ১৭-তে এর আসন, আর একটি ইলেকট্রন জোগাড় করে F⁻ হওয়াই এর একমাত্র চাওয়া।
- গাঢ় অন্ধকারে, তীব্র শীতেও হাইড্রোজেনের সঙ্গে স্পর্শমাত্র বিস্ফোরণ ঘটায়; পানির সঙ্গে প্রচণ্ডভাবে বিক্রিয়া করে, এমনকি জেননের সঙ্গেও -এর মতো যৌগ গঠন করে।
- এর বন্ধনগুলো শক্তিতে চ্যাম্পিয়ন — টেফলনে (PTFE) কার্বনের শিকলের সঙ্গে এমন শক্তিতে আবদ্ধ থাকে যে ফুটন্ত তেল কিংবা অ্যাসিডও প্যানের গায়ে আঁটে না।
ঝাঁঝালো গন্ধের হালকা হলুদ গ্যাস; দ্বিপরমাণবক অণুতে থাকে। স্ফুটনাঙ্ক −১৮৮°C হলেও সেই শীতলতাতেও এটি ভয়ংকর বিক্রিয়াশীল — তাই রসায়নবিদেরা একে ধরতে পারেন কেবল তামা বা নিকেলের মজবুত পাত্রে, যেসব পাত্র নিজেরাই পাতলা ফ্লোরাইড স্তর জমিয়ে নিজেকে রক্ষা করে।
কোথায় দেখা মেলে
✦ ব্যবহার
- টুথপেস্টের বা -এর মতো ফ্লোরাইড — দাঁতের এনামেলকে অ্যাসিড-সহনশীল ফ্লুওরোঅ্যাপাটাইটে বদলে দেয়; দাঁতের ক্ষয়রোধে জনস্বাস্থ্যের অন্যতম সফল অস্ত্র।
- টেফলন (PTFE) প্রলেপ — ভাজার প্যানের নন-স্টিক তল আর রেইনকোটের পানি-নিরোধক আস্তরণ, দুটিই ফ্লুরোপলিমার।
- হাইড্রোফ্লুরিক অ্যাসিড () — কাচ খোদাই করতে পারে এমন বিরল অ্যাসিড; বাল্ব ফ্রস্টিং থেকে থার্মোমিটারের দাগ কাটা পর্যন্ত এর কাজ।
- সালফার হেক্সাফ্লোরাইড () — ভারী, নিষ্ক্রিয় এই ফ্লোরিন-যৌগ বিদ্যুৎ গ্রিডের উচ্চ-ভোল্টেজ সুইচে অন্তরক হিসেবে কাজ করে; ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণও চলে বায়বীয় -কে ঘিরে।
◍ দৈনন্দিন উদাহরণ
- পরিবারের টুথপেস্টের টিউবের গায়ের উপাদান-তালিকায় “sodium fluoride” নামটি স্পষ্ট লেখাই থাকে — সাধারণত তালিকার একেবারে শেষ দিকে।
- রান্নাঘরের নন-স্টিক কড়াই আর বাল্বের গায়ের দুধ-সাদা ভেজা আস্তরণ — দুটিই ফ্লোরিনের রসায়নে তৈরি।
- সিলেটের বাগানের এক কাপ চায়েও সামান্য প্রাকৃতিক ফ্লোরাইড থাকে, কারণ চা-গাছ মাটি থেকে এটি টেনে তোলে।
ইতিহাস ও নাম
১৫০০-এর দশক থেকেই খনি শ্রমিক ও ধাতুবিদেরা ফ্লোরিনের খনিজ ফ্লুওরস্পার () গলানোর ফ্লাক্স হিসেবে ব্যবহার করতেন, কিন্তু মৌলটিকে মুক্ত অবস্থায় আনা ছিল রসায়নের সবচেয়ে মারাত্মক চ্যালেঞ্জ — বিষাক্ত ধোঁয়ায় কয়েকজন গবেষক চোখ হারান, কেউ কেউ প্রাণ; তাঁদের স্মরণ করা হয় “ফ্লোরিনের শহিদ” নামে। ১৮৮৬ সালে ফরাসি রসায়নবিদ অঁরি মোয়াসাঁ অবশেষে সফল হন — বরফশীতল নির্জল হাইড্রোফ্লুরিক অ্যাসিডে দ্রবীভূত পটাশিয়াম হাইড্রোজেন ফ্লোরাইডের তড়িৎ-বিশ্লেষণ ঘটিয়ে তিনি অধরা গ্যাসটিকে মুক্ত করেন। এই কৃতিত্বের জন্য তিনি পান ১৯০৬ সালের রসায়নে নোবেল পুরস্কার। নামটি ফ্লুওরস্পারের সেই পুরোনো কাজের স্মৃতি বহন করে: ল্যাটিন fluere অর্থ “প্রবাহিত হওয়া” — কারণ চুল্লিতে খনিজটি গলিত আকরিককে সহজে প্রবাহিত হতে সাহায্য করত।
কাছাকাছি মৌল
সারণিতে এই মৌলের ঠিক পাশে বসে থাকা মৌলগুলো — প্রায়ই রসায়নে সবচেয়ে কাছের আত্মীয়।
