
নাইট্রোজেন (N)
“তোমার টানা নেওয়া প্রতি পাঁচটি অণুর প্রায় চারটিই এই কুখ্যাত অলস গ্যাস — তবু সারের বস্তা থেকে চিপসের প্যাকেট, সবখানেই নাইট্রোজেনের যত নাম-কামাই।”
ইলেকট্রনগুলো কীভাবে সাজানো
আউফবাউ নীতি থেকে গণনা করা হয়, বাস্তবের পরিচিত ব্যতিক্রমগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য হয়।
নোটগুলো
বৈশিষ্ট্য
- N≡N ত্রিবন্ধনই রসায়নে সদৃশ দুই পরমাণুর সবচেয়ে শক্ত বন্ধন — ভাঙতে এত বড় শক্তি লাগে যে নাইট্রোজেন না নিজে জ্বলে, না কোনো কিছু ক্ষয় করে, না শ্বাস-প্রশ্বাসে সাহায্য করে।
- কৃষির চিরকালীন বিস্ময়: ফসল রোজ নাইট্রোজেনে গা ভিজিয়েও নাইট্রোজেনের অভাবে নাস্তানাবুদ হতে পারে, কারণ কোনো গাছই ভাঙতে পারে না — পারে কেবল বজ্রপাত, কারখানার চুল্লি আর মাটির কিছু ব্যাকটেরিয়া।
- 1s² 2s² 2p³ বিন্যাস দেয় পাঁচটি যোজ্যতা ইলেকট্রন, আর অর্ধ-পূর্ণ হয়ে যাওয়া 2p খোলটি হয় বাড়তি স্থিতিশীল — তাই অ্যামোনিয়ার () মতো জায়গায় নাইট্রোজেন বরাবরই ঠিক তিনটি বন্ধন গড়ে।
- −১৯৬° সেলসিয়াসের তরল নাইট্রোজেন যা ছোঁয়, সেকেন্ডেই ভঙুর কাচের মতো জমিয়ে ফেলে, সঙ্গে নিজেরই সাদা কুয়াশার নাটকীয় আস্তরণ নিয়ে আসে।
বর্ণহীন, গন্ধহীন, স্বাদহীন গ্যাস, বাতাসের ৭৮ শতাংশই এটি; চলে সবসময় অণু হয়ে। দুটি পরমাণু একে অন্যকে ত্রিবন্ধনে জড়িয়ে ধরে — সদৃশ পরমাণুর মধ্যে সবচেয়ে শক্ত বন্ধন — আর গ্যাসটি এতটাই নিষ্ক্রিয় হওয়ার আসল রহস্যও ঠিক এখানেই। −১৯৬° সেলসিয়াসে জমে ওঠে ফ্যাকাশে, কুয়াশায় মোড়া এক তরল, যা কক্ষ তাপমাত্রাতেই দাপাদাপি করে ফুটতে থাকে।
কোথায় দেখা মেলে
✦ ব্যবহার
- সার: হেবার পদ্ধতিতে নাইট্রোজেনের সঙ্গে হাইড্রোজেন মিলিয়ে অ্যামোনিয়া, তারপর ইউরিয়া — বাংলাদেশের কৃষক ধানখেতে যে নীল ইউরিয়ার বস্তা টানতে টানতে যান, আসলে সেটা বাতাসই, লবণ হয়ে জমানো।
- খাদ্য মোড়ক: চিপস-নাস্তার প্যাকেটে শুকনো নাইট্রোজেন ভর করা হয়, যাতে অক্সিজেন আর জলীয় বাষ্পের জায়গাই থাকে না — এ কারণেই প্যাকেট ফেঁপা থাকে, খসখসে ভাবটা মাসের পর মাস বাঁচে।
- তরল নাইট্রোজেন: খাবার, রক্ত আর টিকার মুহূর্তে-হিমায়ন; ক্লিনিকে আঁচিল জমিয়ে ফেলা; আর −১৯৬° সেলসিয়াসের চমকে দেওয়া পদার্থবিজ্ঞানের প্রদর্শনী।
- নিষ্ক্রিয় আস্তরণ: তেল-ট্যাংকার, জ্বালানি ট্যাংক ও ট্রান্সফরমারের মাথায় নাইট্রোজেনের প্রলেপ দিয়ে আগুনের বীজ গুটিয়ে দেওয়া হয়; ইলেকট্রনিক্স কারখানাতেও এটি পরিষ্কার-শুষ্ক পরিবেশ হিসেবে কাজ করে।
◍ দৈনন্দিন উদাহরণ
- প্রতিটি নিঃশ্বাসে: তুমি যা টেনে নিলে, তার প্রতি পাঁচ অণুর প্রায় চারটিই নাইট্রোজেন — ফুসফুস পেরিয়ে কোনো বদল ছাড়াই আবার বেরিয়ে যায়।
- কোণার দোকানের বালিশের মতো ফাঁপা চিপসের প্যাকেট ভরা খাঁটি নাইট্রোজেন — একবার চেপে দেখো, বুকের হাতেই রসায়ন টের পাবে।
- বাংলাদেশের সারের দোকানের ইউরিয়ার বস্তা — নিজেই বাতাস, স্থির করে বাঁধা, ধানখেতের পথে রওনা।
ইতিহাস ও নাম
১৭৭২ সালে স্কটিশ চিকিৎসক ড্যানিয়েল রাদারফোর্ড — তখনো ছাত্রই — বদ্ধ বাতাসের নমুনা থেকে অক্সিজেন আর “স্থির বায়ু” সরিয়ে নিয়ে যা পান, তা আগুন ধরায় না, একটি ইঁদুরও বাঁচায় না — নাম দেন “বিষাক্ত বায়ু”। প্রায় একই সময়ে শেলে, ক্যাভেন্ডিশ ও প্রিস্টলিও একই সিদ্ধান্তের কাছাকাছি ঘুরছিলেন। লাভোয়াজিয়ে গ্যাসটির প্রাণ-ধরে-না-রাখার ধৈর্য দেখে ভুল করে নাম দেন অ্যাজোত — “প্রাণহীন” — যে নাম ফরাসি রসায়নবিদেরা আজও ব্যবহার করেন। ইংরেজি নামটি এলো ১৭৯০ সালে, জাঁ-আঁতোয়া শাপ্তালের হাত ধরে: নাইট্রোজেন — “নাইটার-গঠনকারী”, এই মৌল যে নাইটার (শোরা-জাতীয় লবণ) বানায় বলে।
কাছাকাছি মৌল
সারণিতে এই মৌলের ঠিক পাশে বসে থাকা মৌলগুলো — প্রায়ই রসায়নে সবচেয়ে কাছের আত্মীয়।
