
প্যালাডিয়াম (Pd)
“রসায়নের অফবাউ-অবাধ্য মৌল — 5s-এর দুটি ইলেকট্রনই পালিয়ে 4d-তে ঢুকেছে, ফলে বিন্যাস [Kr] 4d¹⁰ — ক্ষুদ্রগ্রহের নামে নাম নেওয়া ধাতু, যে নিজের আয়তনের ৯০০ গুণ হাইড্রোজেন শুষে নিতে পারে।”
ইলেকট্রনগুলো কীভাবে সাজানো
আউফবাউ নীতি থেকে গণনা করা হয়, বাস্তবের পরিচিত ব্যতিক্রমগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য হয়।
নোটগুলো
বৈশিষ্ট্য
- ইলেকট্রন বিন্যাস [Kr] 4d¹⁰ — বিখ্যাত অফবাউ ব্যতিক্রম: 5s-এর দুটি ইলেকট্রনই 4d-তে ঢুকে 5s-কে খালি রেখেছে; নিয়মবইয়ের ভবিষ্যবাণি [Kr] 4d⁸ 5s² হলেও পূর্ণ d উপস্তরের অতিরিক্ত স্থিতিশীলতাই এখানে জিতে যায়।
- হাইড্রোজেন শুষে নেয় স্পঞ্জের মতো — কক্ষ তাপমাত্রাতেই নিজের আয়তনের প্রায় ৯০০ গুণ — ধাতব জাফরির ফাঁকে ঢুকে বসে হাইড্রোজেন পরমাণু গড়ে তোলে হাইড্রাইড।
- অভিজাত পরিবারের হালকা-ওজনের সদস্য — ছয় প্লাটিনাম-শ্রেণির ধাতুর মধ্যে সর্বনিম্ন ঘনত্ব ও গলনাঙ্ক (প্রায় ১৫৫৫°C) — তবু বাতাস, আর্দ্রতা বা একক অ্যাসিড কোনো ক্ষতিই করতে পারে না।
- প্রভাবকতায় নম্র দৈত্য — প্যালাডিয়ামের পৃষ্ঠে পা রাখা মাত্রই হাইড্রোজেন অণু ভেঙে যায় পরমাণুতে; অগণিত হাইড্রোজেনযোজন বিক্রিয়ার প্রথম ধাপ এটাই — লিন্ডলার প্রভাবকে অ্যালকাইন থেকে সিস-অ্যালকিন বানানোও এই ক্ষমতারই ব্যবহার।
হালকা, উজ্জ্বল রুপালি-সাদা প্লাটিনাম-পরিবারের ধাতু; বাতাসে কখনো মলিন হয় না। অভিজাত ভাইবোনদের মধ্যে এটিই কনিষ্ঠতম — সর্বনিম্ন ঘনত্ব, সর্বনিম্ন গলনাঙ্ক — তবু এতটাই নমনীয় যে সাবান-বুদবুদের পর্দার চেয়েও পাতলা পাতে পিটিয়ে ফেলা যায়।
কোথায় দেখা মেলে
✦ ব্যবহার
- পেট্রলগাড়ির ক্যাটালিটিক কনভার্টারে — কার্বন মনো-অক্সাইড ও অপূর্ণ পোড়া হাইড্রোকার্বন জারিত করে প্যালাডিয়াম; মোটরযান-শিল্পই এই ধাতুর সবচেয়ে বড় একক ক্রেতা।
- দাঁতের ক্রাউন ও ব্রিজে — মজবুত, হালকা প্যালাডিয়াম-রূপার “সাদা সংকর” পৃথিবীজুড়ে কোটি মুখ ভরে দিয়েছে।
- ইলেকট্রনিক্সের মাল্টিলেয়ার সিরামিক ক্যাপাসিটরে — একটি স্মার্টফোনেই থাকে শতাধিক, বহু ক্যাপাসিটরের তড়িৎদ্বারেই প্যালাডিয়াম বা রূপা-প্যালাডিয়াম।
- হাইড্রোজেন শোধনের ঝিল্লি — গরম প্যালাডিয়ামের পাতের ভেতর দিয়ে কেবল হাইড্রোজেন পরমাণুই যেতে পারে, আর কোনো গ্যাস পারে না, তাই মেলে অতি-খাঁটি গ্যাস; গয়নার দোকানেও প্লাটিনামের পালক-ওজন বিকল্প হিসেবে এর রাজত্ব।
◍ দৈনন্দিন উদাহরণ
- বাংলাদেশের যেকোনো শহরের ডেন্টাল ক্লিনিক — হোয়াইট-গোল্ড ডেন্টাল কাস্টিংয়ের বেশিরভাগই প্যালাডিয়াম সংকর।
- শিক্ষার্থীর পকেটের স্মার্টফোনের সার্কিট বোর্ডে লুকিয়ে থাকে শত শত প্যালাডিয়াম-ধারী ক্যাপাসিটর।
ইতিহাস ও নাম
১৮০২–০৩ সালে উইলিয়াম হাইড ওলাস্টন অশোধিত দক্ষিণ আমেরিকান প্লাটিনাম থেকে প্যালাডিয়াম পৃথক করেন — তারপর করলেন এক অদ্ভুত কাণ্ড: নতুন ধাতুটির ঘোষণা দিলেন বেনামি এক ছাপা লিফলেটে, আর লন্ডনের এক দোকান ঘুরে আউন্স প্রতি ত্রিশ শিলিং দামে বিক্রি করতে লাগলেন। আইরিশ রসায়নবিদ রিচার্ড শেনেভিক্স প্রকাশ্যে একে প্লাটিনাম-পারদ সংকরের প্রতারণা বলে উড়িয়ে দিলে জ্বলে উঠল রসায়নের বিখ্যাত “প্যালাডিয়াম কেলেঙ্কারি”। ওলাস্টন চুপচাপ ঘোষণা দিলেন — কে নিজে ওই সংকর বানাতে পারবে, তাকে পুরস্কার — কেউই পারল না — আর অবশেষে ১৮০৫ সালে নিজেই নিজের পরিচয় ফাঁস করলেন। নামটি রাখা হলো ক্ষুদ্রগ্রহ প্যালাসের সম্মানে — মাত্র এক বছর আগে আবিষ্কৃত, যার নাম এসেছে জ্ঞানের গ্রিক দেবীর এক নাম থেকে।
কাছাকাছি মৌল
সারণিতে এই মৌলের ঠিক পাশে বসে থাকা মৌলগুলো — প্রায়ই রসায়নে সবচেয়ে কাছের আত্মীয়।
