
বোরন (B)
“কঠিন সেই উপধাতু — লুকিয়ে আছে গবেষণাগারের বিকারে, ওষুধের দোকানের চোখ ধোয়ার শিশিতে, এমনকি পৃথিবীর শক্তিশালী চুম্বকেও।”
ইলেকট্রনগুলো কীভাবে সাজানো
আউফবাউ নীতি থেকে গণনা করা হয়, বাস্তবের পরিচিত ব্যতিক্রমগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য হয়।
নোটগুলো
বৈশিষ্ট্য
- প্রকৃত উপধাতু: চেহারায় ম্লান অধাতুর মতো হলেও সামান্য বিদ্যুৎ পরিবহন করে, উচ্চ তাপমাত্রায় অর্ধপরিবাহী হয়ে ওঠে — ধাতু শেষ আর অধাতু শুরু হয় যে সীমানায়, তার পাহারাদার।
- বাইরের খোলের 2s² 2p¹ বিন্যাসে সাধারণ বন্ধন সামলানোর মতো ইলেকট্রনই থাকে কম, তাই বোরন নিয়ম-ভাঙা ইলেকট্রন-ঘাটতিযুক্ত বন্ধন আর খাঁচার মতো গুচ্ছ-অণু বানায়।
- সমস্থানিক বোরন-১০ মুক্ত নিউট্রন গিলে ফেলে প্রায় সবার চেয়ে ভালোভাবে — এই গুণেই পারমাণবিক চুল্লির নিয়ন্ত্রণ-দণ্ডের প্রধান উপাদান এটি।
- উদ্ভিদের অপরিহার্য অণু-পুষ্টি: সামান্য বোরন না পেলেই ফসলের শর্করা পরিবহন আর নতুন কোষ-প্রাচীর গঠন থেমে যায় — বাংলাদেশের বহু মাটিতে প্রতি মৌসুমেই এই ঘাটতি দেখা দেয়।
কালচে-বাদামি, আবছা ধাতব-চেহারার গুঁড়ো বা গাঢ় স্ফটিক — কার্বনের পরেই সবচেয়ে কঠিন মৌলদের একটি — গলনাঙ্ক প্রায় ২,১০০° সেলসিয়াস। প্রকৃতিতে মুক্ত অবস্থায় কখনোই পাওয়া যায় না: প্রতিটি পরমাণুই বোরাক্সের মতো বোরেট খনিজে বন্দি হয়ে থাকে।
কোথায় দেখা মেলে
✦ ব্যবহার
- বোরোসিলিকেট কাচ (বিখ্যাত ব্র্যান্ড Pyrex) — গবেষণাগারের ফ্লাস্ক, বুরেট আর রান্নার পাত্রে; বোরন কাচের জাল এমন শক্ত করে বোনে যে হঠাৎ গরম-ঠান্ডায় তা আর ফাটে না।
- বোরিক অ্যাসিড ও বোরাক্স — বাংলাদেশের ফার্মেসিগুলোতে রাখা কোমল অ্যান্টিসেপটিক চোখ ধোয়ার ওষুধ, আবার ঘরে পরিষ্কারক ও জীবাণুনাশক হিসেবেও পুরোনো সঙ্গী।
- সরিষা, বাদাম, গম ও তুলার জন্য বোরন সার — বাংলাদেশের বহু জেলার বোরন-স্বল্প মাটিতে নিয়মিত ও বাস্তব কৃষি-প্রেসক্রিপশন।
- চুল্লির নিয়ন্ত্রণ-দণ্ড ও বিকিরণ-ঢালে নিউট্রন-শোষক বোরন কার্বাইড; আর ইয়ারফোন বা বায়ু-টারবাইনের রেকর্ড-শক্ত নিওডিমিয়াম চুম্বকের গায়েও অবদান এক চিমটি বোরনের।
◍ দৈনন্দিন উদাহরণ
- বাংলাদেশের স্কুল-কলেজের গবেষণাগারের মজবুত কাচের বিকার-ফ্লাস্ক — বোরোসিলিকেট, বোরনের শক্তিতেই টিকসই।
- কোণার ওষুধের দোকানের বোরিক অ্যাসিডের শিশি — হালকা গরম পানিতে গুলে চোখ ধোয়ার শান্তকর কাজে।
- সরিষা বা বাদাম খেতে ফাঁপা, ফেটে যাওয়া ডাঁটাপাতা — মাটিতে বোরন-না থাকার চেনা ও ক্লাসিক লক্ষণ।
ইতিহাস ও নাম
বোরনের যৌগ কিন্তু অতি প্রাচীন — তিব্বতের হ্রদ-তলির বোরাক্স শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বাণিজ্যপথ ধরে এসে মৃৎশিল্পে প্রলেপ দিত ও ধাতু গলাতে সাহায্য করত — তবু মৌলটি নিজে ছিল অদৃশ্য। ১৮০৮ সালে, প্রায় একই সময়ে, লন্ডনের হামফ্রি ডেভি এবং ফ্রান্সের গে-লুসাক ও থেনার বোরিক অ্যাসিডের সঙ্গে পটাশিয়াম গরম করে পান গাঢ়, অশুদ্ধ এক কঠিন পদার্থ — বোরনের প্রথম দর্শন। খাঁটি বোরন মিললো বহু পরে, ১৮৯২ সালে, অঁরি মোয়াসাঁর বৈদ্যুতিক চুল্লিতে। নামটিতে বোরাক্সের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে কার্বনের -on প্রত্যয় — দুই মৌলের রাসায়নিক আত্মীয়তার নীরব স্বীকারোক্তি।
কাছাকাছি মৌল
সারণিতে এই মৌলের ঠিক পাশে বসে থাকা মৌলগুলো — প্রায়ই রসায়নে সবচেয়ে কাছের আত্মীয়।
