৭৯Auসোনা196.97
সোনা মৌলের প্রকৃত নমুনা
প্রকৃত নমুনার ছবি
স্থানান্তর ধাতু

সোনা (Au)

“যে ধাতু কোনোদিন মলিন হয় না — তুতানখামুনের ৩৩০০ বছরের পুরোনো মুখোশ যেমন ঝকঝকে, কনের বালাও সারাজীবন তেমনই থাকবে।”

পারমাণবিক সংখ্যা৭৯
পারমাণবিক ভর196.97
গ্রুপ১১
পর্যায়৬
ব্লকD-block
অবস্থাকঠিন
ইলেকট্রন কাঠামো

ইলেকট্রনগুলো কীভাবে সাজানো

Au
[Xe] 4f¹⁴ 5d¹⁰ 6s¹
শেল ১
২e⁻
শেল ২
৮e⁻
শেল ৩
১৮e⁻
শেল ৪
৩২e⁻
শেল ৫
১৮e⁻
শেল ৬
১e⁻

আউফবাউ নীতি থেকে গণনা করা হয়, বাস্তবের পরিচিত ব্যতিক্রমগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য হয়।

স্টাডি

নোটগুলো

মৌলটি সম্পর্কে

বৈশিষ্ট্য

  • প্রায় নিখুঁতভাবে নিষ্ক্রিয়: অক্সিজেন, পানি ও একক অ্যাসিড কেউই একে স্পর্শ করে না — শুধু অ্যাকোয়া রেজিয়া (৩:১ অনুপাতে হাইড্রোক্লোরিক ও নাইট্রিক অ্যাসিড) একে গলাতে পারে, তাই তার নাম “রাজকীয় জল”।
  • নরমতা মাপা হয় ক্যারেটে: খাঁটি সোনা ২৪ ক্যারেট; গয়নাকাররা সংকর বানিয়ে শক্ত করেন — বাংলাদেশের ২১–২২ ক্যারেটের বিয়ের সোনার ঈষৎ লালচে আভা তার তামা-সঙ্গীরই স্বাক্ষর।
  • আপেক্ষিকতার ধাতু: দ্রুতগামী ভেতরের ইলেকট্রন 6s অরবিটাল সঙ্কুচিত করে 5d-কে ফুলিয়ে দেয় — আইনস্টাইনের পদার্থবিজ্ঞানের এই প্রভাবই নীল আলো শোষণের পরিসর ঠিক করে দেয়, তাই ফিরে আসে বাকি সোনালি আভা।
  • ঘনত্ব ১৯.৩ গ্রাম/ঘন সেন্টিমিটার, আর নমনীয়তা-সর্পিলতা দুই বিভাগেরই চ্যাম্পিয়ান — এক গ্রাম টেনে দুই কিলোমিটারের বেশি তার হয়ে যায়, আর কোনো ধাতুর এমন কীর্তি নেই।
দেখতে কেমন

গভীর হলুদ, ভারী, নরম ধাতু — নিজস্ব রঙ নিয়ে জন্মানো বিরল ধাতুদের একটি (আর দুটি হলো তামা ও সিজিয়াম), কারণ প্রায় সব ধাতুই তো রূপালি-সাদা। নমনীয়তায় চ্যাম্পিয়ান: এক গ্রাম সোনা পিটিয়ে এক বর্গমিটার পাত বানানো যায়, আর সোনার পাত এতই পাতলা হয় যে তার ভেতর দিয়ে আলো সবুজ হয়ে উঠে আসে।

বাস্তব জগৎ

কোথায় দেখা মেলে

✦ ব্যবহার

  • গয়না ও বিয়ের সম্পদ: বাংলাদেশে কনের ২১–২২ ক্যারেটের বালা-টিকলি কেনা হয় ভরি হিসে মেপে — তা তার প্রথাগত স্ত্রীধন, এমন সঞ্চয় যা মরে না, পচে না, পোড়ে না।
  • ইলেকট্রনিক্স: প্রতিটি স্মার্টফোন ও কম্পিউটারের ভেতরের বন্ডিং তার আর কানেক্টরের পিনে সোনা — সোনার সংযোগ কখনো জারিত হয় না, তাই রোধও বাড়ায় না।
  • চিকিৎসা ও দন্তচিকিৎসা: সোনার ক্রাউন দশকের পর দশক চিবানো সইয়ে নেয়; আর র‍্যাপিড টেস্টের স্ট্রিপে ফলাফলের রেখা রাঙায় সোনার ক্ষুদ্র কণা — প্রেগন্যান্সি কিট থেকে কোভিড অ্যান্টিজেন পরীক্ষা পর্যন্ত।
  • জাতীয় রিজার্ভ: বাংলাদেশ ব্যাংকসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সংকট-প্রতিরোধী ভিত্তি হিসেবে সোনার বার মজুত রাখে; আর অলিম্পিকের “সোনালি” মেডেল আসলে রুপোর তৈরি — গায়ে নিয়ম অনুযায়ী অন্তত ৬ গ্রাম খাঁটি সোনার প্রলেপ।

◍ দৈনন্দিন উদাহরণ

  • বাংলাদেশের বিয়েবাড়িতে কনের বালা-টিকলি হয় ২১–২২ ক্যারেটের সোনা; হিসাব মেটানোর আগে গয়নাকার তা মেপে দেখান ভরিতে (১ ভরি = ১১.৬৬ গ্রাম), সাক্ষী থাকেন বয়স্করা।
  • প্রতিটি স্মার্টফোনের সার্কিটে থাকে প্রায় ০.০৩ গ্রাম সোনা — একটা হাতে তুচ্ছ, কিন্তু কোটি কোটি ফোন জুড়লে সেটাই ছোট এক খনির ফলন।
  • শত শত বছর মাটির নিচে থেকেও মুদ্রা-ভাণ্ডার আর দেবমূর্তি উঠে আসে ঝকঝকে — সময়কে অপেক্ষায় রাখতে পারে শুধু সোনা, প্রত্নতাত্ত্বিকদের কাছে এটাই প্রমাণ।
ইতিহাস

ইতিহাস ও নাম

সোনার আলাদা কোনো আবিষ্কারক দরকার হয়নি: কোয়ার্টজের শিরা আর নদীর নুড়িতে ঝিকমিক করা খাঁটি সোনা প্রকৃতিই এনে দিয়েছে, আর অন্তত ছয় হাজার বছর আগে থেকেই কারিগররা তা পিটিয়ে অলংকার গড়ছে — তুতানখামুনের সমাধি-মুখোশের বয়স তিন হাজার তিনশ বছরের ওপরে, তবু রং পালটায়নি। সাম্রাজ্য যতই বদলাক — ফারাওয়ের মিশর থেকে স্বর্ণমুদ্রা ঢালা বাংলার সুলতানি আমল পর্যন্ত — সোনাই সঞ্চিত সম্পদের প্রতিশব্দ হয়ে দাঁড়িয়েছে। Gold নামটি নেমে এসেছে প্রাচীন জার্মানিক “হলুদ”-অর্থের শব্দমূল থেকে; কিন্তু রাসায়নিক চিহ্ন Au নেওয়া হয়েছে লাতিন aurum থেকে — aurora (ভোরের আলো) শব্দের আত্মীয়, অর্থাৎ ভোরের দ্যুতির ধাতু।

নামের উৎসইংরেজি gold এসেছে জার্মানিক gulþa- (হলুদ) থেকে; চিহ্ন Au লাতিন aurum থেকে — aurora বা ভোরের আলোর আত্মীয় শব্দ।
পাশের মৌল

কাছাকাছি মৌল

সারণিতে এই মৌলের ঠিক পাশে বসে থাকা মৌলগুলো — প্রায়ই রসায়নে সবচেয়ে কাছের আত্মীয়।