
সালফার (S)
“ধর্মগ্রন্থে "পোড়া পাথর" নামে পরিচিত হলদে মৌল — বারুদের বিস্ফোরণ, রাবারের মজবুতি আর দেশলাইয়ের ঠোকা, সব পেছনেই এটি।”
ইলেকট্রনগুলো কীভাবে সাজানো
আউফবাউ নীতি থেকে গণনা করা হয়, বাস্তবের পরিচিত ব্যতিক্রমগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য হয়।
নোটগুলো
বৈশিষ্ট্য
- টকটকে হলুদ কঠিন পদার্থ, যার পরমাণুগুলো আটটি করে মিলে বলয় গড়ে; ভঙ্গুর, মাত্র ১১৫°C-তেই গলে যায়, আর পানিতে কক্ষনো দ্রবীভূত হয় না (যদিও কার্বন ডাই-সালফাইডে সহজে মিশে)।
- বাতাসে হঠাৎ জ্বলে ওঠে নীলাভ শিখায়, তৈরি করে সালফার ডাই-অক্সাইড () — দেশলাই ঠোকা বা আতশবাজির ঝাঁঝালো গন্ধের পেছনে এই গ্যাসই।
- গ্রুপ ১৬-তে অক্সিজেনের সঙ্গে থাকলেও সেই গ্যাসীয় প্রতিবেশীর বিপরীতে কক্ষ তাপমাত্রায় এটি কঠিন; যোজ্যতা স্তর [Ne] 3s² 3p⁴-এ ধরে রাখে ছয়টি ইলেকট্রন।
- −২ থেকে +৬ পর্যন্ত নানা জারণ অবস্থা দেখায়: লোহার পাইরাইটে সালফাইড (S²⁻), আবার জিপসাম ও ইপসম লবণে সালফেট (²⁻) রূপে।
টকটকে হলুদ, ভঙ্গুর, স্ফটিসদৃশ কঠিন পদার্থ — চকের মতো সহজে ভেঙে যায়, আর মাত্র ১১৫°C-এর কাছাকাছি তাপেই গলে যায়। এর পরমাণুগুলো — আট সদস্যের মুকুট-আকৃতির বলয় — বানিয়ে যুক্ত থাকে, তাই আগ্নেয়গিরির মুখে পাওয়া সালফার নরম হলদে স্ফটিকের চাদরের মতো দেখায়।
কোথায় দেখা মেলে
✦ ব্যবহার
- সালফিউরিক অ্যাসিড () তৈরি — "রসায়নের রাজা" এই অ্যাসিডের ওপরেই টিএসপি-জাতীয় সারকারখানা আর গাড়ি, আইপিএস ও রিকশার বাতির লেড-অ্যাসিড ব্যাটারি দাঁড়িয়ে।
- বারুদ ও দেশলাই প্রস্তুতিতে — কালো বারুদ মানেই সালফার, শোরা () আর কাঠকয়লার মিশ্রণ; দেশলাইয়ের মাথায় সালফারের সঙ্গে থাকে ফসফরাস।
- রাবার ভাল্কানাইজেশনে — ১৮৩৯ সালে চার্লস গুডইয়ারের এই কৌশলে গরম কাঁচা রাবারে সালফার মিশিয়েই বানে টায়ার, পাইপ আর জুতার সোলের টেকসই রাবার।
- আম, শশা ও সবজি ক্ষেতে ছত্রাকনাশক সালফার গুঁড়ো, আর যুগের পর যুগ চর্মরোগের পুরনো দাওয়াই সালফার মলম আজও উকুনের চুলকানিতে লাগানো হয়।
◍ দৈনন্দিন উদাহরণ
- পচা ডিম থেকে বেরোয় হাইড্রোজেন সালফাইড () — "সালফারের গন্ধ" বলতে আমরা যা বুঝি; পেঁয়াজ-রসুনের ঝাঁঝও আসলে সালফার-যৌগের দান।
- সিসিলি থেকে জাভার কাওয়াহ ইজেন — আগ্নেয়গিরির মুখ আর গরম প্রস্রবণের ধারে জমে থাকে খাঁটি সালফারের হলদে স্ফটিক।
- শুকনো এপ্রিকট বা কিশমিশ সোনালি রঙ ধরে রাখে ধোঁয়ায় শুকানোর কারণে; দেশলাই ঠোকার মুহূর্তেও ছড়িয়ে পড়ে খানিকটা একই গ্যাস।
ইতিহাস ও নাম
সালফার বা প্রাচীন বাংলা নামে গন্ধক সেই কয়েকটি মৌলের একটি, যা মানুষ বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের আগেই চিনেছিল — প্রাচীন মিশরীয়রা এর ধোঁয়ায় কাপড় ধোয়া ও ঘর পরিষ্কার করত, আর বাইবেলে এর নাম ব্রিমস্টোন বা "পোড়া পাথর"। এতটাই পরিচিত হওয়ায় দীর্ঘদিন বিতর্ক ছিল, এটি আদৌ মৌল কি না; ১৭৭৭ সালে আঁতোয়ান লাভোয়াজিয়ের দহন-পরীক্ষণে প্রমাণ করেন, সালফার কোনো যৌগ নয়, আর ভাঙা যায় না এমন একটি সরল মৌল। এরপর শতাব্দীর পর শতাব্দী সিসিলির আগ্নেয় সঞ্চয় থেকেই দুনিয়ার চাহিদা মিটত, শেষে ১৮৯৪ সালে ফ্রাশ পদ্ধতিতে অতি-গরম পানি চালিয়ে টেক্সাস-লুইজিয়ানার লবণ-গম্বুজের গভীর থেকে সালফার গলিয়ে তোলা শুরু হয়।
কাছাকাছি মৌল
সারণিতে এই মৌলের ঠিক পাশে বসে থাকা মৌলগুলো — প্রায়ই রসায়নে সবচেয়ে কাছের আত্মীয়।
