৬Cকার্বন12.011
কার্বন মৌলের প্রকৃত নমুনা
প্রকৃত নমুনার ছবি
অধাতু

কার্বন (C)

“একই মৌলের তিন রকম চরিত্র: পেনসিল-নরম কালো গ্রাফাইট, প্রকৃতির সবচেয়ে কঠিন হীরা, আর ফুটবল-আকৃতির ফুলারিন — প্রতিটিই খাঁটি কার্বন।”

পারমাণবিক সংখ্যা৬
পারমাণবিক ভর12.011
গ্রুপ১৪
পর্যায়২
ব্লকP-block
অবস্থাকঠিন
ইলেকট্রন কাঠামো

ইলেকট্রনগুলো কীভাবে সাজানো

C
[He] 2s2 2p2
শেল ১
২e⁻
শেল ২
৪e⁻

আউফবাউ নীতি থেকে গণনা করা হয়, বাস্তবের পরিচিত ব্যতিক্রমগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য হয়।

স্টাডি

নোটগুলো

মৌলটি সম্পর্কে

বৈশিষ্ট্য

  • হাড়-গড়া চতুযোজী: চারটি যোজ্যতা ইলেকট্রন নিয়ে একটি কার্বন পরমাণু একসঙ্গে চারটি মজবুত সমযোজী বন্ধন ধরে রাখে, ফলে শিকল, বলয়, শাখা — সব সাজাতে পারে; প্রতিটি জৈব অণুর কঙ্কাল এ-ই।
  • নিজের সঙ্গে বন্ধনের চ্যাম্পিয়ন (শৃঙ্খলন): এত দীর্ঘ ও স্থায়ী শিকলে নিজের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে না অন্য কোনো মৌল — এ কারণেই কার্বনের লাখ লাখ যৌগ জানা, বাকি সব মৌল মিলেও যার কাছে পৌঁছায় না।
  • দুই মেরুর বহুরূপতা: হীরা — প্রকৃতির সবচেয়ে কঠিন পদার্থ ও বিদ্যুৎ-অন্তরক; গ্রাফাইট — কাগজে ঘষা পড়ার মতো নরম, তবু ভালো পরিবাহী; তার সঙ্গে ফুলারিন, ন্যানোটিউব আর এক-পরমাণু-পুরু গ্রাফিন।
  • জীবনের ইঞ্জিন: প্রোটিন, চর্বি, শর্করা, DNA — সবই দাঁড়িয়ে আছে কার্বনের মেরুদণ্ডে আর কার্বন-১৪-এর ধীর ক্ষয় প্রত্নতাত্ত্বিকদের প্রাচীন হাড়-কাঠের বয়স পড়তে শেখায়।
দেখতে কেমন

কঠিন অধাতু, রূপে অবিশ্বাস্য বৈচিত্র্যে ভরা: ঝিকমিকে রঙহীন হীরা, কালো পাপড়ির মতো পিচ্ছিল গ্রাফাইট, কালচে কাঠকয়লার গুঁড়ো, আর ন্যানো-মাপের গোলক ও নল। সাধারণ শিখায় এর গলন নেই — বায়ুমণ্ডলীয় চাপে তরল অবস্থাটাই এড়িয়ে ৩,৬০০° সেলসিয়াসের ওপরে সরাসরি বাষ্প হয়ে যায়।

বাস্তব জগৎ

কোথায় দেখা মেলে

✦ ব্যবহার

  • কোক — অপদ্রব্য ঝরিয়ে নেওয়া কয়লা — ব্লাস্ট চুল্লিতে আয়রন আকরিকের কাছ থেকে অক্সিজেন কেড়ে নেয়; ঢাকার প্রতিটি ইস্পাতের রডসহ বিশ্বের সব ইস্পাতের যাত্রা কোক দিয়েই।
  • গ্রাফাইট: প্রতিটি পেনসিলের ভেতরের “লেড”, আর্ক-চুল্লি ও শুকনো সেলের তড়িৎদ্বার, এমনকি বহু পারমাণবিক চুল্লির কেন্দ্রে নিউট্রন ধীর করা মন্দক।
  • অ্যাক্টিভেটেড কার্বন — ঘরের পানি বিশুদ্ধকারীর কার্ত্রিজের কালো দানা — পানের পানি থেকে ক্লোরিন, কীটনাশক আর দুর্গন্ধ শুষে নেয়।
  • হীরার ডগা লাগানো ড্রিল-বিট, কাটারি ও পলিশিং পেস্টে — কাচ, পাথর, কংক্রিট কাটতে; আর বিমান, রেসিং সাইকেল ও ব্যাডমিন্টন র‍্যাকেটের কার্বন ফাইবার কাঠামো — ইস্পাতকে ওজনে পিছনে ফেলে শক্তিতে এগিয়ে।

◍ দৈনন্দিন উদাহরণ

  • জ্যামিতির বাক্সের পেনসিল লেখে গ্রাফিনের স্তর থেকে — খাঁটি কার্বন পাতায় পিছলে জমে।
  • চিনি, চাল, ডাল, মাছ, রান্নার তেল — সবই কার্বন-ভিত্তিক খাদ্য; হজম শুধু সেই কার্বন-কঙ্কালগুলো নতুন করে সাজিয়ে দেয়।
  • অ্যালুমিনিয়াম ডেগচির তলদেশে জমা কালি, বা ফুটপাতের কাবাবের নিচে জ্বলা কাঠকয়লার গরম কয়লা — চারপাশে কার্বনেরই দাপট।
ইতিহাস

ইতিহাস ও নাম

কার্বনের কোনো একক আবিষ্কারক নেই — রসায়নের নামকরণের অনেক আগে থেকেই কাঠকয়লা, কালি আর অনলের ধোঁয়া মানুষের নিত্যসঙ্গী ছিল। খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতকেই এই উপমহাদেশের মানুষ হীরার মূল্য জানত, আর ষোড়শ শতক থেকে দাগ কাটতে ব্যবহৃত হচ্ছে গ্রাফাইট। ১৭৭২ সালে আঁতোয়ান লাভোয়াজিয়ে জ্বালানি-লেন্সের সাহায্যে একটি হীরা পুড়িয়ে দেখান, ওটা থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড ছাড়া আর কিছুই বেরোয় না — অর্থাৎ হীরা আর কাঠকয়লা একই মৌল, এমন নীরব প্রমাণ সেটি — আর ১৭৮৯ সালে তাঁর ঐতিহাসিক মৌল-তালিকায় কার্বনের নাম লেখেন। নামটি সোজা এসেছে ল্যাটিন carbo থেকে — অর্থ “কাঠকয়লা”।

নামের উৎসল্যাটিন carbo, অর্থ “কাঠকয়লা” — মৌল কী জানার অনেক আগে থেকেই মানুষ যে মৌলটি চিনে রেখেছিল।
পাশের মৌল

কাছাকাছি মৌল

সারণিতে এই মৌলের ঠিক পাশে বসে থাকা মৌলগুলো — প্রায়ই রসায়নে সবচেয়ে কাছের আত্মীয়।