৪৭Agরূপা107.87
রূপা মৌলের প্রকৃত নমুনা
প্রকৃত নমুনার ছবি
স্থানান্তর ধাতু

রূপা (Ag)

“তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবহনে সব মৌলের শিরোমণি — আর ব্রোঞ্জ যুগ থেকেই বধূ, আলোকচিত্রী ও সাম্রাজ্যের গুপ্তধন রূপা।”

পারমাণবিক সংখ্যা৪৭
পারমাণবিক ভর107.87
গ্রুপ১১
পর্যায়৫
ব্লকD-block
অবস্থাকঠিন
ইলেকট্রন কাঠামো

ইলেকট্রনগুলো কীভাবে সাজানো

Ag
[Kr] 4d¹⁰ 5s¹
শেল ১
২e⁻
শেল ২
৮e⁻
শেল ৩
১৮e⁻
শেল ৪
১৮e⁻
শেল ৫
১e⁻

আউফবাউ নীতি থেকে গণনা করা হয়, বাস্তবের পরিচিত ব্যতিক্রমগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য হয়।

স্টাডি

নোটগুলো

মৌলটি সম্পর্কে

বৈশিষ্ট্য

  • ইলেকট্রন বিন্যাস [Kr] 4d¹⁰ 5s¹ — পর্যায় ৫-এর আরেক অফবাউ-অবাধ্য মৌল, কারণ সরল পূরণে হতো [Kr] 4d⁹ 5s²; তামা আর সোনার ঠিক মাঝের গ্রুপ ১১-এর “মুদ্রা-ধাতু”, রসায়নে প্রায় সবসময়ই Ag⁺।
  • সব মৌলের সেরা বিদ্যুৎ ও তাপ পরিবাহী — রূপার পরিবাহিতার প্রায় ৯৫ শতাংশ পারে তামা, মাত্র ৭০ শতাংশ পারে সোনা — তাই রিলে, কনট্যাক্ট ও উঁচু মানের সার্কিটে রূপাই পছন্দ।
  • অক্সিজেন নয়, কষ্ট দেয় সালফার: বাতাসে, পেঁয়াজে, ডিমে ও পশমে থাকা সামান্য হাইড্রোজেন সালফাইড পৃষ্ঠে বুনে দেয় কালো Ag2S\mathrm{Ag_{2}S} পাতলা আস্তরণ — ঘষে তুলতে হয় পরিচিত সেই কালশিটে দাগ।
  • হ্যালাইডগুলো আলো-সংবেদী — ফিল্মের AgBr\mathrm{AgBr} দানায় লুকানো অদৃশ্য ছবি ডেভেলপারের ছোঁয়ায় কালো ধাতব রূপায় ফুটে ওঠে; আলোকচিত্র ও এক্স-রে ফিল্মের গোটা ভিত্তিই এটি — আবার দ্রবীভূত Ag⁺ আয়ন নিভানো-কঠিন সামান্য মাত্রাতেই ব্যাকটেরিয়া মারতে জানে।
দেখতে কেমন

প্রকৃতির শ্রেষ্ঠ আয়না-রঙের সাদা ধাতু; দৃশ্যমান আলোর প্রায় ৯৫ শতাংশ ফিরিয়ে দেয়। নরম ও বিখ্যাতভাবে নমনীয় — এক গ্রাম রূপা থেকেই টানা যায় প্রায় দুই কিলোমিটার লম্বা তার; অথচ পেঁয়াজের ঝাঁঝ বা সেদ্ধ ডিমের গন্ধে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দীপ্তির ওপর ছড়িয়ে পড়ে কালচে মলিন আস্তরণ।

বাস্তব জগৎ

কোথায় দেখা মেলে

✦ ব্যবহার

  • স্টার্লিং সিলভারের গয়না — ৯২.৫ শতাংশ রূপা, সঙ্গে শক্তি জোগাতে তামা — বাংলাদেশের বিয়ে-উৎসবের প্রচলিত অলংকার; নিত্য পরিধানের জন্য খাঁটি রূপা বড়ই নরম বলে।
  • আলোকচিত্র ও এক্স-রে ফিল্ম — দাগেরোটাইপ থেকে ফিল্ম-রোলের যুগ, প্রতিটি ছবি ধরে রেখেছে AgBr\mathrm{AgBr} ইমালশন; আজও বহু হাসপাতালের এক্স-রে প্লেটে তার রাজত্ব চলছে।
  • সোলার প্যানেল — প্রতিটি স্ফটিক সিলিকন সেলের ওপর ছাপা মাকড়সার জালের মতো রূপার পেস্টই বিদ্যুৎ সংগ্রহ করে; বাংলাদেশের লাখ লাখ সোলার হোম সিস্টেম দাঁড়িয়ে আছে এর ওপরেই।
  • হাতঘড়ি ও ক্যালকুলেটর চালানো সিলভার-অক্সাইড বোতাম ব্যাটারি (Ag2O\mathrm{Ag_{2}O}–জিংক), সঙ্গে একটুও রোধ মেনে নেওয়া যায় না এমন সুইচগিয়ারে রূপার কনট্যাক্ট ও পরিবাহী।

◍ দৈনন্দিন উদাহরণ

  • বাংলাদেশি বধূর রূপার নূপুর, চুড়ি ও বিছা — শত শত বছরের রূপকার-ঐতিহ্যে টিকে থাকা রূপার সবচেয়ে পুরনো ভূমিকা।
  • হাসপাতালের খামে রাখা পুরনো এক্স-রে প্লেট, কিংবা হাতঘড়ির বোতাম ব্যাটারি — কোনো ঢাকঢোল ছাড়াই শিক্ষার্থীর হাতে তুলে দেয় রূপাকে।
  • গ্রামবাংলার ছাদজুড়ে ঝলমলে সোলার প্যানেল — প্রতিটি সেলের সামনের মুখ ডোরাকাটা রূপার পরিবাহী রেখায়।
ইতিহাস

ইতিহাস ও নাম

রূপার কোনো আবিষ্কারক নেই — এটি প্রাচীন যুগের সাত ধাতুর একটি, অন্তত পাঁচ হাজার বছর ধরে মানুষ এর ব্যবহার জানে। খ্রিস্টপূর্ব প্রায় ৩০০০ অব্দেই প্রাচীন ধাতুবিদরা কাপেলেশন পদ্ধতিতে সীসা থেকে রূপা আলাদা করত — গলিত মিশ্রণের ওপর দিয়ে বাতাস বয়িয়ে সীসাকে অক্সাইড হয়ে উড়িয়ে নেওয়া হতো, পেছনে থেকে যেত অভিজাত ধাতুটি। এর প্রতীক Ag এসেছে লাতিন argentum থেকে — অর্থ “উজ্জ্বল সাদা” — যার আরও গোড়ায় আছে গ্রিক argyros। টাকার জগতে সাদা ধাতুটি এতটাই কেন্দ্রীয় ছিল যে “গড়া রূপা” অর্থে সংস্কৃত শব্দ রূপ্য আজও বেঁচে আছে উপমহাদেশের রুপি মুদ্রার নামে — শতাব্দীর পর শতাব্দী বাংলায় যে মুদ্রাই চলত।

নামের উৎসলাতিন argentum — “উজ্জ্বল সাদা”; এখান থেকেই প্রতীক Ag — আর আর্জেন্টিনা পৃথিবীর একমাত্র দেশ, যার নাম কোনো মৌলের নামে।
পাশের মৌল

কাছাকাছি মৌল

সারণিতে এই মৌলের ঠিক পাশে বসে থাকা মৌলগুলো — প্রায়ই রসায়নে সবচেয়ে কাছের আত্মীয়।